NarayanganjToday

শিরোনাম

বিল্লালের পরিবারকে এখনও ক্ষতিপূরণ দেয়নি ফতুল্লার নোহা ফ্যাশন


বিল্লালের পরিবারকে এখনও ক্ষতিপূরণ দেয়নি ফতুল্লার নোহা ফ্যাশন

ফতুল্লা থানাধীন তক্কারমাঠ এলাকায় নোহা ফ্যাশনের বিদ্যুতের কাজ করতো গিয়েছে ইলেকট্রি মিস্ত্রী বিল্লাল হোসেন। কাজ করা অবস্থায় বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে হঠাৎ প্রায় ৩৭ ফিট উপর থেকে মাটিতে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে খানপুর ৩’শ শয্যা হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার।

এ ঘটনাটি ঘটে গত ৪ অক্টোবর (শুক্রবার) দুপুর আড়াইটায়। দুই দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত ৬ অক্টোবর (রবিবার) সবাইকে কাঁদিয়ে চলে যান তিনি পরপাড়ে। ইলেকট্রি মিস্ত্রী বিল্লাল কায়েমপুর এলাকার আবু তাহেরের ছেলে।

এদিকে বিল্লালের এ মৃত্যুতে একবারে নিঃস্ব হয়ে পড়ে তার পরিবার। পরিবার বলতে বিল্লালের দুই ছেলে সন্তান ও তার স্ত্রী। বড় ছেলে আব্দুল আহাদ (০৯) ও ছোট ছেলে আব্দুল আফবান (০৬), দু’জনেই মাদরাসায় লেখাপড়া করে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলো বিল্লাল। এই দুই সন্তান নিয়ে কিভাবে সংসার চালাবেন, তা ভেবেই দিশেহারা হয়ে পড়ছেন বিল্লালের স্ত্রী আঁখি আক্তার।

স্ত্রী আখি আক্তার বলেন, ওনি (বিল্লাল) ছিলেন আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। সে চলে যাওয়ায় এখন আমরা দিশেহারা। এ অবস্থায় যদি ওই নোহা ফ্যাশন থেকে কিছু ক্ষতিপূরন পাওয়া যেতো, তাহলে দু’সন্তান নিয়ে কোন মতে সংসারটা চালাতে পারতাম। আর তা না হলে, এই সন্তানদের নিয়ে একদম পথে বসতে হবে আমার। এখন ওনারাই (নোহা ফ্যাশন) পারে আমাদের বাঁচাতে।
তবে বিল্লালের পরিবারকে ক্ষতিপূরন দেয়া নিয়ে তালবাহানা শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের বড় ভাই হালিম। তিনি বলেন, আমার ভাই ওই কোম্পানীতে কর্মরত অবস্থায় বিদ্যুৎপৃষ্টে মারা গেছেন। ওই কোম্পানীর মালিকের উচিৎ আমার ভাইয়ের পরিবারকে ক্ষতিপূরন দেয়া। এত বড় কোম্পানী, আমার ভাইয়ের পরিবারকে ক্ষতিপূরন দিলে পরিবারটা বাঁচতে পারে। কিন্তু ওই নোহা ফ্যাশন এটা নিয়ে অনেক তালবাহানা শুরু করেছে।

তিনি বলেন, নোহা ফ্যাশনের ম্যানেজার মহিমের সাথে ক্ষতিপূরনের বিষয়ে কথা হলে তিনি ভালোমন্দ কিছুই বলেন নি। আমার ভাইকে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং তার চিকিৎসার কোন খরচও ওই নোহা ফ্যাশন দেয় নাই। খবরও নেয় নাই। আমরা খুব কষ্ট করে ভাইকে চিকিৎসা করেছি। ‘কিন্তু কোন লাভ হলো না, ভাইকে তো বাঁচাতে পারলাম না’ এই বলেই কেঁদে ফেলেন নিহতের বড় ভাই হালিম। 

তার এবং বিল্লালের স্ত্রী নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, আমরা বহু বলেছি কিন্তু কাজ হচ্ছেনা। তাই আমরা এ বিষয়ে মাননীয় পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ সাহেবের সহযোগীতা চাই। তিনি যেন আমাদের পাশে দাঁড়ান। তার কাছে আমাদের একটাই অনুরোধ, তিনি যেন আমাদের অসহায়ত্বের কথা চিন্তা করে ওই নোহা ফ্যাশন থেকে আমাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে দিয়ে আমাদের পরিবারটাকে বাঁচান।

৮ অক্টোবর, ২০১৯/এমএ/এনটি

উপরে