NarayanganjToday

শিরোনাম

ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়ের সমর্থন পেয়েও হারলেন সোলায়মান!


ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়ের সমর্থন পেয়েও হারলেন সোলায়মান!

সূতা ব্যবসায়ীদের সংগঠন ইয়ার্ন মার্চেন্ট নির্বাচনে ওসমান ভ্রতৃদ্বয়ের সমর্থন পেয়েও জয়ী হতে পারলেন না সংগঠনটির সাবেক সভাপতি এম সোলায়মান। তার প্যানেলের সাধারণ গ্রুপের তাকেসহ ১২ জন প্রার্থীরকে পরাজিত করে দাপটের সাথে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন প্রতদ্বিন্দ্বী লিটন সাহা প্যানেল।

শনিবার (২২ জুন) সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত এক টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাতে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ফলাফল ঘোষণার মাধ্যমে লিটন সাহার প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এদিকে এম সোয়ামান প্যানেলের সকল প্রার্থীকে জয়ী করার আহ্বান জানিয়েছিলেন সাংসদ সেলিম ওসমান। তিনি এই প্যানেলের পক্ষে ভোট কেন্দ্রের কাছেই অবস্থান নেন। একই ভাবে এই প্যানেলকে সমর্থন জানিয়ে ইয়ার্ন মার্চেন্ট ভবনের কাছে অবস্থান নিয়েছিলেন অপর সাংসদ শামীম ওসমানও।

তবে, শেষতক ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়ের সমর্থন পেয়েও ৭ বছর পর অনুষ্ঠিতব্য এই দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে জয়ী হতে পারেননি এম সোয়ামান। আর এতে করেই ধারণা করা হচ্ছে, তার প্রতি সংগঠনটির সাধারণ সদস্যদের অনীহা কতটা তীব্র ছিলো। যার জবাব তারা দিয়েছেন গোপন ব্যালটের মাধ্যমে।

এদিকে, এ নির্বাচনে অনেকেই এম সোয়ামানের পরাজয়কে ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়ের পরাজয় হয়েছে বলে মনে করছেন। তবে, লিটন সাহা বরাবরই শামীম ওসমানের লোক হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত। কিন্তু তা স্বত্বেও এবারের নির্বাচনে ব্যবসায়ী নেতা সাংসদ সেলিম ওসমান এম সোলায়মানকে সমর্থন জানান। বড় ভাইয়ের বাইরে গিয়ে শামীম ওসমানও লিটনকে সমর্থন দেননি। তবে, প্রকাশ্যে তিনি এম সোলায়মানকেও সমর্থন না দিলেও ভাই সেলিম ওসমানের পছন্দকেই সমর্থন করেছেন।

সূত্র মতে, দ্বি বার্ষিকী নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ ৭ বছর পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এতে ৯৩৬ জন ভোটার প্রত্যক্ষ ভোটে এসোসিয়েশনের ১৮ জন নেতাকে নির্বাচিত করেন। এরমধ্যে সাধারণ গ্রুপে ৭৭৪ জন ও এসোসিয়েট গ্রুপ থেকে ১৬২ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্যানেলের মধ্যে এম সোলায়মানের নেতৃত্বাধীন প্যানেলের ১৮ জন প্রার্থীরা মধ্যে সাধারণ গ্রুপে ছিলেন এম সোলায়মান, আব্দুল মান্নান মিঞা, আব্দুল্লাহ্ আল হোসেন বাপ্পি, মো. হুমায়ুন কবীর, মো. সাইদুর রহমান মোল্লা, দেবদাস সাহা, মো. আজহার হোসেন, মো. হাবিব ইব্রাহীম, মিন্টু চন্দ্র সাহা, মো. সাইদুর রহমান, মো. মহিউদ্দিন তুরান, মো. আব্দুল কাদির। তারা সকলেই পরাজিত হন।

এছাড়াও এই প্যানেলের এসোসিয়েট গ্রুপের মো. মাহফুজুর রহমান খান মাহফুজ, মো. মকবুল হোসেন, মো. কামরুল হাসান, মো. খায়রুল কবীর, অসীম কুমার সাহা, মো. ফয়সাল আহাম্মদ দোলন নির্বাচিত হয়েছেন।

অপরদিকে লিটন সাহার নেতৃত্বাধিন প্যানেলের এসোসিয়েট মোহাম্মদ মুসা, মো. মুকুল হোসেন মল্লিক, মজিবর রহমান, মাওলানা নাজমুল হুদা বিন মাহিদ, মো. মেহেদী হাসান, আফসার আহমেদ পরাজিত হয়েছেন। এবং একই প্যানেলের লিটন সাহা, অশোক মহেশ্বরী, মো. মোজাম্মেল হক, মো. সেলিম রেজা, মো. মজিবুর রহমান, মো. আমিন উদ্দিন, মো. সিরাজুল হক হাওলাদার, মো. আকবর হোসেন, সঞ্জীত রায়, তাজুল ইসলাম, মোস্তফা এমরানুল হক মুন্না, জয় কুমার সাহা সাধারণ গ্রুপ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন বিকেএমইএ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মঞ্জুরুল হক। সদস্য হিসেবে রয়েছেন রাশেদ সারোয়ার ও ফারুক বিন ইউসুফ পাপ্পু।

২২ ‍জুন, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে