NarayanganjToday

শিরোনাম

উত্তর-দক্ষিণ মেরু বলে কিছু নেই, যা আছে তা প্রতিযোগিতা : উজ্জল


উত্তর-দক্ষিণ মেরু বলে কিছু নেই, যা আছে তা প্রতিযোগিতা : উজ্জল

নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান আলী আহম্মদ চুনকার ৫ সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ আহম্মদ আলী রেজা উজ্জল। তিনি বর্তমানে রয়েছেন শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। তার বড় বোন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের দুই বারের নির্বাচিত মেয়র। একটি রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম তার। বাবাকে দেখেই রাজনীতিতে আসার আগ্রহ। শুরুটাও হয়েছিলে তার বাবার হাত ধরে।

আলী আহম্মেদ রেজা উজ্জলের রাজনীতিক, সামাজিক এবং ব্যক্তিগত নানা দিক নিয়ে তার সাথে কথা বলেছেন আমাদের নারায়ণগঞ্জ টুডে’র নিজস্ব প্রতিনিধি লিজা চৌধুরী। খোলামেলা আলোচনায় উজ্জল জানিয়েছেন রাজনীতি, সামাজিকসহ তার ব্যক্তিগত জীবনের নানা খুটিনাটি বিষয়।

উজ্জলের রাজনীতিতে আসার মূল লক্ষ্যই ছিলো মানব সেবা। মানুষের জন্য কিছু করতে চাওয়ার নেশা থেকেই সক্রিয় রাজনীতিতে তিনি সম্পৃক্ত হন। তার মতে, ‘রাজনীতি এমন একটি প্লাটফর্ম, এখানে সক্রিয় থাকলে মানুষের জন্য অতিদ্রুত কিছু করা সম্ভব।’ তিনি তার বাবাকেও দেখেছেন মানুষের সেবায় নিয়োজিত হতে তাই বাবাকে দেখে দেখে তিনিও আগ্রহী হয়ে উঠেন এবং রাজনীতিতে আসেন।

ছবিঃ মিলন বিশ্বাস হৃদয়

ছোটবেলা থেকে তিনি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও কোনো সংগঠনের কোনো পদে ছিলেন না। তবে, তিনি রাজনীতিতে পুরোপুরি ভাবে সক্রিয় হোন ২০০৬ সালের দিকে তথা ওয়ান ইলাভেন সরকার সময়ে। সেসময় আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার পর নারায়ণগঞ্জে জরুরী অবস্থাকেও পাশ কাটিয়ে প্রথমবারের মতো বিক্ষোভ মিছিল হয়েছিলো, যার অগ্রভাগেই ছিলেন আহম্মেদ আলী রেজা উজ্জল।

সামাজিক ভাবেও বেশ কাজ করছেন আহম্মদ আলী রেজা উজ্জল। তিনি ১৯৯০ সালে বঙ্গসাথী নামক সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে প্রথম কোনো সামাজিক সংগঠনে জড়িত হন। এরপর তিনি ব্যক্তিগত ভাবে ৫টি স্কুলের চেয়ারম্যান। এগুলো হচ্ছে প্লে পেন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, আলী আহম্মদ চুনকা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, শিশুবাগ বিদ্যালয়, মেঘনাস ও কলরব ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। এছাড়াও তিনি অসংখ্য সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন।

অবসর সময়ে আড্ডা করেই কাটাতে ভালোবাসেন আহম্মদ আলী রেজা উজ্জল। তাকে অনেকেই আড্ডাপ্রিয় মানুষ হিসেবেই জানেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি বিবাহিত। পারিবারিক ভাবেই তিনি বিবাহ বন্ধনে আব্ধ হন। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক উজ্জল। তার ছেলে আহম্মেদ চিশতি রাবিন এবং মেয়ে আহম্মেদ ফাতেমা মৃত্তিকা এবিসি স্কুলে পড়াশোনা করছেন।

আহম্মদ আলী রেজা উজ্জল বর্তমানে মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকলেও তার এই কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে আরও আগেই। নতুন করে কমিটি গঠনেরও উদ্যোগ নেই। তবে, উজ্জল জানিয়েছেন, ‘কমিটি গঠন করার পুরোপুরি এখতিয়ার তার সংগঠনের চেয়ারম্যানের।’ এখানে তাদের কোনো হাত নেই। তবে, নতুন কমিটি খুব শিগগিরই গঠন করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

অপরদিকে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুকরণ যে রাজনীতি শহরে বিরাজমান স্পষ্ট রয়েছে সেটি তিনি মানতে রাজি নন। তার মতে, ‘এখানে দক্ষিণ আর উত্তর মেরু বলতে কোনো কিছু নেই। আমরা সবাই জাতির জনকের আদর্শের রাজনীতি করি। আমাদের মধ্যে যা আছে সেটি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতা দলের মধ্যে কোনো প্রভাব ফেলবে না।’

তবে, যে বিভাজন দেখা যাচ্ছে তথা দুই দিকের রাজনীতিতে যে প্রতিযোগিতা বা মেরুকরণ চলছে তা কেন, সেটি বলা কঠিন বলে দাবি করেন উজ্জল। তার মতে, ‘আমার পূর্বপুরুষ যারা  রাজনীতি করেছেন তারাই এ বিয়ষটা ভালো বলতে পারবেন।’

উজ্জলের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো তার বড় বোন মেয়র আইভীর একটি ব্যর্থতা ও একটি সফলতার কথা। তবে, তার চোখে মেয়রের কোনো বর্থ্যতা নেই বলেই তিনি দাবি করেন এবং সফলতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি মেয়র। তার সব থেকে বড় গুণ তিনি মানুষের পাশে আছেন। তিনি তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কে আওয়ামী লীগ, কে বিএনপি সে বিভাজন করেন না। তিনি যখন মেয়র, তার কাছে সবই এক। যেমন আমাদের নেত্রী মানুষকে ভালোবাসেন, উন্নয়ন তার নেশা আমাদের মেয়রও সেদিকটাকেই লক্ষ্য রাখেন।’

অন্যদিকে তার এলাকার স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমান। তার একটি ভালো ও মন্দ দিক সম্পর্কেও তার কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয়। তবে, তিনি সাংসদের ভালো-মন্দ কোনো কিছু নিয়েই কোনো মন্তব্য করবেন না বলেই জানান। তবে তিনি সাংসদ সম্পর্কে বলেন, ‘ভাল কাজ অবশ্যই সমর্থন করি, খারাপ কাজকে মেনে নিতে পারি না, সে যে হোক।’ তবে, সাংসদের ব্যর্থতা বা সফলতা সেভাবে তার চোখে পড়ে না বলেই তিনি জানান।

নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ সবসময় সুংসগঠিত ছিলো এখনও আছে দাবি করে উজ্জল বলেন, ‘আমরা যে সুসংগঠিত ছিলাম তার বড় প্রমাণই হচ্ছে ওয়ান ইলাভেন। সেসময় আমাদের যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ প্রায় সকল সংগঠনই আমরা আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি। বর্তমানে এখানকার আওয়ামী লীগ অত্যন্ত সুসংগঠিত রয়েছে।’

ভবিষ্যতে নির্বাচন করবেন কিনা সেটি এখনই তিনি বলতে পারছেন না। তবে, তিনি জানিয়েছেন ‘ভবিষ্যতের কথা ভবিষ্যতেই বোঝা যাবে। আল্লাহর হুকুম না হলেও কেউ জনপ্রতিনিধি হতে পারে না। তার হুকুম যদি কখনো হয়, এবং তিনি তখন যেখানে বসাবেন সেখানেই বসবো।’ কখনো ক্ষমতা পেল বা আসলে তিনি একটা কাজই করতে চান, আর সেটি হলো ‘মানুষের সেবা’। মানসেবার উপরে বড় কোনো কাজ আর কিছু হতে পারেন না বলেই তিনি মনে করেন।

সমাজে আজ মাদকের ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সর্বত্রই মাদকের ছড়াছড়ি। এর থেকে আমাদের যুব সমাজকে বেরিয়ে আসতে হবে। এই যুব সমাজই পারে মাদকমুক্ত সমাজ উপহার দিতে। সমাজ ও দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যুব সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত জরুরী। তাই নতুন যারা রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী তাদেরকে বলবো, মানসেবার ব্রত নিয়ে যেন আসে। কেননা, মানবসেবার বাইরে অন্যকোনো উদ্দেশ্য নিয়ে আসলে দেশের কোনো লাভ হবে না।’

৩ জুলাই, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে