NarayanganjToday

শিরোনাম

শামীম ওসমানের সাথে লড়ে জিতেছি, এবারও জিতবো : গিয়াসউদ্দিন


শামীম ওসমানের সাথে লড়ে জিতেছি, এবারও জিতবো : গিয়াসউদ্দিন

দরজায় কড়া নাড়ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কয়েকদিন বাদেই ভোট। বিএনপি নির্বাচনে না আসার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে এসেছে দলটি। ইতোমধ্যে এই দলের প্রার্থী হতে নারায়ণগঞ্জ থেকে অনেকেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। দীর্ঘদিন মামলায় জর্জড়িত থাকা স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা এখন হতাশা কাটিয়ে ভোটের উৎসবে মেতে ওঠেছেন। ফলশ্রুতিতে চারিদিকেই একটা সাজ সাজ রব।

মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, তিনি সাবেক সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য। ৭১ এ রণাঙ্গনে যুদ্ধ থেকে শুরু করে ভোটের যুদ্ধে অত্যন্ত অভিজ্ঞ এই নেতা। অনেকের কাছে অত্যন্ত কৌশলী হিসেবেই তার সমাদর রয়েছে। জেলার রাজনীতিতে ভিন্ন দলের নেতাদের কাছেও তিনি একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক। নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার কর্মকৌশলেও তার রয়েছে দক্ষতা। সর্বোপরি যে কোনো হেভিওয়েট প্রার্থী বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ার কৌশল, সমর্থ এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা রয়েছে এই নেতার।

ইতোপূর্বে তিনি বেশ কয়েকটি নির্বাচনেই অংশ নিয়েছেন। প্রতিটিতেই দেখেছেন সফলতার মুখ। সব শেষে তিনি নারায়ণগঞ্জ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ)-৪ আসন থেকে প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সন্তান শামীম ওসমানের সাথেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোট ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। এবারও তিনি নেমেছেন ভোট যুদ্ধে। তবে, ভোট যুদ্ধের আগে তাকে নামতে হয়েছে মনোনয়ন যুদ্ধে। তিনি এবারও তার দল বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। কিনেছেন মনোনয়নপত্রও।

গত ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে প্রায় ৪০ টি। শুধু তিনিই নন, তার পরিবারের বিরুদ্ধেও এই সরকার আমলে অসংখ্য মামলা হয়। এমনকি তার কর্মী সমর্থকেরাই গত ১০ বছরে সর্বোচ্চ মামলার আসামী হয়েছেন। মামলা, ভোটের প্রস্তুতিসহ নানা খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে তিনি খোলামেলা কথা বলেছেন অনলাইন নিউজ পোর্টাল নারায়ণগঞ্জ টুডে’র সাথে। অভিজ্ঞ এই রাজনীতিকের সাথে কথা বলেছেন আমাদের নারায়ণগঞ্জ টুডে সম্পাদক সীমান্ত প্রধান

ভোটের প্রস্তুতি কেমন?
প্রস্তুতি ভালো। এই প্রস্তুতি অনেক আগের থেকেই নেওয়া। দলীয় হাই কমান্ড নির্বাচনের জন্য অনেক আগের থেকেই মাঠে নামতে বলেছিলেন। সে নির্দেশনা মোতাবেক নির্বাচনী কাজ অনেকটাই এগিয়ে নিয়েছি। এখন শুধু অপেক্ষার পালা।

আপনি তো নারায়ণগঞ্জ (সিদ্ধিরগঞ্জ-ফতুল্লা)-৪ থেকে নির্বাচন করবেন?
হ্যাঁ, ইতোপূর্বে এই আসন থেকেই নির্বাচন করেছিলাম। এই আসনের ভোটারদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমাকে তাদের প্রতিনিধি বানিয়ে মহান সংসদে পাঠিয়েছিলেন। এবারও তারা আমাকে নিরাশ করবেন না বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

এ আসনে তো আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমান। এবারও তিনি প্রার্থী হচ্ছেন। তার সাথে কতোটা কুলিয়ে ওঠবেন?
(কিছুটা হেসে) তিনি (শামীম ওসমান) প্রভাবশালী এতে সন্দেহ ছিলো না, এখনও নেই। ২০০১ সালে কিন্তু আমি তার বিপরীতেই নির্বাচন করে বিপুল ভোট ব্যবধানে জিতেছিলাম। এবারও এর ব্যত্যয় হবে না। তার বিপরীতে ভোটে লড়ার মতো সক্ষমতা আমার রয়েছে। ইনশাল্লাহ, বিগত দিনের মতো এবার তার বিপক্ষে লড়ে জয় ছিনিয়ে আনতে পারবো।

শামীম ওসমানের সাথে লড়াইটা কী খুব সহজ হবে?
না। তার সাথে লড়াইটা সহজ হবে না। কিন্তু তার সাথে জেতাটা অসম্ভব নয়। তবে তিনি আসন ধরে রাখার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করবেন। এজন্য তিনি পেশী শক্তির ব্যবহারও করবেন। অতীতেও তিনি তাই করেছেন। তবে, এসবে আমি ভীত নই। সাধারণ ভোটারদের সাথে নিয়ে প্রতিটি ভোটের সহী হিসেব বুঝে নেওয়ার সক্ষমতা আমিও রাখি।

এর মানে কী আপনিও পেশি শক্তির ব্যবহার করবেন?
একদমই না। আমি সাধারণ জনগণকে নিয়ে ভোট কেন্দ্রে পাহারা বসাবো। জনগণ যাতে তার প্রতিটি ভোটের সঠিক হিসেবে বুঝে পান সে ব্যবস্থা এবং চেষ্টা করবো। ২০০১ সালে তেমনটি করেছিলাম। তখনও তিনি পেশি শক্তির মাধ্যমে আসন ধরে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন। আমাদের অনেক এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বেরও করে দিয়েছিলেন। এমনকি ধানের শীষের ব্যাজ পরা দেখলেই তাকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেননি। তারপরও আমরা জিতেছি, লড়াই করে। সেই লড়াইটা কিন্তু সহজ ছিলো না।

সবেমাত্র মনোনয়নপত্র কিনেছেন। আপনার পাশাপাশি এখান থেকে আরও অনেকেই কিনেছেন। প্রার্থী হতে চাচ্ছেন। এতো প্রার্থীর ভিড়ে দল কী আপনাকে মনোনীত করবেন?
আশাতো করি দল আমাকে নিরাশ করবে না। বাকিটা দলীয় হাইকমান্ডের ইচ্ছে। দলীয় হাই কমান্ডের বাইরে আমরা কেউ নই। তবে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিবেচনায় এটুকু অন্তত প্রত্যাশা করি, দল আমাকেই মনোনয়ন দিবে।

দল থেকে অন্য কাউকে যদি মনোনীত করা হয়?
আগেই তো বলেছি, দলের বাইরে আমার কোনো সিদ্ধান্ত নেই। আমাদের একটাই লক্ষ্য, আসন পুনরুদ্ধার।

জেলার ৫টি আসনই ক্ষমতাসীনদের দখলে। এই আসনগুলো পুনরুদ্ধার করতে পারবেন বলে মনে করেন?
আমাদের চ্যালেঞ্জটাইতো এখানে। আমরা পাঁচটি আসনই পুনরুদ্ধার করতে চাই। আর সেটি সম্ভব, যদি প্রার্থীতার ক্ষেত্রে কোনো ধরণের ভুল সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়।

ভুল সিদ্ধান্ত! ব্যাপারটা একটু বুঝিয়ে বলবেন?
বিষয়টা হলো নির্বাচন। নির্বাচনে ভোটযুদ্ধ হলেও আমার কাছে এটি একটি খেলা। আর প্রতিটি খেলাতেই লুকিয়ে থাকে জেতার কৌশল। এখানেও আছে। এই কৌশলটা যারা জানবে তারাই জিতে আসতে পারবে। ফলে প্রার্থী যাদেরকেই করা হোক, তাদের অবশ্যই ভোটের মাঠে অভিজ্ঞ হতে হবে। আর সেটি হলে আসন পুনরুদ্ধার অসম্ভব নয়।

আবার ফিরে আসি শামীম ওসমান প্রসঙ্গ। তার দাবি মতে তিনি বিগত পাঁচ বছরে ৭ হাজার ৪ কোটি টাকার উন্নয়ন করেছেন এখানে। তাহলে তার এতো উন্নয়নের পর মানুষ আপনাকে কেন ভোট দিবেন?
হুম। কঠিন প্রশ্ন। তিনি (শামীম ওসমান) উন্নয়ন করেছেন! আদতে সেসব কথা মুখে মুখেই তিনি বলে আসছেন। বাস্তবে কিন্তু সেসবের অস্তিত্ব নেই। তিনি নিজেই একবার বলেছিলেন, সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভূক্ত সিদ্ধিরগঞ্জে মেয়র তাকে একটি ইটও গাড়তে দেননি। তাহলে ধরে নিলাম, এখানে তিনি কিছু করেননি। বাকী রইলো ফতুল্লার পাঁচটি ইউনিয়ণ। সেসব ইউনিয়ণের কোথায় তিনি কী করেছেন, কোন উন্নয়নটা দৃশ্যমান, সেটি আপনিই বলুন?

ডিএনডি’র জলাবদ্ধতা নিরসনে তো উনি কাজ করছে। এই কাজটির কৃতিত্ব কী তাকে দিবেন না?
অবশ্যই তার কৃতিত্ব রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই ডিএনডি’র (ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা) যে উন্নয়নের কথা তিনি বলছেন এর পুরো কৃতিত্ব তার নয়। এখানে আরও দুজন এমপি রয়েছেন (ঢাকা-ডেমরা)। তাছাড়া উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। সময়ের সাথে সাথে আপনাকে উন্নয়ন কর্মকা- করতেই হবে।

আবারও যদি সংসদ সদস্য হতে পারেন তবে, কোন কোন বিষয়গুলোকে প্রধান্য দিবেন?
আসলে উন্নয়নটাকে আমি দুই ভাগে ভাগ করি। একটি অবকাঠামোগত আরেকটি আর্থ-সামাজিক ও সমাজ সুরক্ষা। আপনি যদি শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করে যান তাহলে সেটি কিন্তু সার্বিক উন্নয়ন নয়। আমি উভয় দিকেই প্রাধান্য দেবো। অতীতেও তাই দিয়েছি।

এছাড়া বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন কী?
হ্যাঁ, সেটি কিছুটা করেছি।

সেটি কেমন?
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা এখানেই করার চিন্তা ভাবনা রয়েছে। এ জন্য এখানকার স্কুল কলেজগুলোকে আধুনিকে মান্নোয়ন করা, পাঠদানে নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো। শিশুদের মানসিক বিকাশে সহায়ক কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া তরুণ ও যুব সমাজকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তাহলে কী এগুলোই আপনার উন্নয়ন?
এগুলো এক ধরণের উন্নয়ন। আর্থ-সামাজিক ও সমাজ সুরক্ষার জন্য এসব জরুরী। অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে বিভিন্ন। সেগুলো হচ্ছে চলমান প্রক্রিয়া। অবকাঠামো উন্নয়নগুরো মানুষের কল্যাণে। মানুষ ব্যবহার করবে। কিন্তু মানুষের উন্নয়নটা হচ্ছে অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ। যা অতীতে আমি প্রাধান্য দিয়েছি, ভবিষ্যতেও দেবো। কেননা, মানুষের নৈতিকতা, শিক্ষার ক্ষেত্রে যদি উন্নয়ন না হয় তাহলে, অবকাঠামো উন্নয়নগুলো কাজে আসবে না। সুতরাং মানুষের জীবনযাত্রায় সার্বিক উন্নয়ন সাধিত হলে মানুষ নিজেই তার অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মকান্ড সংঘটিত করতে পারবে তার ভেতরে থাকা সচেতনতা বোধ থেকে।

উপরে