NarayanganjToday

শিরোনাম

স্ত্রীর মান ভাঙাতে এসে শ্যালিকা ও তার দুই সন্তানকে জবাই করে দুলাভাই


স্ত্রীর মান ভাঙাতে এসে শ্যালিকা ও তার দুই সন্তানকে জবাই করে দুলাভাই

ঘরজুড়ে ছড়িয়ে আছে রক্ত। যেন কিছুক্ষণ আগে রক্তের বন্যা বয়ে গিয়েছিলো এখানে। রক্তের উপর পরে আছে তিনটি মরদেহ। এর একটি মা অপর দুটি ছোট ছোট দুই কন্যাশিশুর। তাদের পাশেই পড়ে আছে সব থেকে ছোট্ট শিশুটির খেলনার পতুলটি।

এছাড়াও আরেকজন শিশুকেও কোপানো হয়েছিলো। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় সে। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নৃশংস ওই ঘটনাটি ঘটেছে সিদ্ধিরগঞ্জের সিআইখোলা এলাকার সপ্তম তলার ষষ্ঠ তলার ফ্ল্যাটে। পুলিশ বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তাদের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

তারা হলেন, নাজনীন (২৮) এবং তার ৮ বছরের শিশুকন্যা নুসরাত ও ২ বছরের খাদিজা। নাজনীন ওই ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সুমনের স্ত্রী। সে সানারপাড় এলাকার জোনাকি পেট্রোল পাম্পের কর্মচারি। এ ঘটনায় আহত প্রতিবন্ধি মেয়ে সুমাইয়া (১৫)। সে নাজনীনের বড় বোনের মেয়ে।

কে হত্যা করেছে? কারা এই হত্যাকা- সংঘটিত করলো! কাদের সাথে ছিলো ওই ছোট্ট শিশুদের শত্রুতা যে অমন করে জবাই করে হত্যা করলো? এমন প্রশ্ন ছিলো সবার মুখে মুখেই। তবে, শেষতক দুপুরের দিকে এসব প্রশ্নে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ। তিনি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানালেন হত্যার নেপথ্যের ঘটনা।

তিনি জানিয়েছেন, এই ঘটনায় একজন জড়িত। সেই ঘাতককে আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি। তার নাম আব্বাস। সে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে সকাল ৮ টায় । পুরো ঘটনাটিই পারিবারিক কলহের জের ধরে সংঘটন হয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, আমরা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি, মূলত যে ব্যক্তি ‘ঘাতক’ সে এখানে এসেছিলো তার স্ত্রীর সাথে কথা বলতে। এটি ছিলো তার শ্যালিকার বাড়ি। তার সাথে তার স্ত্রী ঝগড়া করে নিজের প্রতিবন্ধি মেয়েকে নিয়ে এখানে এসে উঠেছিলো। আব্বাসের স্ত্রী গার্মেন্টে চাকরি করে। সকালে সে কাজে চলে গেলে আব্বাস এখানে এসেছিলো তার শ্যালিকার সাথে কথা বলার জন্য।

তিনি বলেন, আব্বাস তার শ্যালিকার সাথে কথাবার্তা বলাল কোনো এক সময়ে ক্ষিপ্র হয়ে উঠে আর তখনই ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকেসহ তার দুই কন্যাকে কুপিয়ে হত্যা করে। এসময় আব্বাস তার নিজের মেয়েকেও কুপিয়েছিলো। তবে, সে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ছিলো এটা প্রাথমিক ভাবে আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছি। কিন্তু কি এমন ঘটলো যে ছোট্ট দুটি শিশুসহ তাদের মাকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করলো ঘাতক। সেটি আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। আশা করছি খুব শিগগিরই ঘাতককে আমরা গ্রেফতার করতে পারবো। এছাড়া সুমাইয়া নামে যে মেয়েটি আহত হয়েছে তার কাছ থেকেও ঘটনাটি জানার চেষ্টা করছি।

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে