NarayanganjToday

শিরোনাম

সামনে ঈদ তাই দম ফেলার ফুসরত নেই তাদের


সামনে ঈদ তাই দম ফেলার ফুসরত নেই তাদের
বকুল ও রুনা দম্পতি, ছবিঃ সংগৃহিত

শাড়িতেই নারীর সৌন্দর্য- বাংলার এই চিরাচরিত প্রবাদ যেন সুন্দরের প্রতীক হয়ে আছে আজও প্রতিটি নারীর শরীরে বরণ করে নেওয়া নানা কারুকাজের শাড়ি। আর এই শাড়ি পছন্দ নয় এমন নারী খুঁজে পাওয়া ভার। তবে, শাড়ি পছন্দের ক্ষেত্রে নারীদের প্রথম পছন্দই হচ্ছে জামদানী শাড়ি। বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে এই জামদানি এখন বেশ কয়েকটি দেশেও আমদানি করা হয়।

জামদানির জন্য দেশের মধ্যে সব থেকে খ্যাতনামা রূপগঞ্জ। এখানে রয়েছে জামদানী পল্লী। যা শত বছরের ইতিহাস আর ঐতিহ্যকে ধারণ করে আছে নারায়ণগঞ্জের এই রূপগঞ্জ উপজেলার জামদানী পল্লী। উপজেলার নোয়াপাড়া বিসিক জামদানী পল্লীতে এখন উপচে ভিড়। ঈদকে সামনে রেখে খুচরা ও পাইকারী বিক্রেতারে নিজেদের পছন্দ মতো শাড়ি দেখছেন, কিনছেন।

অন্যদিকে ঈদকে সামনে রেখে বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন জামদানী কারিগররা। ক্রেতাদের চাহিদা, পছন্দ অনুযায়ি তারা তাঁতে বুনে চলেছেন মনকাড়া বাহারি নকশার জামদানি শাড়ি। ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৪০ কিংবা ৫০ হাজার টাকা দরের শাড়িও বুনে চলেছেন। এসব শাড়ি দেশের চাহিদা মিটিয়ে ভারত, নেপাল, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি করা হয়। বাংলাদেশের মতো সেসব দেশগুলোতেও এসব শাড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

উপজেলার নোপাড়া বিসিক জামদানী পল্লী ঘুরে দেখা যায়, এই পল্লীর দোকানগুলোতে খুচরা ও পাইকারী বিক্রেতারা নিজেদের চাহিদা মত শাড়ি সংগ্রহ করছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছর এই পল্লীতে চাহিদা অনুযায়ি কয়েক লাখ জামদানি শাড়ি তৈরি হয় যা দেশে এবং বিদেশী ক্রেতারা কিনে নিয়ে যান।

বংশপরম্পরায় উপজেলার জামদানী পল্লীতে কয়েক হাজার কারিগর নিখুঁত বুননে মনকাড়া বাহারি নকশায় তৈরি করে চলেছেন জামদানি শাড়ি। যা নারীদের কাছে ব্যাপক সমাদৃত। জামদানী পল্লীতে একজন মূল কারিগর প্রকারভেদে ২ হাজার টাকা এবং তার সহযোগি পেয়ে থাকেন ৮‘শ টাকা করে মজুরি।

শাড়ির প্রকার ভেদে সময় লাগে একটি শাড়ি তৈরিতে। একটি শাড়ি দুজন কারিগরের সময় লাগে এক সপ্তাহ। কোনো কোনো শাড়ি এক থেকে দুই মাসও লাগে। নওয়াপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা বকুল মিয়া ও রুনা দম্পতি ছোটবেলা থেকেই জামদানি কারিগর। তার তাদের বংশপরম্পরায় এই কাজে যুক্ত রয়েছেন।

তাদের পল্লীতে গিয়ে দেখা যায় বকুল মিয়া ও তার স্ত্রী শাড়ি বুনছেন। যার নাম সুমরাদানি। বুকুল মিয়া জানালেন তার এই শাড়িট বাজার দর ৩৫ হাজার টাকা। তিনি জানান, ঈদ সামনে। তাই ব্যস্ততা অনেক। রোজার আগের থেকেই এই ব্যস্ততা শুরু। চলবে আরও কয়েকদিন। যদিও সবসময় জামদানির চাহিদা। কিন্তু ঈদ পূজাসহ বিভিন্ন উৎসবে এই ব্যস্ততা একটু বেশিই থাকে।

১৪ মে, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে