NarayanganjToday

শিরোনাম

বাবু একজন চরিত্রহীন, তার নারী কেলেঙ্কারি সবাই জানে : হাবিব


বাবু একজন চরিত্রহীন, তার নারী কেলেঙ্কারি সবাই জানে : হাবিব

‘আমি মাদকাসক্ত নয় বরং কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু নিজেই মাদকসেবি, সে রাতভর তার অফিসে বসে মাদক সেবন করে আর বিচার করেন। এছাড়া তার চরিত্রের কোনো ঠিক নেই। একাধিক বিয়ে এবং বিয়ের নামে ধোঁকাবাজি করে’ বলে দাবি করেছেন ফুডল্যান্ডের মালিক হাবিবুর রহমান হাবিব।

এর আগে কাউন্সিলর বাবু দাবি করেছিলেন, ‘হাবিব মাদকাসক্ত, তার স্ত্রী একবার নয় কয়েকবার এসে আমার কাছে বিচার দিয়েছিলেন যা ভিডিও ফুটেজও আছে।’ এ প্রসঙ্গে শুক্রবার (২৮ জুন) মুঠোফোনে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ টুডে’র কাছে হাবিব ওই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

এদিকে হাবিব বলেন, “আমার স্ত্রী তার কাছে গিয়ে এসব কথা বলেছেন কিনা আমি জানি না। যদি এই ভিডিও তার কাছে থেকে থাকে তাহলে আমাকে যে পিস্তল ঠেকিয়ে লিমন, দারুন তার অফিসে নিয়ে গেছে সে ভিডিও আছে। আসলে বড় কথা হচ্ছে বাবু নিজে একজন চরিত্রহীন। তার নারী কেলেঙ্কারির অভাব নেই। মুন নামে একটি ছেলের বোনকে বিয়ে করেছিলো প্রলুব্ধ করে। পরে তাকে ছেড়ে দেয়। এ পর্যন্ত সে তিনটা চারটা বিয়ে করেছেন। তার চরিত্রের ঠিক নেই।”

নিজেকে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া সম্পতি বলে কোটিপতি দাবি করে হাবিব আরও বলেন, “বাবু ছিলো একজন গাড়ির ম্যাকানিংক। এখন কিছু পয়সার মালিক হয়ে সে মানুষকে মানুষ মনে করে না। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য চাঁদাবাজির প্রমাণ মানুষের মুখে মুখে। এলাকাবাসী তার সম্পর্কে অনেক ভালো জানি। তার নারী কেলেঙ্কারির খবরও মানুষের অজানা নয়। সে যে একজন চরিত্রহীন মানুষ সেটিও এলাকার লোকজন জানে।”

এদিকে, হাবিবের দাবি করা প্রতিটি অভিযোগই অস্বীকার করেছেন কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবু। একই সাথে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, “সে (হাবিব) একজন পাগল। একজন মাদকাসক্ত এবং অবৈধ অস্ত্রধারী। আমি হাবিব সম্পর্কে এসব কথার প্রতিটির প্রমাণ দিতে পারবো। তার স্ত্রী এসে আমাকে এসব বলেছে। তার স্ত্রী এসে আরও বলেছে সে বিভিন্ন নারীদের সাথে নষ্টামি করে বেড়ায়। এসব কিছুর প্রমাণ স্বরূপ ভিডিও রেকর্ডও আমার কাছে আছে।”

প্রসঙ্গত, ২৫ জুন রাতে শহরের পাইকপাড়া এলাকায় অবস্থিত হাবিবের মালিকানাধিন ফুডল্যান্ড বেকারীতে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। এসময় তারা ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটও করে। যা সিসি টিভির ফুটেজেও সংগৃহিত রয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক হাবিব।

এ ঘটনায় ২৬ জুন সদর মডেল থানায় দারুন, রমজান, পিন্টু, শিপলু ও ম্যাঙ্গোর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামী করে ২০ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন হাবিব। তবে, মামলাতে আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবু এবং লিমন ফকিরের নাম না থাকলেও নতুন করে এ দুই নাম অন্তর্ভূক্তির জন্য আবেদন করা হবে বলেও জানিয়েছেন হাবিব।

এদিকে ফুডল্যান্ডে হামলা, ভাঙচুর ও লটুপাটের ঘটনায় যারা সম্পৃক্ত এবং যাদেরকে মামলায় আসামী করা হয়েছে তারা সকলেই প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমান পুত্র আজমেরী ওসমানের অনুসারি বা লোক হিসেবে সর্বত্র পরিচিত। আবার মামলার বাদী যিনি সেই হাবিবুর রহমান হাবিবও আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠজন এবং মহানগর যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক।

এ ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের দাবি, ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। তবে, হাবিব এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা ভিডিও ফুটেজে আছে কিনা সে ব্যাপারে এখনও আমি জানি না। আমাকে ডাকা হয়নি। আমি দেখলে বুঝতে পারবো। তারপর বোঝা যাবে তারা কার লোক। আর সেটি তদন্ত করে বের করার দায়িত্ব পুলিশের।

২৮ জুন, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে