NarayanganjToday

শিরোনাম

অনুমতি পায়নি প্রিয়ঙ্কা চোপড়া


অনুমতি পায়নি প্রিয়ঙ্কা চোপড়া

শান্তিনিকেতনে প্রিয়াঙ্কাকে শুটিংয়ের অনুমতি দিল না বিশ্বভারতী। শুক্রবার এই বিষয়ে সিনেমার পরিচালক উপাচার্য এবং আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। কিন্তু বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে শুটিংয়ের অনুমতি দিতে অস্বীকার করে। কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কোনও বাণিজ্যিক সিনেমার অনুমতি দেওয়া হবে না। একমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত সিনেমা বা তথ্যচিত্র শুটিংয়ের অনুমতির ক্ষেত্রে বিশ্বভারতী সমস্ত দিক বিবেচনা করেই অনুমতি দিতে পারে।

শান্তিনিকেতনে সিনেমার শুটিং নিয়ে একের পর এক বিতর্ক দেখা দিয়েছে। স্বপন দত্ত উপাচার্য থাকার সময় উপাসনা মন্দিরে সিনেমার শুটিং ঘিরে সেই বিতর্ক চরমে ওঠে। আশ্রমিকরা অভিযোগ করেন শান্তিনিকেতনের একাধিক বাড়ি, ভাস্কর্য রয়েছে যার মধ্যে বেশ কিছুকে কেন্দ্রীয় সরকার হেরিটেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে অন্যতম উপাসনা মন্দির, ছাতিমতলা, পাঠভবন চত্বর, মৃণালিনী আনন্দ পাঠশালা, কলা ও সংগীত ভবন। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে বিশ্বভারতীর এই ঐতিহ্যকে ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছে। একাধিক কমার্শিয়াল সিনেমার শুটিং এর অনুমতি দেওয়া হয়েছে আশ্রম বা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। এর পরেই ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হয়ে সবুজকলি সেন সিদ্ধান্ত নেন শান্তিনিকেতনে কোনও বাণিজ্যিক সিনেমার শুটিংয়ের অনুমতি দেবে না বিশ্বভারতী।

এদিকে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং তাঁর ইংরেজি শিক্ষক অন্নপূর্ণা তড়খড়ের সম্পর্ক নিয়ে ‘নলিনী টেগরস ফার্স্ট লাভ’ নামের একটি সিনেমা করতে চলেছেন। যার পরিচালক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে, লন্ডন যাওয়ার আগে ইংরেজি ভাষাগত জ্ঞান বাড়াতে ১৭ বছর বয়সি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে তাঁর দাদা সত্যেন্দ্রনাথ পাঠান মুম্বইয়ের চিকিৎসক আত্মারাম তড়খড়ের বাড়ি। সেখানে তাঁর পরিচয় হয় আত্মারামের দ্বিতীয় কন্যা অন্নপূর্ণা বা আনার সঙ্গে। আনার উপর দায়িত্ব পড়ে রবীন্দ্রনাথকে ইংরেজিতে উন্নত করে তোলার। এই আনাকেই রবীন্দ্রনাথ নাম দিয়ে ছিলেন নলিনী।

এই বিষয়ে “নলিনী টেগরস ফার্স্ট লাভ” এর পরিচালক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, “দীর্ঘ এক বছর ধরে স্ক্রিপ্ট-সহ সব কিছু দেখে স্বপন দত্ত উপাচার্য থাকার সময় শুটিংয়ের অনুমতি দিয়েছিলেন বিশ্বভারতী। এখন শুটিং এর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, পুরো বিষয়টি মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকে জানিয়েছি।”

বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সবুজকলি সেন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কোনও কমার্শিয়াল সিনেমার অনুমতি দেওয়া হবে না। একমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অনুমোদিত সিনেমা বা ডকুমেন্টারি শুটিংয়ের অনুমতির ক্ষেত্রে বিশ্বভারতী সমস্ত দিক বিবেচনা করেই অনুমতি দিতে পারে।

১ জুলাই, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে