NarayanganjToday

শিরোনাম

বন্দরের শীর্ষ সন্ত্রাসী সালু শ্বশুরসহ রিমান্ডে


বন্দরের শীর্ষ সন্ত্রাসী সালু শ্বশুরসহ রিমান্ডে

অস্ত্রসহ আটক শীর্ষ সন্ত্রাসী সালাউদ্দিন সালুসহ তার শ্বশুর গণি মিয়াকে পৃথক দুই মামলায় রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরমধ্যে সালাউদ্দিন সালুকে অস্ত্র মামলায় এবং শ্বশুর গণি মিয়াকে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে শুনানি শেষে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে ওই রায় প্রদান করা হয়।

রিমান্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর আব্দুল হাই। তিনি জানান, সালাউদ্দিন সালুকে অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় এবং গণি মিয়াকে পুলিশের উপর হামলা চালানোর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত উভয়ের একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ বন্দরের বাগবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসী সালাউদ্দিন সালুকে আটক করে। এসময় পুলিশের উপর তার সহযোগিরা হামলা চালালে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়ছে নাদিম নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়। এই ঘটনায় সালু ও তার শ্বশুর গণি মিয়াকে আটক করে পুলিশ।

২২ সেপ্টেম্বর দুপুরের দিকে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বাদী হয়ে বন্দর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। একটি অস্ত্র আইনে। এ মামলায় একমাত্র আসামী করা হয় সালাউদ্দিন সালুকে।

এছাড়াও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলায় সালাউদ্দিন সালুকে এবং তার শ্বশুর গণি মিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন, বিএনপি নেতা আমান সরদারের ছেলে আহম্মদ আলী ও মোহাম্মদ আলী, আব্দুর রাজ্জাক, আলমগীর, ইদ্রিস আলীর ছেলে হোসেন, সোভা মিয়ার ছেলে বাবু ওরফে গালকাটা বাবু, আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে ইমরান, নাদিম (গুলিবিদ্ধ), সালাউদ্দিন সালুর স্ত্রী সালমা আক্তার এবং ফরিদ মিয়ার মেয়ে শিউলি বেগম।

প্রসঙ্গত, সালাউদ্দিন সালু পুলিশের তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সে বন্দরের মদনগঞ্জ এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে এবং ক্রসফায়ারে নিহত মাস্টার দেলুর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ও ক্রসফায়ারে নিহত সন্ত্রাসী পিচ্চি সুমনের ভাতিজা।

সালাউদ্দিন সালু বন্দরের বাগবাড়ি শ্বশুর বাড়ি এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে এখান থেকেই অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। তার রয়েছে একটি বিশাল সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী বাহিনী। তাদের মাধ্যমেই পুরো বন্দরের মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে সে।

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে