NarayanganjToday

শিরোনাম

১৬ বছরেও সাব্বির হত্যার বিচার না হওয়া দুঃখজনক : গিয়াসউদ্দিন


১৬ বছরেও সাব্বির হত্যার বিচার না হওয়া দুঃখজনক : গিয়াসউদ্দিন

দীর্ঘ ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও সাব্বির আলম খন্দকার হত্যার বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন।

স্বার্থান্বেষী কোনো মহলের কারণেই সাব্বির আলম হত্যার বিচার হচ্ছে না বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সাব্বির খুনীদের খুঁজে বের করা দরকার। আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।

গিয়াসউদ্দিন বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে নতুন নতুন অপরাধ সংঘটনে উৎসাহিত হয় অপরাধীরা। তাই অপরাধ প্রবণতাকে নিরুত্তাসাহিত করার জন্য এবং একজন সৎ ন্যায় পরায়ন ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে হত্যা করার বিচার করাটা বাঞ্ছনীয়। তা না হলে সমাজ থেকে অপরাধ আর অপরাধীদের নির্মূল করা সম্ভব হবে না।

সাব্বির হত্যা মামলায় আপনাকে মূল আসামী করা হয়েছিলো। পরে আবার সেখান থেকে আপনাকে বাদ দেয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আপনি আপনার নাম প্রত্যাহার করিয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই সাংসদ বলেন, এক এগারর সময়ে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে মামলা হয়েছিলো। যা ছিলো রাজনৈতিক। আদতে কি তারা সেসব অভিযোগের সাথে সম্পৃক্ত? না। সবটাই ছিলো প্রতিহিংসামূলক।

তিনি বলেন, সাব্বিরকে আমি ছোট ভাইয়ের মতোই ভালোবাসতাম। ও নিয়মিতই আমার বাড়িতে আসা যাওয়া করতো। সে খুব ভালো ফুটবল খেলতো। আমি তখন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তখন তাকে কাছে বসাতাম। আদর করতাম। এমনকি ভালো খেলার কারণে তাকে স্যুট-কোটও কিনে দিয়েছিলাম। সব থেকে বড় কথা হলো, তৈমূর ভাই নিজেই ভালো করে জানেন আমি সাব্বিরকে কতটা ভালোবাসতাম, স্নেহ করতাম।

এছাড়া তিনি বলেন, আমাদের নেতৃত্বাধীন সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর দুই বছর তত্বাবধায়ক সরকার ছিলো। তখন আমি কারাগারে। ওই সময়ও এই হত্যার তদন্ত হয়েছে। এরপর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এখানে আমার প্রভাব কোথায়? বরং আমি নিজেই তো একের পর এক মামলা হামলায় জর্জড়িত।

তাহলে এই মামলার বাদী তো তৈমূর আলম খন্দকারই ছিলো। তিনি কেন আপনার নাম দিয়েছিলেন? এই প্রশ্নের জবাবে গিয়াসউদ্দিন বলেন, তখন তৈমূর ভাই এবং আমার মধ্যে বৈরি একটা সম্পর্ক চলছিলো। ভুল বোঝাবুঝির কারণে সেটি হয়। আর সেই প্রতিহিংসা থেকেই নামটা দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু পরবর্তিতে তিনি নিজেও বুঝতে পেরেছিলেন সেটি ভুল।

এছাড়াও সাবেক এই সাংসদ বলেন, তৈমূর ভাই আর আমার মধ্যকার যে ভুলবোঝাবুঝি চলছিলো তার ফায়দা নিতে তৃতীয় কোনো একটি পক্ষ কাজ করেছিলেন। তবে তারা শেষ পর্যন্ত আর সফল হয়নি। আমি মন থেকে চাই সাব্বির হত্যার বিচার হোক। প্রকৃত অপরাধিরা চিহ্নিত হোক। বিচার হোক তাঁদের।

গিয়াসউদ্দিন আরও বলেন, শুধু সাব্বির আলম খন্দকারই নয়, প্রতিটি হত্যাকা-ই অত্যন্ত জঘন্যতম অপরাধ। তাই এসব ঘটনা যারাই ঘটিয়ে থাকেন তারা নর্দমার কীটের থেকেও নিকৃষ্ট। ফলে সকল হত্যাকা-ের বিচার হোক। এটুকুই আমার চাওয়া।

প্রসঙ্গত, শহীদ সাব্বির আলম খন্দকার গত ২০০২ইং সালে তৎকালীন সরকার কর্তৃক সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী ও মাদকের বিরুদ্ধে ক্লিনহার্ট অপারেশন চলাকালীন নারায়ণগঞ্জের ৩২টি ব্যবসায়ী সংগঠনের সাথে সেনাবাহিনীর বৈঠককালে নিজের জীবন বিপন্ন জেনেও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন। তিনি বক্তব্য শুরুর প্রথমেই ‘আমার জানাযায় অংশ গ্রহন করার আহ্বান জানিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমার বক্তব্য শুরু করছি’ বলে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ী ও তাঁদের দোসরদের নামের তালিকা প্রকাশ করেন।

বিশেষ করে তিনি বিকেএমইএ ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সহ-সভাপতি হিসাবে রাজনৈতিক পরিচয়ে তৎসময়ে গার্মেন্টস্ মালিকদের উপর সন্ত্রাসীদের চলমান অত্যাচার ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।

শহীদ সাব্বির আলম খন্দকারের তৎপরতায় তৎসময়ে সন্ত্রাসীরা কোনঠাসা হয়ে পরে। তিনি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী ও মাদকের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণার ৪ মাসের মাথায় ও ক্লিনহার্ট অপারেশন প্রত্যাহারের ১ মাসের মাথায় সন্ত্রাসীরা প্রাতঃ ভ্রমণকালীন সময়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে।

জাতীয়ভাবে সাব্বির হত্যার বিচারের দাবীতে এফবিসিসিআইসহ সকল ব্যবসায়ী সংগঠন তৎপর থাকলেও প্রশাসনের অবহেলায় মামলাটি ডিপ ফ্রিজে চলে যায়।

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে