NarayanganjToday

শিরোনাম

সেলিম ওসমান নাকি সোলায়মান, কে হেরেছেন?


সেলিম ওসমান নাকি সোলায়মান, কে হেরেছেন?

সূতা ব্যবসায়ীদের সংগঠন ইয়ার্ন মার্টেন্ট এসোসিয়েশনের নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই বিবেচনায় রাখা হয়। দ্বি-বার্ষিকী পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে বিজয়ীরা দেশের সূতা ব্যবসায়ীদের ভালো-মন্দ অনেক কিছুরই দেখভাল করে থাকেন। অনেক কিছুই নির্ভর করে নির্বাচিতদের উপর।

দীর্ঘ সাত বছর পর ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের প্রতিনিধি নির্বাচন হওয়াতে বেশ উচ্ছ্বাস, উৎসাহ ছিলো প্রার্থী ও ভোটারদের মাঝে। তবে, সে উৎসাহ উচ্ছ্বাসে কিছুটা ভাটা পড়ে যায় প্রভাবশালী দুজন সাংসদ যখন নির্বাচনে অংশ নেওয়া দুই প্যানেলর মধ্যে এক প্যানেলকে সমর্থন দিয়ে ভোট কেন্দ্রের সামনে অবস্থান করেন।

তবে, প্রশ্ন উঠেছে, দেশের সর্বোচ্চ নির্বাচন, সর্বোচ্চ অবস্থান জাতীয় সংসদের প্রতিনিধিত্ব করে প্রকাশ্যে কোনো সাংসদ একটি নির্বাচনে এভাবে সমর্থন করতে পারেন কিনা? এ নিয়ে অনেকের মাঝেই ছিলো কানাঘুষা।

সূত্র বলছে, ২০ জুন শহরের একটি হোটেলের একটি অনুষ্ঠানে সাংসদ সেলিম ওসমান ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়েশন নির্বাচনে এম সোলায়মানের নেতৃত্বাধিন পুরো প্যানেলকে জয়ী করতে আহ্বান জানান। যথা রীতি তিনি তার পছন্দের প্যানেলের পক্ষে ভোটের দিন ২২ জুন ভোট অনুষ্ঠিত ইয়ার্ন মার্চেন্টের ভবনে অবস্থানও নেন। একই ভাবে ভোটের শেষান্তে ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়েশনে গিয়ে উপস্থিত হন প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমান।

অনেকেই মনে করেন, নারায়ণগঞ্জের সর্বোচ্চ প্রভাবশালী ওসমান ভ্রাতৃদ্বয় দুই প্যানেলের মধ্যে যখন একটি প্যানেলকে সমর্থন জানিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেন তখন সমর্থিত প্যানেলের জয় অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। এছাড়াও তারাও নানা অ্যাঙ্গেল থেকে চাইবে তাদের সমর্থন করা প্যানেল জয়ী হোক। ফলে এই প্যানেলটিকে জয়ী করার চেষ্টা তারা করবেন, এবং সেটি করেছেন বলেই মনে করেছেন অনেকেই। কিন্তু শেষতক সেটি আর হয়ে উঠেনি

২২ জুনের ভোটের ফলাফল শেষ পর্যন্ত ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়ের সমর্থিত এম সোলায়মানের নেতৃত্বাধিন প্যানেলকে ধরাশায়ি করে সাধারণ প্যানেলে সংগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয় লিটন সাহা প্যানেল। এই প্যানেলের সাধারণ গ্রুপের ১২ জনের মধ্যে ১১ জন নিরঙ্কুশ জয় পায়।

তারা হলেন, লিটন সাহা (৪৭২), অশোক মহেশ্বরী (৩৬৬), মো. মোজাম্মেল হক (৪০২), মো. সেলিম রেজা (৪৫৮), মো. মজিবুর রহমান (৪৫৫), মো. আমিন উদ্দিন (৩৮৭), মো. সিরাজুল হক হাওলাদার (৩৬৯), সঞ্জীত রায় (৩৯০), তাজুল ইসলাম টুটুল (৩৮৩), মোস্তফা এমরানুল হক মুন্না (৪০২), জয় কুমার সাহা (৩৮৯)।

তবে এম সোলায়মানের নেতৃত্বাধিন প্যানেলের এসোসিয়েট গ্রুপের ৬ জন জয়ী হয়েছেন নির্বাচনে। কিন্তু এই প্যানেলের নেতৃত্বদানকারি এম সোলায়মান নিজে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এতে করেই সূতা ব্যবসায়ীরা জানান দিয়েছেন, সোয়ামানকে তারা বয়কট করেছেন।

অপরদিকে সেলিম ওসমানের সমর্থিত প্যানেলের পরাজয়টাকে অনেকেই সাংসদের পরাজয় হিসেবেই দেখছেন। ব্যবসায়ীরাও যে সেলিম ওসমানের নির্দেশ অমান্য করেন সেটি ইয়ার্ন মার্চেন্ট নির্বাচনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অথচ, নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীদের অভিভাবক হিসেবে সাংসদ সেলিম ওসমানকেই ধরা হয়ে থাকে। এরপরও তিনি প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ার পরও সোলায়মান প্যানেলের পরাজয় কেন, এ নিয়ে নানা আলোচনা এখন সর্বত্র।

এসব আলোচনায় উঠে এসেছে, সাংসদ সেলিম ওসমান দীর্ঘদিন ধরেই নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যা অনেকদিন ধরেই কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। অনেকেই চাচ্ছেন নেতৃত্বের পরিবর্তন। কিন্তু ঘটনাক্রমে বারবারই সাংসদের হাতেই চলে আসছে নেতৃত্ব। এর বিপক্ষে ব্যবসায়ীরা থাকলেও তা প্রকাশ্যে বলার সাহস কেউ দেখাতে পারেননি। তবে, গোপন ব্যালটের মাধ্যমে সুযোগ পেলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা নেতা নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে নিজেদের সঠিক সিদ্ধান্ত প্রয়োগ করতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। যেমনটা করা হয়েছে ইয়ার্ন মার্চেন্ট নির্বাচনে।

তবে, ওই নির্বাচনে সূতা ব্যবসায়ীদের প্রতি উদ্ধত্য আহ্বান করেছিলেন সেলিম ওসমান সোলায়মনের নেতৃত্বাধিন পুরো প্যানেলকে জয়ী করার জন্য। অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন তাই হবে। কিন্তু ফলাফল সব জল্পনা কল্পনা উল্টে দিয়ে লিটন সাহাকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বরত। ব্যবসায়ীরা কোনো রকম পাত্তা দেয়নি সোলায়মানকে। তবে, প্রশ্ন উঠেছে ২২ জুনের নির্বাচনে সেলিম ওসমান নাকি সোলায়মান, কাকে প্রত্যাক্ষাণ করেছেন সূতা ব্যবসায়ীরা?

২৪ জুন, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে