NarayanganjToday

শিরোনাম

উত্তর-দক্ষিণ মেরু সৃষ্টি হয়েছে স্বার্থের কারণে : আরজু ভূঁইয়া


উত্তর-দক্ষিণ মেরু সৃষ্টি হয়েছে স্বার্থের কারণে : আরজু ভূঁইয়া

আরজু রহমান ভুঁইয়া নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একজন সম্ভাব্য প্রার্থী। যিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে দেখেছেন খুব কাছ থেকে। বঙ্গবন্ধুকে দেখে এবং বড় ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় যিনি নিজেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত করেছেন।

সরকারি তোলারাম কলেজে ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রথমে ছাত্র সংসদের নেতা অর্থাৎ ছাত্র রাজনীতি এবং পরে আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন। তার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশই অনেক কিছু। তাই সেই ছাত্র জীবন থেকে আজ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারন করে এ দলের সাথে যুক্ত রয়েছেন। দীর্ঘ বর্ণাঢ্য এক রাজনীতি জীবনে দলকে অনেক কিছুই তিনি দিতে সক্ষম হয়েছেন। তাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল তাকে মূল্যায়ন করবেন বলে তার দৃঢ় বিশ্বাস।

আরজু রহমান ভুঁইয়ার সাথে তার রাজনীতি জীবন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন আমাদের প্রতিবেদক মিলন বিশ্বাস হৃদয়

কিভাবে রাজনীতিতে নিজেকে জড়ালেন?
“আমার পলেটিক্যাল যে লাইফটা, আমার ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমেই আওয়ামী লীগে প্রবেশ। আমি ৭৩ সনে শহরে ছাত্রলীগের সহ সাধারন সম্পাদক ছিলাম। আর ৭০ দশকে আমার বড় ভাই মরহুম আব্দুর সাত্তার নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের ততকালিন এমপি ছিলেন। পরে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছেন এবং সংবিধানে সাক্ষরদাতা একজন সাংসদ। ৭৫’এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমাদের তোলারাম কলেজের যে সাবেক জিএস আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদে মিছিল হয়। পরবর্তীতে তিনি জেলে ডুকে যান। জেলে যাওয়ার পরে ততকালিন আসাদ, হারুন অর রশীদ ফকির, মতিউর রহমান সিকদার, সুরেশ আরো অনেক নেতা মিলে ছাত্রলীগ সংগঠিত করি। সংগঠিত করার পর ৭৮’এ সনে আমরা জেলা ছাত্রলীগ গঠন করি। যে কমিটিতে আনোয়ার হোসেন ছিছেন প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি আসাদুজ্জাম আর আমি ছিলাম ভাইস প্রেসিডেন্ট। ওই জিয়াউর রহমানের প্রিয়ডেই আমি সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্র সংসদের নির্বাচন করি। আমি মুজিববাদি ছাত্রলীগরে পক্ষ থেকে জয়লাভ করি। তখন সারা বাংলাদেশে একটি কলেজেই সংসদ নির্বাচন হয়, যেখানে আমরা জয় লাভ করি। তখন আমাদের ছাত্র নেতা ছিলো, বর্তমান যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদির, মোস্তফা জামাল মহিউদ্দিন, খ.ম জাহাঙ্গীর। তারাও সে নির্বাচনে আসছিলেন, ঘটনা বহুল একটি নির্বাচন হয়েছিলো, জিয়াউর রহমানের সামরিক আইনের বিরুদ্ধে আমরা জয়লাভ করেছিলাম। পরবর্তীতে আমি আওয়ামী লীগে প্রবেশ করি ১৯৮৪ সালে। তখন বন্দর থানা আওয়ামী লীগের আমি সাধারন সম্পাদক হই। এরপর ১৯৯০ সালে আমি ওই সংগঠনের সভাপতি হই। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯২ সাথে আমি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হই। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আমি জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী প্রার্থী ছিলাম, তখন এমপি শামীম ওসমানের অনুরোধে আমি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিই।”

আওয়ামী লীগ কেন করেন?
“আওয়ামী লীগ ছিলো বাংলাদেশ পুরাতন একটি সংগঠন। যে দল এ দেশ ও জাতির স্বাধীকার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে, যুক্তফ্রন্ট থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, আইয়ূব বিরোধী আন্দোলন ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭০’র সাধারন নির্বাচন সকল আন্দোলনেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দিয়েছে। এক কথায় ‘আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই এ দেশ স্বাধীন হয়েছে।’ আর এ সকল আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন আমাদের প্রাণ প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই এ দলের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছি এবং এ জন্য নিজেকে ধন্য মনে করছি।”

রাজনীতি করার উদ্দেশ্য কি?
“রাজনীতি করার মূল উদ্দেশ্যে হলো, আমার ভাই রাজনীতি করেছে। আমরা ধর্নাঢ্য পরিবারের সন্তান। আমার বাবা একজন পাট ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি মদনপুর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, বিবি মরিয়ম উচ্চ বিদ্যালয় এবং মদনপুর ১৮নং প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এছাড়াও তারা বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তারা সবাই জনগণের সেবা করেছেন। মাটি ও মানুষের সাথে আমাদের সম্পর্ক। আমার পিতা ও ভাই যেভাবে মানুষের সেবা করেছেন, সেই সেবা করার উদ্দেশ্যেই রাজনীতি করা।”

কার অনুপ্রেরণায় রাজনীতিতে যুক্ত হলেন?
“আমার বড় আব্দুর সাত্তার ভুঁইয়া সাহেবের অনুপ্রেরণায় রাজনীতিতে আসি। ওনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। ১৯৬৯ সনে বঙ্গবন্ধু আমাদের বাসায় গিয়েছিলেন। তখনি বঙ্গবন্ধুকে কাছ দেখেছি। এর পর থেকেই নিজেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি জড়িয়ে ফেলি।”

এমপি নির্বাচনের মূল লক্ষ্য কি?
“মূল লক্ষ্য হচ্ছে আমার দলের যে লক্ষ্য সেটাকে বাস্তবায়ন করা। ভিশন ২০৪১ কে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করা। জননেত্রী যে স্বপ্ন বঙ্গবন্ধুর সে স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করা। তার পাশাপাশি আমার যে এলাকা নারায়ণগঞ্জ, বিশেষ করে সদর বন্দরের মানুষের যে চাহিদা, সে চাহিদাগুলো সরকার থেকে এনে পূরণ করা এবং নারায়ণগঞ্জকে একটি আদর্শ জেলা হিসেবে, সন্ত্রাস মুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলা। এ শহরটাকে একটি পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মাননীয় মেয়রকে সহযোগীতা করা। এ সবের মাধ্যে এ শহরটাকে আবাসযোগ্য করে গড়ে তুলাই আমার মূল লক্ষ্য।”

অতীতে যারা নির্বাচন করেছেন, তারা কতটা সফল বা ব্যর্থ হয়েছেন বলে আপনি মনে করেন?
“তারা কতটা সফল আর কতটা বিফল হয়েছেন, এটা জনগণের বিবেচ্য বিষয়। জনগণই বলতে পারবে, তারা কতটা সফল আর কতটা বিফল বা ব্যর্থ হয়েছেন।”

প্রার্থী হলে জনগণ কেন আপনাকে ভোট দিবে?
“জনগণ ভোট দিবে কারন, প্রথমে আমরা রাজনৈতিক পরিবার। আমরা ৭০ দশকে এমপিসহ বন্দর ইউনিয়ন পরিষদে আমাদের পরিবার দীর্ঘদিন চেয়ারম্যান ছিলেন। ওই সময় তারা জনগণের ব্যপক সহযোগীতা করেছেন, সেবা করেছেন। এছাড়াও বন্দরের আমাদের প্রচুর পারিবারিক সম্পর্ক আছে। সবচাইতে বড় ব্যপার হলো, স্বাধীনতার মার্কা নৌকা। যে নৌকা দেশকে স্বাধীন করে দিয়েছে, যে নৌকা মার্কা দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করেছে, যে নৌকা আমার নেত্রীকে জননেত্রী করেছে, আমার নেত্রীকে মানবতার বাতিঘর বানিয়েছে আর যে নৌকা আমার নেত্রীকে কওমী মা বানিয়েছে, কাজই এ মার্কার প্রতি জনগণের আস্থা আছে। তাই আমার বিশ্বাস আছে এই মার্কা যদি আমি পাই, তাহলে ইনশাল্লাহ্ আমি সাক্সেস হবো।”

দলে যে ক’জন সম্ভাব্য প্রার্থী আছে, তাদের মধ্যে নিজেকে কতটা যোগ্য বলে মনে করেন?
“দেখেন, যোগ্য অযোগ্যতা বিষয়ে আমি কিছুই বলবো না। এ জন্য হাই কমান্ড আছে, মনোনয়ন বোর্ড আছে। মনোনয়ন বোর্ডই যোগ্যতার বিচার করবে। আমার রাজনীতির সম্পর্কে মনোনয়ন বোর্ড জানে। এ মনোনয়ন বোর্ডের সাথে আলোচনা করে আমাদের বিচক্ষণ নেত্রী প্রার্থী নির্ধারন করবেন। অতএব, আমার যোগ্য অযোগ্যতার বিচার ধরা আমার দায়িত্ব না। আমি এইটুকু বুঝি গণতান্ত্রিক অধিকার যে কেউ প্রার্থী চাইতেই পারে।”

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে উত্তর মেরু-দক্ষিণ মেরু রয়েছে, এ মেরুকরনের কারনে আওয়ামী লীগ কি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কি না?
“উত্তর মেরু আর দক্ষির মেরুর বিষয় না, এখানে হচ্ছে নেতৃত্বের প্রভাব। আমার নেতৃত্বেই চলতে হবে, আমার নেতৃত্ব চাই, আমার নির্দেশে চলবে এটাই বড় জিনিস। এখানে যে যে রকম প্রভাব সৃষ্টি করে, তার আশে পাশের লোকজন সেভাবে উপকৃত হয়। আবার যারা প্রভাব সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়, তারা উপকৃত হয়না।”

কেন এই উত্তর-দক্ষিন মেরুর রাজনীতি?
“এ রাজনীতি কোনো আর্দশিক জনিত কারনে হচ্ছেনা, এটা হচ্ছে সর্ম্পূন স্বার্থের জন্য।”

এমপি হলে এ মেরু করনের রাজনীতি বন্ধ করবেন কি না?
“এ মেরু করনের রাজনীতির তো বিষয় না। পত্রিকার মাধ্যমে উত্তর মেরু-দক্ষিণ মেরুর রাজনীতি সৃষ্টি করে। এটা রাজনীতির নেতৃত্বের বিষয়। এ নেতৃত্বের মূল বিষয় হলো জননেত্রী শেখ হাসিনা। কোনো মেরুই থাকবেনা, যদি নেত্রী কোনো মেরুকেই সার্পোট না করে।”

৬ নভেম্বর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে