NarayanganjToday

শিরোনাম

‘বিশৃঙ্খলাকারী শ্রমিকদের তালিকা তৈরি শুরু হয়েছে’


‘বিশৃঙ্খলাকারী শ্রমিকদের তালিকা তৈরি শুরু হয়েছে’

নারায়ণগঞ্জের শিল্প এলাকার বিশৃঙ্খলাকারী শ্রমিকদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪। তবে ভালো শ্রমিকদের সর্বদা পাশে থেকে সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪ এর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ইন্ডাষ্ট্রিয়াল পুলিশের মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪ এর পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম। নতুন মজুরী কাঠামো ও শ্রমিক ছাটাই সংক্রান্ত বিষয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪ নারায়ণগঞ্জের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে ওই মতবিনিময় ও সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জিনিয়া চাকমা ও সহকারী পুলিশ সুপার আমিরুল ইসলাম, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হোসেন চিশতী সিপলু, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাংবাদিক এম এ শাহীন, নয়াদিগন্তের সাংবাদিক এমরান হোসেন, ডেইলী ষ্টারের সাংবাদিক সনদ সাহা সানী, আমাদের সময়ের সাংবাদিক এমরান আলী সজীব, ইত্তেফাকের ফটোসংবাদিক তাপস সাহা প্রমূখ।

এসপি জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে বলেন, নিরাপত্তা বা তদন্তের স্বার্থে অনেক সময় গণমাধ্যমের কর্মীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। তবে যারা পরিচয় দিবেন তাদের অবশ্যই প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। এসময় তিনি শিল্প বাঁচাতে এবং  শিল্পের মানবৃদ্ধির জন্য গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, আমরা সব সময় শ্রমিকদের কথা শুনি ও শ্রমিকদের পাশে থেকে কাজ করি। আমরা চাই না কোন শ্রমিক তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত হোক। তবে কিছু শ্রমিক আছে যারা কয়েক মাস পরপর কর্মস্থল পরিবর্তনের জন্য গার্মেন্টেসগুলোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সুযোগ নিতে চায়। তাই আমরা ওইসব বিশৃঙ্খলাকারী শ্রমিকদের তালিকা তৈরি করছি। তবে যারা ভালো শ্রমিক আছে তাদের পাশে আমরা সর্বদা আছি ও থাকবো।

এসপি জাহিদুল ইসলাম বলেন, গার্মেন্টসগুলো মালিকদেরও তালিকা আমাদের কাছে আগে থেকেই আছে। তবে কিছু লোকাল গার্মেন্টস আছে সেগুলোর তালিকা নেই। আর ওইসব গার্মেন্টসগুলোই প্রায় সময় বেতন নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। তারপরও আমরা মালিকদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছি যদি প্রতিষ্ঠানে কোন সমস্যা থাকে তাহলে আগে থেকেই শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধান করা। কোন ভাবেই যেন পরিস্থিতি রাস্তায় চলে না আসে। অন্যথায় আমরা ব্যবস্থা নিবো।

সম্প্রতি ফতুল্লায় বয়লার বিস্ফোরণে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, যে শ্রমিক মারা গেছে তার বিষয়েও আমরা খুব তৎপর আছি। যার কারণে ডাইংয়ের মালিক বাড়িতে ঘুমাতে পারছে না। মামলার তদন্তভার আমাদের কাছে আসলেই আমরা অ্যাকশনে যাবো।

নিজেদের লোকবল সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ ৭ লাখ ১ হাজার শ্রমিক আছে। কিন্তু শিল্প পুলিশ আছে ৬০৩ জন। এক্ষেত্রে অনুপাতিক হারে প্রায় ১২০০ শ্রমিকের জন্য একজন পুলিশ। এছাড়াও আমরাদের গাড়ি, অফিস সহ লজেস্টিক সাপোর্ট কম আছে। যা আছে আমরা তা দিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। যা অতিতের তুলনায় এখন অনেক ভালো আছে।

৭ অক্টোবর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে