NarayanganjToday

শিরোনাম

রাসেল পার্ক রক্ষায় ‘হরতাল’ দিবে নারাণগঞ্জবাসী


রাসেল পার্ক রক্ষায় ‘হরতাল’ দিবে নারাণগঞ্জবাসী

নারায়ণগঞ্জে রেল মন্ত্রী এসেছিলেন ডাবল রেললাইন কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে। এসময়ে সাংবাদিকের প্রশ্নে নজরে আসে শেখ রাসেল পার্ক। এরপরই তিনি সেই পার্কের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। নির্দেশনা পেয়ে জিআরপি থানা পুলিশ সেখানকার কাজ বন্ধ করে দেন এবং আটক করেন ২৩ জন নির্মাণ শ্রমিককে। পরে অবশ্য ২১ জনকে ছেড়ে দিয়ে ২ জনকে আটক দেখিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে মন্ত্রীর নির্দেশে রাসেল পার্কের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শহরে মানববন্ধন, সমাবেশ করেছেন নগরবাসী। ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’র ব্যানারে শহরের রাসেল পার্কের কাছে এই মানববন্ধন করা হয়। তবে, তারা পার্কের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি উল্লেখ করে এই মানববন্ধন করেন।

এদিকে আহুত ওই মানববন্ধন থেকে রাসেল পার্ক রক্ষায় প্রয়োজনে হরতাল দেওয়ারও ঘোষণা দেয়া হয়েছে। একই সাথে জানানো হয়েছে, এই জায়গার জন্য সিটি করপোরেশন ৪০ বারের মতো রেল মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। এই জমি রেলের নয়, জনতার।

এর আগে রাসেল পার্কের কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে রেল মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, ‘আমরা জনগণের জন্য কাজ করছি। রেলের জায়গা যদি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হয় তাহলে কিছু নিয়মকানুন, প্রদ্ধতি আছে, সেসব অনুসরণ করে সবকিছু করা হবে। গায়ের জোরে কোনো কিছু হবে না।’

আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সভাপতি নুরুউদ্দিন আহম্মেদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, এখানে রেলওয়ের বস্তি ছিল, এখানে কি না হতো? সন্ত্রাসীদের বসবাস ছিল, রাজনৈতিক মিছিলের লোক এখান থেকেই যেত।

তিনি বলেন, এই রেলের জায়গার জন্য সিটি করপোরেশন ৪০ বার চিঠি দিয়েছে। এই সম্পত্তি রেলের হতে পারে না, জনগণের সম্পত্তি। এখানে একটি রেলস্টেশন ছিল যা কালের বিবর্তনে শীতলক্ষ্যার পাড়ে চলে যায়। সরকারি কোনো জায়গায় কর্তৃপক্ষ যদি উন্নয়ন কাজ না করতে পারে তাহলে তা আইনগতভাবে হস্তান্তর করতে হবে। রেলে চোরেরা বর্তমানে এই জমি দখল করে বিক্রি করে, লিজ দেয়, চাঁদা নেয়।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন মন্টু, উপদেষ্টা শাহজাহান ভূঁইয়া জুলহাস, উপদেষ্টা ও দৈনিক ইয়াদের সম্পাদক তোফাজ্জাল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাকিদ মোস্তাকিম শিপলু, সাংগঠনিক সম্পাদক রমজানুল রশিদ, প্রতিষ্ঠাতা কমিটির সদস্য মো. সেলিম, বদরুল আলম প্রমূখ।

প্রসঙ্গত, আগে নগরীর দেওভোগ এলাকায় নির্মাণাধীন রাসেল পার্ক রেলওয়ের জমিতে কোনো অনুমতি ছাড়াই দখল করে নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে উল্লেখ করে সদর ও কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থানায় পৃথক দুটি অভিযোগও করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

২৩ অক্টোবর, ২০১৯/এমএ/এনটি

উপরে