NarayanganjToday

শিরোনাম

শামীম ওসমানের সাথে আঁতাত করলে হামলা-মামলা হতো না : টিটু


শামীম ওসমানের সাথে আঁতাত করলে হামলা-মামলা হতো না : টিটু

একসময় কুতুবপুর ছিলো সন্ত্রাসের জনপদ। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য রাজনৈতিক আশ্রয়ের দরকার ছিলো। সে হিসেবে বিএনপিকে শান্তিপূর্ণ দল ভেবে এই দলটির যুব সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হন শহিদুল ইসলাম টিটু। ১৯৮৯ সালে কুতুবপুরের বর্তমান চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুর মাধ্যমেই রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি। এর পূর্বে ছিলেন ফতুল্লা থানা যুবদলের সভাপতি।

ব্যক্তি জীবনে তিন সন্তানের জনক শহিদুল ইসলাম টিটু রাজনীতির পাশাপাশি একজন ব্যবসায়ী হলেও বর্তমানে সরকারি দলের হামলা মামলার কারণে এখন পুরোদস্তর রাজনীতিক। আগামীতে সুযোগ পেলে নির্বাচন করার ইচ্ছে রয়েছে তার। অবসর সময়ে স্ত্রী সন্তানদের নিয়েই সময় কাটান। স্বপ্ন দেখেন মানব সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার।

রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি ইমারত নির্মাণ শ্রমিকের সভাপতি, পাগলা বাজার সমবায় সমতির উপদেষ্টা, মসজিদ ও কবরস্থান কমিটিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন শহদিুল ইসলাম টিটু। তিনি তার ব্যক্তিগত, অব্যক্তিগত, রাজনীতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন নারায়ণগঞ্জ টুডে’র সাথে। টিটুর এই সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক লিজা চৌধুরী

অর্থের বিনিময়ে ফতুল্লা থানা যুবদলের সভাপতি হয়েছিলেন, বর্তমানেও জেলা যুবদলের কমিটির সভাপতি একই পথ অনুসরণ করে হয়েছেন শহিদুল ইসলাম টিটু। এমন অভিযোগ তার সংগঠনের সাথে যুক্ত সাবেক বর্তমান অনেকেরই। কিন্তু টিটুর দাবি ভিন্ন। তিনি জানিয়েছেন, দু একটি পত্রিকাতে এমন লিখে। এসব মিথ্যা কথা। ভিত্তিহীন। পুরনো সাংবাদিকরা জানেন, অর্থের বিনিময়ে আমি কমিটি আনবো না। দলের জন্য কাজ করেছি তাই দল থেকে সভাপতি পদটি উপহার স্বরূপ পেয়েছি।

টিটুর দাবি, জেলা যুবদলের সভাপতি হতে অনেকেই চেয়েছিলেন। প্রতিযোগিতাও হয়েছে। অনেক বড় ব্যবসায়ীরাও কমিটি চেয়েছিলেন। তাদের সাথে টেক্কা দিয়ে টাকায় কমিটি আনা আমার পক্ষে সম্ভব হতো না। কারণ আমার টাকা নাই। দল আমাকে যোগ্য মনে করেছে তাই সভাপতি হয়েছি।

শুধু তাই নয়, জেলা যুবদলের কমিটি পাওয়ার পর অযোগ্যদের হাতে বিশেষ বিবেচনায় থানা কমিটি তুলে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে জেলা যুবদলের এই সভাপতির বিরুদ্ধে। এ বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন।

ছবি : মিলন বিশ্বাস হৃদয়

টিটু বলেন, ফতুল্লা যুবদল যাদের হাতে দিয়েছি তারা যথেষ্ট অ্যাক্টিভ। দলের প্রতি তাদের একনিষ্ঠতাই কমিটি পেয়েছে। যার অতীতে কাজ করেছে। বর্তমানেও করছে। তাদের মধ্য থেকে যোগ্যদের হাতেই নেতৃত্বে দেওয়া হবে। এখানে কোনো বিশেষ বিবেচনা বোধ বা আর্থিক লেনদেন নেই, হবেও না।

বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে মনিরুল আলম সেন্টুকে। তারপরও তার ছবি সম্বলিত পোস্টারে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে তুমুল বিতর্কে পড়েছিলেন জেলা যুবদলের সভাপতি। বিষয়টিকে অনেকেই দলের গঠনতন্ত্র বিরোধী বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

এ প্রসঙ্গে টিটু বলছেন, সেন্টু একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি। আমার নেতা। আমি এখনও তার নেতৃত্বে আছি। দল তাকে বহিষ্কার করেছে। আবার সেটি তুলেও নিতে পারে। সব থেকে বড় কথা হচ্ছে, তিনি তো আর আওয়ামী লীগে যোগ দেননি।

সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল থেকে যাকে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেওয়া হয়েছে সেই কাসেমীর পক্ষে মাঠে দেখা যায়নি শহিদুল ইসলাম টিটুকে। বলা হচ্ছিলো, আওয়ামী লীগের সাংসদ শামীম ওসমানের পক্ষাবলম্বন করায় তিনিসহ তার সংগঠনের কেউ নির্বাচনী মাঠে নামেননি। তবে, টিটু এই কথার সাথে পুরোপুরি দ্বিমত পোষণ করেছেন।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন কঠিন ছিলো। আগেই হামলা মামলার শিকার হয়েছি। তাই নির্বাচনী কাজ কৌশলে করেছি। যিনি প্রার্থী ছিলেন তাকে প্রশ্ন করলেই জানতে পারবেন আমার অংশগ্রহণ ছিলো কিনা। তার সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেছি। অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের মধ্যে একমাত্র যুবদলই প্রার্থীর পক্ষে ছিলো। নির্বাচনী এজেন্ট কীভাবে দেওয়া যায়, কোন কৌশল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া যায় এসব কিছু আমিই করেছি। তবে, সেটি প্রকাশ্যে নয়, গোপনে।

এছাড়া তিনি ক্ষমতাসীনদের সাথে আঁতাতের প্রশ্নে বলেন, এটি পুরোপুরি মিথ্যা কথা। আঁতাত করে চলি না। বিএনপি করে এমন দু একজনের সাথে হয়তো আওয়ামী লীগের যোগাযোগ থাকতে পারে। আমার সাথে নেই। আমি যদি শামীম ওসমানের সাথে যদি আঁতাত করতাম তবে, এত মামলা, নির্যাতন সহ্য করতে হতো না। মামলার কোনো ভয়ও থাকতো না। আমি ব্যক্তিগত ভাবে ব্যবসা করতাম। আমার নাটবল্টুর কারখানা ছিলো। সরকারি দলের হামলা মামলায় সেটি এখন বন্ধ। আঁতাত থাকলে তা হতো না।

দলীয় কর্মসূচিতে যুবদলের অংশগ্রহণ থাকে না। এমন অভিযোগ সত্য নয় জানিয়ে টিটু বলেন, কর্মসূচিগুলোতে মিছিল করা যায় না। অন্য কেউ করতেও পারে না। সে তুলনায় মিছিল নিয়ে দশ কদম হলেও আমরা হেঁটেছি। কর্মসূচিগুলোও পালন করছি। তারপরও দুই একটা পত্রিকাতে লিখে আমরা থাকি না। তারা বিরুদ্ধে লিখে। লিখতেই পারে। কিন্তু এটা সত্য না।

তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে দুইটা পক্ষ আছে। আমাদেরও বিরোধ, কোন্দল আছে। দলের ভেতরে থাকা প্রতিপক্ষরাই দু একটি পত্রিকাতে বিরুদ্ধে লেখায়। লেখাইতেই পারে। তাই বলে এটা সত্য না। আমরা কর্মসূচি বাদ দিই না। সাহসিকতার সাথে রাজপথে ছিলাম, এখনও আছি।

মূলদল বিএনপির সাথে কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায় না জেলা যুবদলকে। রয়েছে দূরত্ব। এ দূরত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দূরত্ব বলতে তেমন কিছু নেই। তারা আমাদের ডাকে না। আমাদেরও যাওয়া হয় না।

তিনি বলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। উনাকে ফোন করেছি। তিনি ফোন ধরেননি। সেক্রেটারির সাথে যোগাযোগ করেছি। এখনও যোগাযোগ আছে। আমরা তাদের সাথে মিলেমিশেই কাজ করতে চাই কিন্তু তারা আমাদের দাওয়াত করে না।

টিটুর দাবি, এখানকার বিএনপিতে দুইটা অংশ আছে। একটি শাহ আলমের অপরটি সেন্টুর। আমরা সেন্টুর লোক হিসেবে পরিচিত। আর জেলা বিএনপি শাহ আলমের গড়া। সে হিসেবে জেলা বিএনপি আমাদেরকে দূরে রাখে। তারা ডাকলে অবশ্যই আমরা যেতাম।

মনিরুল আলম সেন্টু দল থেকে বহিস্কৃত এবং দলের কর্মকাণ্ডে নেই। তাহলে কার নেতৃত্বে এখন চলবেন বা কাকে অনুসরণ করবেন জানতে চাইলে টিটু বলেন, আমরা এখন তৈমূর আলম খন্দকারকে অনুসরণ করছি। তাকে মানি। তার নেতৃত্বেই চলছি।

ফতুল্লায় বিএনপির ঘাঁটি একসময় থাকলেও এখন আর নেই। সেটির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে টিটু বলেন, সিনিয়র নেতাদের কোন্দলের কারণ এখানকার বিএনপি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সেন্টু এবং শাহ আলমের কোন্দলের কারণে এখানে বিএনপি দুর্বল হয়ে গেছে। আশা করি আমরা যুবদলই এই কোন্দল দূর করার ভূমিকা রাখবে।

ইতোপূর্বে যারাই জেলা যুবদলের সভাপতি ছিলেন তারা কেউই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি দাবি করে টিটু বলেন, আমাদের কমিটির বয়স আট মাস। এরই মধ্যে ২‘শ এক সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি করেছি। যা দুই যুগেও জান্নাতুল ফেরদৌস, মামুমন মাহমুদ ও মোশারফরাও পারেনি। পাশাপাশি রূপগঞ্জে ২ টা পৌরসভা, ফতুল্লা থানায় কমিটি গঠন করেছি। পর্যায়ক্রমে অন্যগুলো গঠন হবে। ৩ মাসের মধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন হবে। আমাদের হাত ধরেই জেলা যুবদল শক্তিশালী সংগঠন হবে বলে বিশ্বাস করি।

পরিস্থিতি অনুকূলে নয় তাই সম্মেলন করার ইচ্ছে থাকলেও সেটি করা সম্ভব হচ্ছে না জানিয়ে যুবদলের এই সভাপতি বলেন, আমাদেরকে মাঠ, কমিউনিটি সেন্টার কিছুই ভাড়া দেওয়া হয় না। গেল রোজাতে ইফতার পার্টির জন্য কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া পাইনি। উপরের নিষেধ আছে জানিয়ে দিলো। তাহলে সম্মেলনটা করবো কোথায়? তাই সিলেকশনের মাধ্যমেই ওয়ার্ড, ইউনিয়ণ কমিটি গঠন হবে। তবে, কোথাও যদি একাধিক প্রার্থী থাকে সেখানে সম্মেলন করবো।

তিনি বলেন, কোথাও টাকার বিনিময়ে কমিটি দিচ্ছি তা কেউ বলতে পারবে না। এক কাপ চায়ও খাইনি। যারা যোগ্য তাদেরকে নেতৃত্বে আনা হচ্ছে। জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার ক্ষেত্রে কিছুটা তরিগড়ি হয়েছে এটা সত্য। তবে, সবার সাথে আলোচনা করেই করেছি। এখানে কারো একক সিদ্ধান্ত নেই। থানা ওয়ার্ড গঠন করতে গিয়ে যদি ২০১ জনের মতামত নিতে যাই তাহলে এখানে একেক জনের একে মত পাওয়া যাবে। কমিটি গঠন সম্ভব হবে না। এখন দলকে সুসংগঠিত করতে হবে। এ জন্য কমিটি গঠন জরুরী। দল সংগঠিত করতে না পারলে নেত্রীর মুক্তির আন্দোলন সেভাবে করা হবে না।

৭ জুলাই, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে