NarayanganjToday

শিরোনাম

ফতুল্লার জঙ্গি আস্তানায় শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান সমাপ্ত, নারীসহ আটক ৩


ফতুল্লার জঙ্গি আস্তানায় শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান সমাপ্ত, নারীসহ আটক ৩

ফতুল্লায় জঙ্গি আস্তানার দীর্ঘ অভিযান সমাপ্ত করেছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট সহ আইন শৃঙ্খখলা বাহিনী। এই অভিযানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার তার স্ত্রী ব্যাঙ্ক কর্মকর্তা ও এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে আটক দেখানো হয়েছে। এ ছাড়াও এই বাড়ি থেকে চারটি শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তা নিস্ক্রিয় করা হয়েছে।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টা ৫৮ মিনিটে ওই বাড়ি থেকে প্রথমে একটি বোমা বিস্ফোরণ করে নিস্ক্রিয় করা হয়। পরে ১ টা ১০ মিনিটে, ১ টা ২৪ মিনিটে এবং ২ টা ৯ মিনিটে পরপর তিনটি বোমা বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে নিষ্ক্রিয় করে বিশেষজ্ঞ দল।

আটকরা হলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডিজিএম জয়নাল আবেদীনের বড় ছেলে আহসান উল্লাহ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার ফরিদ উদ্দিন রুমী ও তার স্ত্রী ব্যাঙ্ক কর্মকর্তা জান্নাতুল ফোয়ারা অনু এবং নারায়ণগঞ্জ পলিট্যাকনিক ইন্সটিটিউট এর ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র মিশুক খান মিজান। এরমধ্যে জান্নাতুল ফোয়ারাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করা হয়েছে। অন্যদের এ ঘটনায় গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।

এর আগে রাত দুইটা নাগাদ বাড়িটি ঘিরে রাখে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, সোয়াত ও বোমা ডিসপোজাল ইউনিটসহ ডিএমপির আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি যৌথ বাহিনী।

দুপুর আড়াইটায় বোমা নিষ্ক্রিয়করণের কাজ শেষ হলে অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করে গণমাধ্যম কর্মীদের শেষ ব্রিফ করেন ডিএমপির সহকারি কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম। অভিযান শেষ হলেও বাড়ি দুইটি এখনও পর্যন্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি ও বেস্টনির আওতায় রাখা হয়েছে।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট প্রধান মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, গত রাতে মিজান নামে একজনকে রাজধানী থেকে আটক করার পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফতুল্লার তক্কার মাঠ এলাকার দুইটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে অভিযান শুরু করা হয়। এখান থেকে আটক করা হয় এক নারী সহ তিনজনকে। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি খেলনা বন্দুক, বোমা তৈরির বিপুল পরিমান সরঞ্জাম ও বিস্ফোরক দ্রব্য।

তবে অভিযানের বিষয়টি আচ করতে পেরে বাড়ির মালিক জয়নাল আবেদীন রাতেই আত্মগোপন করেন। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।

মনিরুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি ঢাকায় পাঁচটি জঙ্গি আস্তানা থেকে উদ্ধারকৃত আলামতগুলোর সাথ এই অভিযানে উদ্ধারকৃত এক্সক্লুসিভের মিল রয়েছে। পুলিশকে দুর্বল ও আতংকিত করা সহ পুলিশের উপর জঙ্গিদের হামলার পরিকল্পনা ছিল এখান থেকেই।

তিনি জানান, আটক রুমী, অনু ও রফিককে জিজ্ঞাসাবাদে তারা নব্য জেএমবির সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। একই সাথে তারা জানায়, একই এলাকায় আধা কিলোমিটার ব্যবধানে তাদের আরেকটি পরিত্যক্ত টিনশেড বাড়ি রয়েছে যেখানে গোপনে জেএমবির জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। পাশাপাশি বাড়িটিতে শক্তিশালী বোমা তৈরির ল্যাব আছে এবং ওইখানে বিপুল পরিমান বিস্ফোরক দ্রব্য ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম মজুদ আছে।

পরে তাদের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ি ওই বাড়িতে বোমা বিশেষজ্ঞ দল ও রোবট পাঠিয়ে পর্যবেক্ষণ করে এর সত্যতা পাওয়া যায়। পরে তাদের ওই পরিত্যক্ত বাড়িটিতে কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য বা এক্সক্লুসিভ জাতীয় কিছু থাকতে পারে এই সন্দেহে বোমা ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। বোমা বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে এসে রোবট প্রবেশ করিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ কাজ শুরু করে।

এদিকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযানের ব্যাপারে এলাকাবাসী বলছেন, এই পরিবারের সদস্যরা জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত আছে তা কেউই জানতেন না। তারা উচ্চ শিক্ষিত পরিবার হিসেবেই এলাকায় সুপরিচিত আছেন। তবে নতুন করে জঙ্গি হিসেবে তাদের পরিচয় প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি এলাকাবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তারা।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করা বোমাগুলো খুবই উচ্চমাত্রার শক্তিশালি বিস্ফোরক। তারা ধারণা করছেন, বড় ধরনের কোনো নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা নিয়ে জঙ্গিরা এই আস্তানা গড়ে তুলেছিল।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবদুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যমকে জানান, এ অভিযানে জেলা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও সহায়তা করেছে।

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে