NarayanganjToday

শিরোনাম

দেওভোগে অপ্রতিরোধ্য তুহিন বাহিনী, আতঙ্কে এলাকাবাসী


দেওভোগে অপ্রতিরোধ্য তুহিন বাহিনী, আতঙ্কে এলাকাবাসী

পশ্চিম দেওভোগের হাসেমবাগ ও পশ্চিম নগর এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। যত দিন যাচ্ছে, ক্রমে যেন এ এলাকা আরও ভয়ঙ্কর ক্রাইম জোন হয়ে উঠছে। সব ধরনের অপরাধ কর্মকা- হয়ে থাকে এখানে। 

এলাকার সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হত্যা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরণ, মাদকব্যবসা সহ সব ধরনের অপকর্মে লিপ্ত। এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা থাকলেও এলাকায় প্রকাশ্যেই তারা ঘুরে বেড়ায় বলে অভিযোগ রয়েছে। কোন এক অদৃশ্য শক্তির বলে দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে তারা।
 
এলাকাবাসী জানান, ওই সকল এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিশেষ করে ইয়াবা ব্যবসার বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে ভয়ংকর কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এ কিশোর গ্যাংয়ের মূল হোতা একাধীক হত্যা মামলার আসামী তুহিন। তুহিনের সকল অপকর্মের সক্রিয় সদস্যরা হলো, বোতলা, আল আমিন, পিয়াস, সাদ্দাম, বুইট্টা মিলন, রফিকুল, হৃদয়, বডি সজিব, সোহেল ও দাড়িওয়ালা মানিক সহ আরো অনেকে। এলাকায় তুহিন বাহিনী হিসেবে এ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীরা পরিচিত। এদের মধ্যে বোতলা, আল আমিন, পিয়াস, সাদ্দাম হলো মাদকের মূল ডিলার অর্থ্যাৎ পাইকারি বিক্রেতা। তাদের কাছ মাদক বিশেষ করে ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে তা প্রতিটি এলাকার ছড়িয়ে দিচ্ছে সঙ্গি সাথিরা।
 
এলাকাবাসী আরও জানান, আগে প্রতি মোড়ে মোড়ে গোপনে ইয়াবার ব্যবসা চললেও এখন প্রকাশ্যেই এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ওই সকল চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে তারা মাদক ব্যবসার জন্য হাসেমবাগ থেকে সরে এসে পশ্চিম নগরকে জোন হিসেবে ব্যবহার করছে। ওই সকল মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ব্যবসার জন্য পশ্চিম নগরের প্রতিটি চায়ের দোকনকে বেছে নিয়েছে। যেখানে চা খেতে চলছে মাদক ব্যবসা। এসব কথা এলাকার সবাই জানে। এ সকল মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে মুক্তির জন্য ফতুল্লা থানা পুলিশের জোরালো ভূমিকা কামনাও করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
 
সম্প্রতি দেওভোগের হাসেমবাগে শাকিল হত্যার মামলার প্রধান আসামী তুহিন। গত ২৭ জুলাই শনিবার রাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাকিল নামে নিরিহ ওই যুবককে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে সন্ত্রাসী তুহিন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। ওই ঘটনায় আরও ছয়জনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে তুহিনকে প্রধান আসামী করে ফতুল্লা থানায় একটি মামলা করে নিহত শাকিলের বড় ভাই সাঈদ হোসেন।
 
এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি রাতে দেওভোগ মাদরাসা এলাকায় আলমগীরকেও কুপিয়ে হত্যা করে ওই সন্ত্রাসীবাহিনীরা। নিহত আলমগীর মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ি থানার দশলং এলাকার লাল মিয়ার ছেলে ছিলো। সে দেওভোগ মাদরাসা এলাকার নুরু মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতো।
 
এছাড়াও ওই সন্ত্রাসীদের হাতে দেওভোগ নাগবাড়িতে নির্মমভাবে খুন হয় হৃদয় হোসেন বাবু নামে আরও এক যুবক। এত খুন করেও ওই সন্ত্রাসীরা এখনো বহাল তবিয়তে রাজত্ব করে চলছে এলাকায়। ফলে আতঙ্কে দিন কাটছে এলাকার সাধারন মানুষের।

বর্তমানে ওই এলাকার সাধারন মানুষের নিরাপত্তা বরং দিনকে দিন নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, শংকা, ভীতি তাদের জীবনকে ক্রমাগত গ্রাস করছে। খুন, ছিনতাই, রাহাজানি, চাঁদাবাজি, দখলবাজির মতো মারাত্মক অপরাধ অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাড়ছে। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন কোনোভাবেই সন্ত্রাসী, খুনী, ছিনতাইকারী রাহাজানি, চাঁদাবাজদের সাথে এঁটে উঠছে না।

পুলিশ বলছে, অপরাধ দমন ও অপরাধী গ্রেফতারে অভিযান চলছে, গ্রেফতারও হচ্ছে অনেকে, কিন্তু পরিস্থিতির কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটছে না। যেখানকার কোন মানুষেরই যেন রাস্তায় বেরিয়ে নিরাপদে কোথাও যাওয়া ও ঘরে ফিরে আসার উপায় নেই। যে কোন সময় ওই সকল সন্ত্রাসীরা পথরোধ করে সর্বস্ব কেড়ে নিতে পাওে, সেই ভয়েই দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী। তাই অতিদ্রুত তুহিন বাহিনীকে গ্রেফতারে ফতুল্লা থানা পুলিশের ঘন ঘন অভিযান চান এলাকাবাসী। ওই সকল সন্ত্রাসীরা যেন কোন অবস্থাতেই পাড় পেয়ে না যায়, সেজন্য পুলিশ প্রশাসনের জোরালো ভূমিকাও আশা করছেন তারা।

স্থানীয় এলাকাবাসীর মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে জেলা পুলিশ প্রশাসনের কাছে আরও একটি বড় দাবি, অতিদ্রুত সেখানে যেন একটি পুলিশ ক্যাম্প কিংবা ফাড়ি করা হয়। এলাকাবাসীর বিশ্বাস এখানে একটি পুলিশ ফাড়ি থাকলে হয়তো, এখানে অপরাধীদের সংখ্যা কমে যাবে। নিরাপদে থাকবে এখানকার সাধারন মানুষগুলো।

উপরে