NarayanganjToday

শিরোনাম

হাবিব একজন মেন্টাল, সে অসংখ্য নারীর সাথে নষ্টামি করে বেড়ায় : বাবু


হাবিব একজন মেন্টাল, সে অসংখ্য নারীর সাথে নষ্টামি করে বেড়ায় : বাবু

কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবু চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, ‘ফুডল্যান্ডের মালিক হাবিব একজন পাগল। এ কথা এলাকাবাসী সবাই জানে। সে একজন মাদকাসক্ত। ছয় মাস সে ভালো থাকে, ছয় মাস মেন্টাল থাকে। সে নিজে বিভিন্ন নারীর সাথে নষ্টামি করে বেড়ায়। এসব কিছু তার স্ত্রী আমাকে বলেছে। সেসব অভিযোগের ভিডিও রেকর্ড আমার কাছে আছে। আর আমি একাধিক বিয়ে করেছে সেসবের প্রমাণ তাকে দিতে হবে, কাবিননামা দেখাতে হবে।’

১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবুকে নিয়ে ফুডল্যান্ডের মালিক হাবিবুর রহমান হাবিবের মন্তব্য প্রসঙ্গে শুক্রবার (২৮ জুন) মুঠোফোনে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ টুডে’র কাছে কাউন্সিলর বাবু ওই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।

তিনি দাবি করে বলেন, “আমি যদি মাদকাসক্ত হতাম তাহলে এলাকাবাসীর এত ভালোবাসা আমি পেতাম না। আর আমি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলছি, আমি যদি মাদকাসক্ত হই তাহলে পরীক্ষা করানো হোক। আর সে যে মাদকাস্ত এটা প্রমাণিত। দরকারে তাকেও পরীক্ষা করানো হোক। আমি একজন জনপ্রতিনিধি মানুষের সেবা করে যাচ্ছে। তাকে (হাবিব) দিয়ে কেউ না কেউ এসব বলাচ্ছে।”

বিয়ে প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কাউন্সিলর বাবু বলেন, “বিয়ে করা কোনো অন্যায় নয়। কিন্তু সে যে বলেছে অসংখ্য বিয়ে করেছি তার প্রমাণ দেখাতে বলেন তাকে। কাবিননামা দেখাতে বলেন। সে নিজে একজন চরিত্রহীন আর সেটি তার স্ত্রী আমার কাছে বলেছে। এর ভিডিও ফুটেজও আমার কাছে আছে।”

গাড়ির ম্যাকানিংক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি কখনোই গাড়ির ম্যাকানিংক ছিলাম না। আমি জন্মের পর থেকেই গাড়িতে করে চড়েছি। হ্যাঁ আমরা গাড়ির ব্যবসা করেছি। আর সে (হাবিব) ছিলোতো একজন বিস্কুটের কারিগর। অস্ত্র ঠেকিয়ে তার বড় ভাই হারুনুর রশিদকে নারায়ণগঞ্জ ছাড়া করেছে। সম্পত্তি দখল করেছে সে। অথচ হারুনুর রশিদ অত্যন্ত ভালো মানুষ। তিনিই ফুডল্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেছেন।”

এছাড়াও বাবু বলেন, “আমরা জানতাম তার অস্ত্র বৈধ। কিন্তু তার স্ত্রী নিজে বলেছে তার কাছে অসংখ্য অস্ত্র আছে। সব অবৈধ অস্ত্র। সে বাহিনী নিয়ে চাঁদাবাজি করে। মহড়া দেয়। আমিতো সন্ত্রাসী করিনা। চাঁদাবাজিও করি না। তার মতো একজন পাগলকে দিয়ে কেউ না কেউ এসব বলাচ্ছে।”

আপনার বিরুদ্ধে হাবিবের উত্থাপিত অভিযোগ যদি মানহানিকর হয়ে থাকে। সে যদি আপনাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এসব বলে থাকে। তাহলে কি তার বিরুদ্ধে কোনো রকম লিগ্যাল অ্যাকশনে যাবেন কিনা জানতে চাইলে কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু বলেন, “ওর মতো পাগলের বিরুদ্ধে আমি কি স্টেপ নেব। যা করার তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসিই প্রতিবাদ করবে। এর জবাব এলাকাবাসীই দিবে।”

প্রসঙ্গত, ২৫ জুন রাতে শহরের পাইকপাড়া এলাকায় অবস্থিত হাবিবের মালিকানাধিন ফুডল্যান্ড বেকারীতে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। এসময় তারা ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটও করে। যা সিসি টিভির ফুটেজেও সংগৃহিত রয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক হাবিব।

এ ঘটনায় ২৬ জুন সদর মডেল থানায় দারুন, রমজান, পিন্টু, শিপলু ও ম্যাঙ্গোর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামী করে ২০ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন হাবিব। তবে, মামলাতে আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবু এবং লিমন ফকিরের নাম না থাকলেও নতুন করে এ দুই নাম অন্তর্ভূক্তির জন্য আবেদন করা হবে বলেও জানিয়েছেন হাবিব।

এদিকে ফুডল্যান্ডে হামলা, ভাঙচুর ও লটুপাটের ঘটনায় যারা সম্পৃক্ত এবং যাদেরকে মামলায় আসামী করা হয়েছে তারা সকলেই প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমান পুত্র আজমেরী ওসমানের অনুসারি বা লোক হিসেবে সর্বত্র পরিচিত। আবার মামলার বাদী যিনি সেই হাবিবুর রহমান হাবিবও আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠজন এবং মহানগর যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক।

এ ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের দাবি, ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। তবে, হাবিব এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা ভিডিও ফুটেজে আছে কিনা সে ব্যাপারে এখনও আমি জানি না। আমাকে ডাকা হয়নি। আমি দেখলে বুঝতে পারবো। তারপর বোঝা যাবে তারা কার লোক। আর সেটি তদন্ত করে বের করার দায়িত্ব পুলিশের।

২৮ জুন, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে