NarayanganjToday

শিরোনাম

শামীম ওসমানের সাথে রাজনৈতিক কারণে মতপার্থক্য : খোকন সাহা


শামীম ওসমানের সাথে রাজনৈতিক কারণে মতপার্থক্য : খোকন সাহা

অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একজন সম্ভাব্য প্রার্থী। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল। এই দলের রাজনীতির সাথে তিনি সম্পৃক্ত আছে ছাত্র অবস্থা থেকে।

ছাত্র জীবন থেকে আজ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারন করে এ দলের সাথে যুক্ত রয়েছেন। দীর্ঘ বর্ণাঢ্য এক রাজনীতি জীবনে দলকে অনেক কিছুই তিনি দিতে সক্ষম হয়েছেন। তাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল তাকে মূল্যায়ন করবেন বলে তার বিশ্বাস।

অ্যাডভোকেট খোকন সাহা’র সাথে তার রাজনীতি জীবন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন আমাদের প্রতিবেদক মিলন বিশ্বাস হৃদয়

কেমন আছেন?
‘এইতো, ভালো”

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আপনি তো নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, সেটা কতটুকু এগুলেন?
“অবশ্যই প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রস্তুতি বলতে নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করা। জনগণের সাথে ব্যাপকভাবে যোগযোগ করা হচ্ছে।”

নৌকা প্রতীক আপনাকে না দিয়ে যদি অন্য কাউকে দেয়া হয়, সেক্ষেত্রে আপনার ভূমিকা কেমন থাকবে?
“আমার ভুমিকা বলতে, নেত্রী যেটা চাইবেন সেটাই আমার ভুমিকা। যাকেই দিক নমিনেশন, আমি তার জন্যই কাজ করবো।”

সেলিম ওসমানের নির্বাচনে আপনি অগ্রভাগে কাজ করেছিলেন। এবারেও যদি তাই হয়, তাহলে কি একই দায়িত্ব পালন করবেন?
“আমিতো আপনাকে বলছি, নেত্রী যাকেই দিবেন নমিনেশন, নেত্রীর ইচ্ছার বাইরে আমি না। আমি একজন প্রার্থী, তারপরও নেত্রী যাকে দিবেন, আমি তার পক্ষেই কাজ করবো।”

আপনি সহ অনেকেই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকা প্রতীক চাচ্ছেন, এ বিষয়ে দলীয় হাই কমান্ডের কাছে লিখিত বা মৌখিক কোনো আবেদন করেছেন কী?
“এটা মৌখিক ভাবে বলা হইছে। বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে বলা হইছে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকা চাই।”

সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আপনি তা সর্বমহলে পরিচিত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তার কোনো সভা-সমাবেশে আপনার অনুপস্থিতি লক্ষ্যনীয়। এটা কেন?
“আমি আপনাকে বলি, শামীম ওসমানের সাথে আমার বন্ধুত্বের সম্পর্ক প্রায় ৪৬ বছর। ক্লাস ফাইভ থেকে তার সাথে আমার বন্ধত্বের সম্পর্ক। ইদানীং কালে কিছু কিছু বিষয় তার সাথে আমার মতপার্থক্য দেখা দিছে। কিন্তু বন্ধুত্ব নষ্ট হয় নাই, বন্ধুত্ব ঠিকই আছে। কিছু কিছু জায়গায় তার সাথে আমার মতপার্থক্য আছে বিদায়, তার সাথে আমাকে দেখেন না। এখানে অন্য কোনো কারণ নেই, শুধুমাত্র মতপার্থক্য। একটা বড় দল। আওয়ামী লীগ-বিএনপির মত বড় বড় দলে একটু মতপার্থক্য থাকবে, এটাই স্বাভাবিক।”

আপনার সাথে শামীম ওসমান, বিশেষ করে ওসমান পরিবারের সাথে প্রকাশ্যে যে দূরত্বটা, সেটা কি ব্যক্তিগত কারনে নাকি আর্দশিক কোনো কারন আছে?
“এটা টোটালটাই রাজনৈতিক জনিত কারন, আর কিছু না।”

কারো কারো ধারনা ওসমান পরিবারের সাথে আপনার প্রকাশ্যে দূরত্ব থাকলেও ভেতরে ভেতরে আপনারা ঠিকই আছেন, এটা লোক দেখানো দূরত্ব, আপনি তাদের হয়েই কাজ করছেন, এ ধারণাটা কতটুকু সঠিক?
“আমিতো আপনাকে আগেই বলেছি, শামীম ওসমান আমার ছোট বেলার বন্ধু। তার আমার ফোরটি সিক্স ইয়ারর্স বন্ধুত্বে সম্পর্ক। এখন আমাদের মধ্যে পারিবারিক অনুষ্ঠান হলে আমরা যাতায়াত করি। সে আমার অনুষ্ঠানে আসে, আমিও যাই। আমি একটা পার্টির সাধারন সম্পাদক। আমি দলের আদর্শের বাইরে কোনো কাজ করিনা এবং দলীয় হাইকমান্ডের বাইরে আমি কোনো কাজ করিনা।”

বর্তমানে আপনারা অনেকেই নৌকার দাবি তুলেছেন পৃথক পৃথক ভাবে, এখানে শামীম ওসমানই ব্যতিক্রম, তিনি এনিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো কথাই বলেন নি, এর কারণ কী হতে পারে?
“এটা সম্পূর্ন শামীম ওসমানের নিজস্ব বিষয়, এটা আমার বিষয় না। না, এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করবো না। এটা শামীম ওসমানের নিজস্ব বিষয়।”

মেয়র আইভী বলেছেন, আওয়ামী লীগের পদ ব্যাবহার করে সেলিম ওসমানের মঞ্চে উঠে যারা লাঙ্গল মার্কায় ভোট চান তারা সুবিধাবাদী, এমন চলতে থাকলে একসময় নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব থাকবেনা, মেয়রের ওই বক্তব্য সমর্থন করেন?
“সেলিম ওসমানের মঞ্চে আওয়ামী লীগের কে কে গেছে, আমি জানিনা। আওয়ামী লীগের পদ পদবীধারী আমার দৃষ্টিতে পড়ে নাই। তবে যদি কেউ গিয়ে থাকেন, অবশ্যই এটা দোষনীয় কাজ করছেন। আমাকে তো আগে জানতে হবে কেউ গিয়েছে কিনা, আমার জানামতে পদ পদবীধারী কেউ গিয়েছে, তা দেখিনা।”

আইভীর বক্তব্যের রেশ ধরে সেলিম ওসমান আলীরটেকে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, আপনারা ছেড়ে দিন, আমি আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিবো। তার এ বক্তব্যকে আপনি কী ভাবে দেখছেন?
“সেলিম ওসমান সাহেবের এই বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বলেই মনে করি।”

মেয়রের এমন কোন সিদ্ধান্ত বা কর্মকান্ড আছে, যা আপনার কাছে ভুল বলে মনে হচ্ছে?
“আমি আপনাকে বলি, ড্রেনের সমস্যাটা। ড্রেনের সিদ্ধান্তটা ভুল, আমি মনেকরি আরও গভীর হওয়ার উচিৎ ছিলো। শহরের পশ্চিমাঞ্চল একটু বৃষ্টিতে এখনও বন্যা হয়ে যায়। তার এটা অবশ্যই ভুল সিদ্ধান্ত। তার এখানে আরও ডিপলি করা উচিৎ ছিলো।”

সাংসদ সেলিম ওসমান দাবি করেন, তিনি সদর বন্দরে যথেষ্ট পরিমান উন্নয়ন  করেছেন। আসলেই কী তিনি খুব ভালো উন্নয়ন করেছেন বলে মনে করেন?
“ওনি একজন সংসদ সদস্য। ওনার দৃষ্টিভঙ্গিতে ওনি অনেক কিছু করে থাকেন। ওনি দান-টান করেন। বিভিন্ন স্কুল কলেজে অনুদান দেন, বিভিন্ন স্কুল কলেজে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওনার অনুদান আছে। আমি মনেকরি, এটা ওনার উন্নয়ণের একটা অংশ।”

মেরুকরণের রাজনীতির কারণে ভোটে কী কোন প্রভাব পড়তে পারে বলে কী মনে করেন?
“আমরা কোনো মেরুকরণে বিশ্বাস করিনা। মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর মেরু-দক্ষিণ মেরুতে বিশ্বাস করেনা। আমরা বিশ্বাস করি সকলকে নিয়ে রাজনীতি করা। আমি কিংবা আমার সভাপতি আনোয়ার ভাই মেরুকরণে বিশ্বাস করিনা। কী উত্তর মেরু-দক্ষিণ মেরু, এটা কোনো মেরুকরনই না। এটা বিশ্বাসই করিনা বিদায়, এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।”

মেরুকরনের রাজনীতি বন্ধ করে সবাইকে এক প্লাটফর্মে আনার কোনো উদ্যে নিয়েছেন?
“এটা উদ্যোগ করা লাগবেনা, এটা রাজনীতির মাঠে ময়দানে এক সময় এটা ঠিক হয়ে যাবে। এটা অটো ঠিক হয়ে যাবে। এটা কোনো উদ্যোগ নিতে হবে না।”

এমপি হলে নারায়ণগঞ্জের কোন উন্নয়নটাকে আপনি সব চাইতে বেশি প্রাধান্য দিবেন?
“আমি সবচেয়ে প্রাধান্য দিবো যানজট নিরসনের জন্য। আপনি জানেন, এটা একটি ছোট্ট শহর। আমি এমপি হলে অনেকগুলো লিংক রোড করবো, নারায়ণগঞ্জ শহরকে যানজট মুক্ত করার জন্য। এবং নারায়ণগঞ্জ শহরটাকে সন্ত্রাস মুক্ত হিসেবে আমি গড়ে তুলবো।”

ধন্যবাদ আপনাকে
“নারায়ণগঞ্জ টুডে’কেও ধন্যবাদ”

৮ নভেম্বর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে