NarayanganjToday

শিরোনাম

ডাক্তারের ভুলে প্রসূতির মৃত্যু, আপস করতে সক্রিয় দালাল চক্র


ডাক্তারের ভুলে প্রসূতির মৃত্যু, আপস করতে সক্রিয় দালাল চক্র

সোনারগাঁয়ে প্রসূতি অমান্তিকার পেটে গজ রেখে সেলাই করার কারণে মৃত্যুর দুই দিনেও মামলা গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে, সোনারগাঁ থানার ওসি এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ওসি মনিরুজ্জামানের দাবি, নিহতের স্বামী এমন কোনো অভিযোগ দেয়নি। তবে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভাঙচুরের একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। কিন্তু মামলা করতে না চেয়ে তারা উভয় পক্ষ আপস মিমাংসার চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে অমান্তিকার স্বামী পিন্টু মিয়া জানান আমি মামলার জন্য থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সমঝোতার চেষ্টা কে বা কারা করছে তা আমার জানা নেই।

এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে পিন্টু মিয়ার স্ত্রী অমান্তিকার প্রসব বেদনা উঠলে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তার সোনারগাঁ শপিং কমপ্লেক্সের ৩য় তলায় সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতালে প্রসূতিকে নিয়ে আসা হয়। এখানে গাইনি ডাক্তার নুরজাহান সন্ধ্যা ৬ টার দিকে তার সিজার করেন। এসময় অমান্তিকা একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। কিন্তু এরপরই ঘটে বিপত্তি। আরেকটি অপারেশন আছে জানিয়ে ডাক্তার তাড়াহুড়ো করে প্রসূতির পেটে গজ রেখেই নার্সকে সেলাই করার নির্দেশ দিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

এদিকে, রাত বাড়ার সাথে সাথে প্রসূতি অমান্তিকার শারীরিক অবস্থান অবনতি হয়। শুরু হয় পেট ব্যথা। সাথে বমিও করেন তিনি। পরে হাসপাতালের নার্সরা ডাক্তার নূর জাহানকে বিষয়টি জানালে তিনি ৭ সেপ্টেম্বর সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসতে বলেন। এখানে অমান্তিকাকে আরও দু দফা অপারেশন করেন ডাক্তার নূর জাহান। কিন্তু এরপরও প্রসূতির অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখানে এদিন রাতেই তাকে ভর্তি করানো হয়। পরে চিকিৎসাধিন অবস্থায় ৯ সেপ্টেম্বর সকালে তিনি মারা যান।

অপরদিকে অমান্তিকার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতালে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

এদিকে অমান্তিকার স্বামী পিন্টু মিয়া তার খালু আরিফ ও মামা ফারুকের মাধ্যমে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অভিযোগ দায়েরের দায়িত্ব দেন। কিন্তু ঘটনার দুদিনেও মামলা নেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি জানা। তবে, কী কারণে মামলা নিচ্ছে না সেটি তিনি জানেন না।

অপরদিকে একটি সূত্র জানায়, অমান্তিকার মৃত্যুর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে একটি পক্ষ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা বিষয়টি যাতে মামলায় রূপ না নেয় সে জন্য দৌঁড়ঝাঁপ করছেন। এবং বিষয়টি আপস মিমাংসার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

অমান্তিকার স্বামী পিন্টু মিয়া জানান, আমার স্ত্রী ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে আমি এ ডাক্তারের শাস্তি চাই। আমি টাকা পয়সা চাইনা, যারা আমার সন্তানটাকে এতিম করেছে তাদের শাস্তি চাই। পুলিশ যদি মামলা না নেয়ে আমি আদালতে গিয়ে মামলা করবো।

এদিকে এ প্রসঙ্গে সোনারগাঁ থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান নারায়ণগঞ্জ টুডে’কে বলেন, এ ঘটনায় প্রসূতির পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। তবে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগ দিয়েছে। তারা এ-ও বলেছে, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আপস মিমাংসার চেষ্টা চলছে। তাই এখনই যাতে মামলা রুজু না করা হয়।

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে