NarayanganjToday

শিরোনাম

আমার কাজ ক্যাসিনো খেয়ে ফেলছে : সেলিম ওসমান


আমার কাজ ক্যাসিনো খেয়ে ফেলছে : সেলিম ওসমান

সেলিম ওসমান বলেছেন, কোথায় যেন আমাদের একটা ব্যর্থতা আছে। যার জন্য আমাকে আবার পঞ্চমবারের মতো সভাপতি হতে হয়েছে। আসলে আমি কোনো নির্বাচন করিনি। একটা দৃষ্টান্ত ঘটনা ঘটেছে। আমরা ২৭ জনে একটা কমিটি করেছি। নির্বাচন কমিশনারদের তিন দিন সময় দেওয়া হলো ফরম বিক্রি করার জন্য। কেউ কিনলো না। আমি না কিনলে কেউ কিনবে না।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) রাতে ফতুল্লার নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল (নম) পার্কে বিকেএমইএ’র নতুন কমিটির নির্বাচিতদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ওই কথা বলেন তিনি।

সেলিম ওসমান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটা উদ্দেশ্য ছিলো। তিনি আমার কাছে তা ব্যক্ত করেছিলেন ১৯৯৬ সালে। তিনি বলেছিলেন, তোমরা নারায়ণগঞ্জে হোসেয়ারী শিল্পের উন্নয়ন করে এটাকে রপ্তানির ব্যবস্থা করো। সেটা তখন চায়না করতো। তখন আমি এটা ভালো জানতাম না। হাতেম ভালো জানতো। আসলাম সানী ছিলো। আমার ছোট ভাই সাব্বির ছিলো।

তিনি বলেন, আমার সব থেকে বড় পাওনা আপনাদের ভালোবাসা। আমি ফরম না কিনলে আপনারা কিনেন না। হাতেম ভাইকে সভাপতি হতে বললে তিনি হননা। আমাকে এগিয়ে দেন। এর থেকে বড় পাওনা আর কি হতে পারে।

সাংসদ বলেন, আমি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। একটা জায়গায় আমার খুব লজ্জা হয়। না বললে আমাদের উন্নয়ন হবে না। বন্দর থেকে প্রতিদিন অপ্রাপ্ত বয়সী আঠারশ ছেলে গুদারা পার হয়। তারা হোসেয়ারীতে কাজ করে। নিজে দাঁড়িয়ে দেখেছি। আইন যখন হয়ে গেছে তখন কিন্তু শিশুমুক্ত আমাদের বিকেএমইএ। আমরা কিন্তু এক হাজার ডলার পর্যন্ত ফাইন করে দিয়েছি। আজকে আমাদের সরকার চাচ্ছে, আমরা চাচ্ছি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে শিক্ষিত হয়।

তিনি বলেন, আমাকে অনেকেই গালাগালি করেন, কলেজ কেন বানাই না, বিশ্ববিদ্যালয় বানাই না। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় যে বানাবো স্কুল থেকে বের হয়ে, কলেজ পার হয়ে তবেই তো বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবে। এখন আমি যদি মাঝখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বানাই তাহলে তো হবে না।

সেলিম ওসমান বলেন, আমি আজ খুব মনঃক্ষুন্ন। কে টেন্ডার পেয়েছে আমি জানি না। আমাদের ৩শ শয্যা থেকে ৫শ শয্যা হবে। আমি মোহাম্মদ নাসিম সাহেবের বাসায় গিয়ে সাদা কাগজে দরখাস্ত লিখে ওখানে ৯৮ কোটি টাকার কাজের সেনশন পাশ করিয়ে নিয়ে আসছি। ৫শ শয্যা করার জন্য। নিয়মতান্ত্রিক ভাবে টেন্ডার হয়েছে। কাজ হবে। আজ হবে। কাল হবে। কাজ আর ধরা হয় না। এখন জানতে পারলাম আমার এই কাজ নাকি ক্যাসিনো খেয়ে ফেলেছে। যিনি নাকি এই টেন্ডার নিছে তিনি নাকি ক্যাসিনোর ব্যবসা করতেন।

তিনি সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ করে বলেন, ওটা ৫শ শয্যা হতে হবেই। তা হলেই আমরা মেডিক্যাল কলেজ আনতে পারবো। বিশ্ববিদ্যালয়ও হবে। কিন্তু রাতারাতি বিশ্ববিদ্যালয় হবে না। পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের উদ্যোগে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দীন, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, সাবেক সাংসদ হোসনে আরা বাবলী।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, পরিচালনা পর্ষদে প্রথম সহ সভাপতি এমএ হাতেম, দ্বিতীয় সহ সভাপতি অমল পোদ্দার, তৃতীয় সহ সভাপতি গাওহার সিরাজ জামিল এবং সহ সভাপতি (অর্থ) মোরশেদ সারোয়ার, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস’র সাবেক সহ সভাপতি মো. রাশেদ সারোয়ার, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি মাসুদুর রউফ, বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি মাহফুজুর রহমান খান প্রমূখ।

প্রসঙ্গত, গত ২২ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে নীট শিল্প মালিকগন ২৭টি পদের বিপরীতে ২৭টি মনোনয়নপত্র নির্বাচন বোর্ডেও চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করেন। যেহেতু ২৭টি সদস্য পদের বিপরীতে ২৭টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে, সেহেতু ২৬ অক্টোবার ভোট গ্রহণের কথা থাকলেও বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালার বিধি ১৭ অনুযায়ী তার প্রয়োজন পড়ে না। ফলে বিধি অনুযায়ী ৩ অক্টোবার ২০১৯-২১ মেয়াদে ২৭ সদস্য বিশিষ্ট বিকেএমইএ’র পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচিত হয়।

৩ অক্টোবর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে