NarayanganjToday

শিরোনাম

দল কারো জন্য থেমে থাকে না, জাকির খান ফিরলে শক্তিশালী হবে


দল কারো জন্য থেমে থাকে না, জাকির খান ফিরলে শক্তিশালী হবে

রাজনীতিক পরিবারর সন্তান আবুল কাউসার আশা। দাদা হাজী জালাল উদ্দিন ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তার ধারাবাহিকতায় আশার পিতা অ্যাড. আবুল কালাম ছিলেন তিন বারের সংসদ সদস্য। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি।

পারিবারিক ধারাবাহিকতায় রাজনীতির সাথে যুক্ত হন তরুণ এই রাজনীতিক। তবে, ছোটবেলায় তার বাবাকে মানুষের জন্য কাজ করতে দেখে তিনি রাজনীতিতে আসার উৎসাহ পেয়েছিলেন। এভাবেই রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি।

ছাত্র সংগঠন দিয়ে ১৯৯৭ সালে রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিক পদচারণা। ব্যক্তি জীবনে কাইফা ও তাসমিয়া নামে দুই কন্যা সন্তানের জনক আশা, পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি ২০০৩ সালে। আশা ছিলেন সাবেক সাবেক ছাত্র নেতা, বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি।

বর্তমান রাজনীতি, ব্যক্তি ভাবনাসহ নানা বিষয় নিয়ে নারায়ণগঞ্জ টুডে’র সাথে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। তার এই সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন আমার নিজস্ব প্রতিনিধি লিজা চৌধুরী

অনেক সময় অভিযোগ উঠে আবুল কাউসার আশাকে দলীয় কর্মসূচিতে দেখা যায় না। তবে, তার দাবি, অনেক সময় মামলা এবং বিভিন্ন কারণেই কর্মসূচিগুলোতে উপস্থিত হতে পারেন না। এছাড়া তিনি বলেন , ‘বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণেও অনেক সময় কর্মসূচিগুলো ঠিক ভাবে পালন করা সম্ভব হয় না।’ তবে, নেপথ্যে থেকে সাংগঠনিক কাজ এবং কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যান বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের অন্তর্ভূক্ত ওয়ার্ড কমিটি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমটি গঠন করা হবে। কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

‘যারা ক্ষমতাসীন দলের সাথে আঁতাত করে চলেন তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, এমনকি দল থেকে বহিস্কার করা যেতে পারে’ মন্তব্য করেন আবুল কাউসার আশা। তার মতে, ‘যারা আঁতাত করছে তারা ব্যক্তি স্বার্থেই এটা করছেন।’ তবে, তার চাচা আতাউর রহমান মুকুল প্রশ্ন আসতেই তিনি কিছুটা বিব্রত হন।

আশা বলেন, ‘তিনি আমার চাচা বলেই এমন প্রশ্ন উঠছে। আমি বলবো শুধু মুকুল কাকু না, অনেকেই অনেক দিক থেকে ক্ষমতাসীনদের সাথে মিশে গেছেন। এখন তাদের ব্যাপারে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা দল জানে। আমি ক্ষুদ্র এর থেকে বেশি বলা ঠিক না। দলের বিরুদ্ধে যে-ই যাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।’

কাউন্সিলর হান্নান সরকার, শওকত হাসেম শকু এবং সুলতান আহম্মেদ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে আশা বলেন, ‘আমিও যদি এসময় কাউন্সিলর হতাম, হয়তো আমার প্রসঙ্গেও এমন প্রশ্ন করা হতো। পুলিশের ভয়ে, হামলা মামলার ভয়ে আমাকেও আঁতাত করতে হতো। শওকত হাসেম শকুর বিরুদ্ধে এখনও মামলা রয়েছে। যে কোনো সময় তাকে বিপদে পড়তে হতো। দেখার বিষয় কে কতটা প্রেসার নিতে পারেন। তবে, দলের বিরুদ্ধে যারা যাবেন, শৃঙ্খলা যারা ভঙ্গ করবেন, দল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। যেমন একটি পরিবারে সন্তানেরা ভুল করলে যেমন বাবা-মা শাসন করেন, ব্যাপারটাও ঠিক তেমন।’

তবে, তরুণ এই রাজনীতিকের মতে, ‘বড় দলগুলোতে এমন আঁতাতের খেলা সবসময়ই ছিলো। আজ যেমন বিএনপির লোকজন আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করছে অতীতে তারাও করেছে ভবিষ্যতেও করবে।’

দলের মধ্যে ত্যাগী বা মূল্যায়ন অবমূল্যায়ন ব্যাপারটা বানিয়ে নেওয়া হয় বলে মনে করেন আশা। তার মতে, ‘আমাদের সবার যত ত্যাগ আছে তা যদি এক সঙ্গে করি তাহলে বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগের কাছে তা কিছুই না। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে বৃদ্ধ বয়সেও নেত্রী কারাগারে। জিয়াউর রহমান দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। আরাফাত রহমান কোকো মারা গেছেন। তারেক রহমান দেশে আসতে পারছেন না। তাদের ত্যাগের কাছে আমাদের ত্যাগ কিছু নাই। সে হিসেবে আমরা সবাই ব্যর্থ। এখন একটাই কথা গণতন্ত্র মুক্তির জন্য বেগম জিয়ার মুক্তি।’

তবে, তরুণ এই রাজনীতিক এটুকু স্বীকার করলেন, ‘বিএনপি এখন খাদের কিনারে রয়েছেন। তাই মূল্যায়নের ব্যাপারটা একটু ভিন্ন। তাই বলে যে মূল্যায়ন হবে না তা নয়। তারপরও আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। বিশ্বাস করি দলে কোনো বিভাজন নেই। সুসংগঠিত আছি আমরা। ক্ষমতার বাইরে বেশ কয়েক বছর, এরমধ্যে এত এত মামলা, হামলা, খুন, গুমের ভয়কে উপক্ষে করে আমরা দল করে যাচ্ছি, এ কি দলের জন্য বিশাল পাওয়া নয়? আমরা দলটাকে ভালোবাসি। মনে প্রাণে ভালোবাসি তাই এখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি।’

তিনি বলেন, ‘হয়তো বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থায় দৃশ্যমান চাঙ্গা নেই। কিন্তু দলের জন্য সবাই আছে। সময় মতো সব ঠিক হয়ে যাবে।’

তার মতে, ‘স্থানীয় পর্যায়ে দলকে আরও শক্তিশালী করতে হলে গণতন্ত্র চর্চা করতে হবে। তৃণমূল থেকে ভালো লোকদের তুলে আনতে হবে। আমাদের মানসিকতারও পরিবর্তন ঘটাতে হবে। একজনের বিরুদ্ধে আরেকজনের বিষোদগার করা বন্ধ করতে হবে। যেহেতু আমরা জিয়ার সৈনিক, তাই আদর্শকে ফলো করতে হবে।’

নজরুল ইসলাম আজাদ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কারো লবিংয়ে পদে আসিনি। তার সাথে আমার ব্যক্তিগত ভালো সম্পর্ক ছিলো এখনও আছে। অনেক সময় দ্বিমত হয়, হয়তো তেমন দ্বিমত তার সাথেও থাকতে পারে।’

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির একক নিয়ন্ত্রক হতে চাচ্ছেন আজাদ। এমন গুঞ্জন শোনা যায়। এই সম্পর্কে আশা বলেন, ‘বিএনপির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কিছু নেই। বিএনপি একটা বিশাল পরিবার। আজ আমাদের মুরুব্বী যারা আছেন তারা পিতা-মাতা। তাদের যখন বয়স হবে তখন আমরা হবো পিতা-মাতা। সুতরাং কেউ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যাবে এমন কোনো বিষয় চোখে পড়েনি।’

গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনটা মামলার কারণে সেভাবে করতে পারেননি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এবার মামলা নেই। এবার নির্বাচন করবো।’

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক জীবন যাপন করছেন সাবেক ছাত্রনেতা জাকির খান। দেশে ফিরতে পারছেন না। দলের মধ্যে তার দরকার আছে কিনা জানতে চাইলে আশা বলেন, ‘দলে প্রতিটি নেতাকর্মীর প্রয়োজন আছে। কিন্তু কেউ না থাকলে দল চলবে না তা নয়। দল হচ্ছে একটা মালা আর কর্মীরা হচ্ছে ফুল। ফুলগুলো একত্রিত করে গাঁথা হলে তবেই মালাটা পরিপূর্ণ হয়। আজ জালাল হাজী সাহেব নেই তাই বলে তো দল থেমে থাকেনি। কাল কালাম সাহেব থাকবে না, তখনও দল থেমে থাকবে না। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে দল শক্তিশালী হবে। জাকির খান নেই, দল কিন্তু থেমে নেই। তবে, জাকির খান ফিরে আসলে দল আরও বেশি শক্তিশালী হবে।’

অতীতে যারা বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন তাদের নেতৃত্বে কোনো ভুল ছিলো কিনা সে ধরার মতো যোগ্যতা তার নেই দাবি করে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে যারা আছেন তারা সবাই যোগ্য। সবার কাছেই আমার আহ্বান থাকবে, সবাই মিলে যদি কাজ করি তবে দলের মধ্যে ছোটখাটো যা সমস্যা আছে সব সমাধান হয়ে যাবে।’

ব্যক্তিগত ভাবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে কে কতটা সাংগঠনিক জানতে চেয়ে তার পিতা আবুল কালামসহ আরও চারজনের নাম বলা হয়েছিলো। তারা হলেন, তৈমূর আলম খন্দকার, গিয়াসউদ্দিন, কাজী মনির ও শাহ আলম। এই প্রশ্নটা তিনি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘ব্যক্তি হিসেবে কাকে যোগ্য মনে করি সেটা বলতে গেলে অন্যকে অযোগ্য বলা হবে। এই বেয়াদবি করার দৃষ্টতা আমার নেই।’

রাজনীতিতে নতুন যারা আসতে চায় তাদের প্রতি আবুল কাউসার আশার একটাই আহ্বান, ‘তাদেরকে প্রথমত ভালো মতো লেখা পড়া করতে হবে। দেশ বিদেশ সম্পর্কে জানতে হবে। তারা যদি চতুর্দিক সম্পর্কে জানে তবেই না দেশ তাদের কাছ থেকে কিছু পাবে।’

সুন্দর একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা আশার ইচ্ছে, যদি তার সামনে কখনো সুযোগ আসে তবে, প্রথমে নারায়ণগঞ্জকে উন্নতি করার লক্ষ্যে যা যা করার প্রয়োজন সে তাই করবে। তরুণ এই রাজনীতিকের অবসর সময় কাটে তার সংগঠন এবং পরিচিত, চেনাজানা লোকদের সাথে কথা বলে।

২৫ জুলাই, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে