NarayanganjToday

শিরোনাম

`মেয়রের প্রিয় বন্ধু সুফিয়ান কেন পিস্তল বের করলো‍‍`


`মেয়রের প্রিয় বন্ধু সুফিয়ান কেন পিস্তল বের করলো‍‍`
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যরত শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ শহরে ফুটপাতে হকার বসানো ও উচ্ছেদ নিয়ে সৃষ্ট সংঘর্ষের ঘটনায় নিজের সাফাই গেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাংসদ শামীম ওসমান।

বুধবার  (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে চাষাড়া রাইফেল ক্লাবে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে সংঘর্ষের ব্যাপারে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতেই হকার ইস্যুতে সৃষ্ট সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে কয়েকটি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করেছে জানিয়ে শামীম ওসমান বলেন “গতকালের (মঙ্গলবারের) ঘটনাটিকে কিছু কিছু ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে অথবা প্রকৃত তথ্য পায়নি বলে তথ্য ভিক্ষা করে মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করেছে। এতে প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হয়নি।”

“মেয়রসহ অনেকেই প্রমান করতে চেয়েছে গতকালের ঘটনাটি (মঙ্গলবার) শামীম ওসমান বনাম আইভীর লড়াই।  কিন্তু এটি শামীম ওসমানের সাথে আইভীর লড়াই না। এটা আইভীর সাথে হকারদের লড়াই।”

গরীবদের পক্ষে কথা বলাটাই নিজের অপরাধ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার অপরাধ একটাই আমি গরীবের পক্ষে গিয়েছি। আর সেটাকে পুঁজি করে কিছু মিডিয়া হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে ঘটা সংঘর্ষকে শামিম-আইভী ইস্যুতে পরিণত করেছে। এটা ঠিক না। আমি ব্যক্তিগত ভাবে ফুটপাতে হকার বসার পক্ষে না। আমি চাই বাংলাদেশে যেন হকারই না থাকুক। বাংলাদেশের সকল বস্তি উচ্ছেদ হয়ে যাক। মানুষ সম্মানের সাথে জীবন যাপন করুক। কিন্তু এই হকাররাও মানুষ। গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে নারায়ণগঞ্জে হঠাৎ করে কোনো নোটিশ ছাড়া এই হকারদের উচ্ছেদ করা হয়। এই হকাররা তো কোনো অপরাধ করেনি। তারা তাঁদের জীবিকার জন্য কাজ করে খায়। সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা হকারদের শীতের মৌসুমের গরম কাপড়, মালামাল তুলে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। তখন আমার কাছে হকাররা এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। আমার কাছে সমাধান চায়। যেহেতু আমাদের মেয়রও দলীয় প্রার্থী তাঁর কাজের দায়ভার আমাদের উপরেও পরে। তাই আমি তাদের কিছু বলি নাই।”

শামীম ওসমান বলেন, “তখন এ হকারদের দায়িত্ব নিয়েছে বাম মোর্চা। বাম মোর্চার মনজুরুল আহসান খান জাতীয় পর্যায়ের নেতা এসে হকারদের পাশে এসে দাঁড়ায়। এরপর থেকে বাম মোর্চার নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে হকার আন্দোলন সংগঠিত হয়। সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আইভী বানানোর পেছনে এই বাম মোর্চার নেতাদের অনেক বড় হাত রয়েছে। তাই আমি ভেবেছিলাম তাদের নেতৃতে¦ই হকাররা সফল হবে তাদের দাবী আদায়ে। কিন্তু হয় নাই।”

শামীম ওসমান বলেন, “হকারদের পারমানেন্টলি বসতে দিতে হবে সে কথা আমি কখনোই বলি নাই। আমি বলেছি পুনর্বাসনের আগ পর্যন্ত তাদের বসতে দিন। এদের কিছু সময় দিন এরা এদের ঋনের টাকা উঠিয়ে আনুক। একথা বলাতে উনি আমার ছেলের বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। উনি বললেন, আমার ছেলের বিয়েতে আমি এত টাকা খরচ করতে পেরেছি তাহলে কেন হকারদের জন্য মার্কেট করে দেইনা। উনি আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে আঘাত করলেন। এতে আমি খুবই মর্মাহত হয়েছি। আমি তারপরেও কোন প্রতিত্যুত্তর করিনাই। কারণ আমার রাজনীতি হলো গরীবের পক্ষে থাকা। আমার নেত্রী অমাকে বলেছেন গরীবের রাজনীতি করতে।”

এসময়, নিজের কাছে থাকা কয়েকটি ছবি উপস্থিত সাংবাদিকদের দেখিয়ে তিনি বলেন, “হকারদেরকে প্রধানমন্ত্রীর অনুসাশন বোঝাতে এসে মেয়রের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু সুফিয়ান কেন কোমর থেকে পিস্তল বের করলো। সুফিয়ানের কোমরে পিস্তল কেন আসবে। হামলা যদি আমরাই করলাম, তাহলে সুফিয়ান অস্ত্র হাতে নিলো কেন।”

শামীম ওসমান আরও বলেন, “বিএনপির ক্যাডার সুমন অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে গুলি করছে। অস্ত্র হাতে কে এই সুমন? বিএনপির ক্যাডার সুমন হাতে অস্ত্র নিয়ে গুলি করছে এই ছবি আমার না, এই ছবি জোগার করেছে সাংবাদিকরা।”

“অনেকে হকার ভার্সেস আইভী ইস্যুকে শামীম ভার্সেস আইভী বানাতে তৎপর। প্রেস ক্লাবের সভাপতিসহ আরো সহযোগীরা মিলে প্রথমে পাট সমিতির সামনে হকারদের উঠিয়ে দিলেন। আমার কাছে ছবি আছে তাঁরা হকারদের উচ্ছেদ করে তাদের মালামাল পুড়িয়ে দিচ্ছেন। সেখানে আমি দেখলাম আইভীর সাথে কারা ছিলেন, দেখলাম যুবদলের অহ্বায়ক খোরশেদ। যার নামে একাধিক সন্ত্রাসী মামলা। তার সাথে কে ছিলেন এই সুমন, বিভা যার স্বামী এবং বড় ভাই জোড়া মার্ডার কেসের আসামী, তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে আইভীর সাথে তাদের ধরা হচ্ছে না। আর মেয়র কথায় কথায় বলেন প্রশাসনকে উৎখাত করা হোক। এই নাটক আমরা সবাই বুঝি।”

সংঘর্ষের সময় শামীম ওসমানের সমর্থক পিস্তলধারী নিয়াজুল ইসলামকে গণধোলাই দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “একটি ভিডিও ফুটেজ পেন ড্রাইভে করে সাংবাদিকদের দিয়ে বলেন, “ঘটনার সময় ধারনকৃত এই ভিডিও ফুটেজই বলে দিবে নিয়াজুল দোষী নাকি নির্দোষ? নিয়াজুল একজন ব্যবসায়ী, মার্কেটের মালিক। তার ভাই মারা গেছে। সে একা একা সেদিন রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছিলো। অতর্কিতভাবে ধরে ৫০ জন লোক তিন দফা পিটিয়েছে এই ভদ্রলোককে। তখন বাধ্য হয়ে জীবন বাঁচাতে সে তার সাথে থাকা লাইসেন্স করা অস্ত্র বের করেছে। কেউ আপনাকে মারলেও তো আপনিও লাঠি ধরবেন আর তাকে উপযুক্ত মনে করে সরকার পিস্তলের লাইসেন্স করে দিয়েছে।”

তিনি বলেন, “তবে আইভীকে যদি নিয়াজুল মারতে গিয়ে থাকে তবে সেটা গুরুতর অপরাধ। পুলিশের উচিত এ ব্যাপারে তদন্ত করা। অস্ত্র খুঁজে বের করুন, তদন্ত করুন। সে দোষী হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করি।”

সংবাদ সম্মেলনে শামীম ওসমান আরো বলেন, “তিনি হকারদের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফুটপাথে বসার কথা বলেছেন। এর মধ্যে হকারদের সঙ্গে আলাপ করে স্থানীয় প্রশাসনকে হকারদের বিকল্প ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন।”

এসময় নিজের বক্তব্যে জোর দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এ নেতা বলেন, “যে যাই বলুক আমি হকারদের বিপক্ষে যাবো না।”

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জের ফুটপাতে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সাংসদ শামীম ওসমান ও মেয়র আইভী সমর্থকদের সংঘর্ষে মেয়র আইভী, সাংবাদিকসহ শতাধিক আহত হয়। প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়াসহ দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে মেয়র আইভী, সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

১৭ জানুয়ারি ২০১৮/আরসি/এনটি

উপরে