NarayanganjToday

শিরোনাম

পুরান ঢাকার আগুন পান খেয়েছেন কখনো?


পুরান ঢাকার আগুন পান খেয়েছেন কখনো?

আগুনের পান! এ আবার কোন ধরনের পান! আগুনসহ পান খাওয়ার কথা ভাবলে শরীর ঝিমঝিম করলেও বিষয়টা অনেক রোমাঞ্চকর। আর এই রোমাঞ্চ অনুভব করা যাবে পুরান ঢাকার নাজিরাবাজার এলাকায়।

এখানে মিষ্টি পানে বৈচিত্র্য আনতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্রি করা হয়। এটি প্রথম শুরু হয় ভারতের দিল্লিতে। ঢাকায় প্রায় তিন বছর আগে প্রথম আগুন পানের প্রচলন করেন বশির আহমেদ।

আগুন পানের জন্য সাঁচি পান ব্যবহার করা হয়। এই বিশেষ জাতের পান কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জ ও বগুড়া থেকে আনা হয়। আর মসলা আসে ভারত থেকে। আগুন পান তৈরি করতে একটি বড় আকৃতির পান পাতার ওপর একে একে উপাদান সাজানো হয়। এরপর বিভিন্ন রকমের প্রায় ৪৫টি উপাদান দেওয়া শেষে সেগুলোর ওপর একধরনের বিশেষ তরল পদার্থ দেওয়ার পর সেটিতে লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। উপাদানগুলোতে আগুন জ্বলে ওঠার পর পান ভাঁজ করে ক্রেতাদের পরিবেশন করা হয়।

তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বয়স্ক লোক সবার কাছেই এ পান হয়ে উঠছে জনপ্রিয়। এই পান খেতে  প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। পুরান ঢাকায় বেশি পাওয়া যায় বলে সবাই পুরান ঢাকার আগুন পান নামেই পরিচিত এটি। নাজিরা বাজারের চৌরাস্তায় পৌছালেই চোখে পড়বে ‌‌'আল্লাহর দান জলিল ভাইয়ের ‘মিষ্টি পান’, ‘কাশ্মীরি মিঠা পান’, ‌‘মায়ের দোয়া পান বিতান’ নামসহ হরেক নামের অনেক পানের দোকান। তবে এখানকার সব দোকানে পাওয়া যাবে না আগুন পান। কেবল জলিল ভাইয়ের মিষ্টি পান বা কাশ্মীরি মিঠা পানের দোকানেই পাওয়া যাবে আগুন পান।

আগুন পানের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাধারণত গ্লিসারিন পার পটাশিয়াম ও পানির মিশ্রণে এ ধরনের আগুন তৈরি হয়। এ উপাদানগুলো বেশি মাত্রায় থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে। কিন্তু পানে এ মাত্রা কম থাকায় লাইটার দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিতে হয়।

তিনি আরও বলেন, মানুষের শরীরের ভেতরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে আগুন পানের তাপ বেশি থাকবে। সেক্ষেত্রে মুখের ভেতরের কোষগুলো পুড়ে যেতে পারে। নিয়মিত খেলে খাদ্যনালিতে ক্যানসার হতে পারে।

৯ জানুয়ারি, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে