NarayanganjToday

শিরোনাম

আবারও নগরীতে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু


আবারও নগরীতে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু

শহরের ডন চেম্বার এলাকায় সেলিনা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহত ওই প্রসূতির নাম খাদিজা (২০)। সে পটুয়াখালীর বলইকাটি এলাকার মৃত আবুল কাশেমের মেয়ে এবং ফতুল্লার পশ্চিম তল্লার দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী।

স্বজনদের অভিযোগ, শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় সিজারিয়ানে ওই রোগীর ডেলিভারির পর ইনজেকশন পোষ করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এরপর রোগীর খিচুনী উঠলেও তাকে অন্য কোথাও রেফার করেননি ডাক্তার। রাতের কোন একসময় রোগীর মৃত্যু ঘটলে ভোর রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণের নির্দেশ দেন ওই গাইনী ডাক্তার। আর গুরুতর এই অভিযোগটি উঠেছে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের গাইনী কনসালটেন্ট ডা. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। এর পূর্বেও একই ঘটনার জন্য সমালোচিত হয়েছেন তিনি। এদিকে রোগী মৃত্যুর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে রোগীর স্বজনদের ভয় দেখিয়ে “না দাবী” পত্রে জোর করে সই করিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আলীনূর শরিফের বিরুদ্ধে।

নিহত খাদিজার স্বজনেরা আরও জানান, খাদিজার প্রসব বেদনা উঠলে শনিবার দুপুরে তাকে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার স্বামী দেলোয়ার। এসময় নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের গাইনী কনসালটেন্ট ডা. জাহাঙ্গীর আলম ভালো চিকিৎসার কথা বলে রোগীর স্বজনদের খানপুর ডনচেম্বারস্থ সেলিনা মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। এদিন রাত পৌনে ১১টায় রোগীকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত সাড়ে ১১টায় অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান ডা. জাহাঙ্গীর আলম। এসময় তার সহযোগী হিসেবে ছিলেন ৩০০ শয্যার আরেক সহকারী চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ আল মাসুম। সিজারে সন্তান প্রসবের পর রোগীকে একটি ব্যথানাশক ইনজেকশন পোষ করেন ডা. জাহাঙ্গীর। এর কিছুক্ষণ পর রোগীর খিচুনী উঠলে ডাক্তারকে জানায় রোগীর স্বজনেরা। তবে বিষয়টি গুরুতর নয় দাবী করে রোগীকে হাসপাতালে রাখার পরামর্শ দেন ডা. জাহাঙ্গীর। তবে ভোর রাতে রোগীর কোন সাড়া না মেলায় পূনরায় বিষয়টি কর্তব্যরত চিকিৎসকদের জানানো হলে তাৎক্ষণিক রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণের নির্দেশ দেন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর রোগীকে মৃত বলে ঘোষনা করে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।

সেলিনা মেমোরিয়ার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আলীনূর শরিফ গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, গতকাল (শনিবার) রাতে সিজারে সন্তান প্রসবের পর রোগীর অবস্থা ভালোই ছিল। তবে ভোর রাতে রোগী হঠাৎ বুকে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করলে ডাক্তারের নির্দেশে আমরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করলে সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে। তবে এ বিষয়ে আমাদের হাসপাতালের কারো কোন সংশ্লিষ্টতা নেই এই মর্মে রোগীর স্বজনেরা একটি লিখিত “না দাবী পত্র” দিয়েছেন।

এবিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায় নি।

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯/এমএ/এনটি

উপরে