NarayanganjToday

শিরোনাম

পুলিশের পোশাক পরে সোনার দোকান লুট


পুলিশের পোশাক পরে সোনার দোকান লুট

আড়াইহাজার উপজেলায় নৈশপ্রহরীর হাত পা বেঁধে একটি সোনার দোকানে লুট চালিয়ে একদণ সশস্ত্র ডাকাত। তারা প্রত্যেকেই পুলিশের পোশাক পরিহিত ছিলো। তারা ৯টি সোনার দাকোনের ৯০ ভরি অলংকার, ৭৫ কেজি রুপা ও নগদ টাকাসহ মোবাইল লুটে নেয়।

৭ অক্টোবর দিবাগত রাতে উপজেলার কালাপাগাড়িয়া ইউনিয়নের রাধানগর এলাকায় ওই ডাকাতির ঘটনা গটে। ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৫০-৬০ গজ দূরত্বে পুলিশ ফাঁড়ি।

সোনার দোকানদার উজ্জল জানান, প্রতিদিনের ন্যায় দোকানের কাজ শেষ করে রাতের বেলা দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যাই। গভীর রাতে মার্কেটের নৈশ্যপ্রহরী আব্দুল ও হাশেমের হাত পা বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৩০/৩৫ জনের একটি ডাকাতদল মার্কেটের তিনটি স্বর্ণের দোকান ও একটি মোবাইলের দোকানের তালা ভেঙ্গে ডাকাতি করে। 

এসময় ডাকাতদল তার সোনার দোকান হতে ৭০ ভরি স্বর্ণালংকার, ৪০ কেজি রুপা ও নগদ ৭ লাখ টাকা লুটে নিয়ে যায়। আর সকালে নৈশপ্রহরীদের কাছে জানতে পারি ডাকাতদল পুলিশের পোষাকধারী হয়ে মুখোশ পরে স্পীডবোর্ড দিয়ে এসে ডাকাতি করে আবার একই ভাবে চলে যায়।

তিনি আরও জানান, আমার পাশের মোস্তফার দোকানে ১০ ভরি স্বর্ণ ও ২০ কেজি রুপা, শাহিনের স্বর্ণের দোকান থেকে ১০ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ কেজি রুপা ও মোক্তার হোসেনের মোবাইলের দোকান হতে ২০টি অপো, ১০ স্যামসং ও ১৫/২০ টি অন্যান্য মোবাইল সেট নিয়ে যায়। 

নৈশপ্রহরী হাশেম জানান, পুলিশের পোশাক পড়ে একদল ডাকাত দল অস্ত্র হাতে নিয়ে প্রথমে আমাকে হাত পা বেঁধে মাটিতে ফেলে রাখে। পরে আব্দুলের হাত পা বেঁধে রেখে আমার সামনে ফেলে রাখে। পরে ডাকাতরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কোন শব্দ করতে নিষেধ করে। 

ডাকাতরা আমাদের চোখের সামনে মার্কেটের তিনটি স্বর্ণের দোকান ও একটি মোবাইলের দোকানের তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে। পরে তারা দুটি বস্তা করে সর্বস্ব লুটে নিয়ে যায় এবং স্পীটবোর্ড দিয়ে চলে যায়। তারা সবাই মুখোশধারী ছিলো। কাউকে চেনা যায়নি। 

আড়াইহাজার কালাপাহাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আব্দুল খালেক জানান, ঘটনার সংবাদ পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করা হয়। উপজেলার রাধানগর এলাকার তিনটি স্বর্ণের দোকান ও একটি মোবাইলের দোকানের মালামাল লুটে নিয়ে যায় দূর্বৃত্তরা।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, উপজেলার কালাপাহারিয়ার রাধানগর এলাকায় মার্কেটের দুইজন নৈশপ্রহরীকে হাত পা বেধে তিনটি সোনার দোকান ও একটি মোবাইলের দোকান হতে মালামাল লুটে নিয়ে গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং যাদের দোকানের মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে তাদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
তিনি আরও বলেন, পুলিশের পোশাক পরে ঘটনা ঘটিয়েছে বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছে, আমরা সেই বিষয় নিয়েও তদন্ত করে দেখছি। 

প্রসঙ্গত, এর আগে জাঙ্গালিয়া গ্রামে ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও মামলা কিংবা আসামী গ্রেফতার হয়নি।

৮ অক্টোবর, ২০১৯/এমএ/এনটি

উপরে