NarayanganjToday

শিরোনাম

‘মান অভিমান যেখানে নেই, সেখানে ভালোবাসাও নেই’


‘মান অভিমান যেখানে নেই, সেখানে ভালোবাসাও নেই’
শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার

ভালোবাসা দিবস। এদিনটি ইতোপূর্বে বাংলাদেশে তেমনভাবে পালিত না হলেও গেল কয়েক বছরে তা ব্যাপকভাবেই পালিত হচ্ছে। পালিত হচ্ছে মানে এদিন প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য বিশেষ একটি দিন বলা যেতে পারে। বাধভাঙ্গা উল্লাসেই তাঁরা মেতে ওঠেন। মান-অভিমান ভুলে অনেকই সমবেত হন এদিনে

বিশেষ এই দিনটি উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ টুডের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট ক’জন ব্যক্তিবর্গের প্রেম-ভালোবাসা, সংসার জীবনের ব্যর্থতা-সফলতা গল্প জানতে চাওয়া হয়েছিলো। আর সেটি জানতে দ্বার থেকে দ্বারে ছুটে গিয়েছিলেন আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক রাশিদ চৌধুরী। তিনি তুলে এনেছেন নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যক্তি, রাজনীতিক ও শিল্পপতি শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার’র গল্প

 

আমার কাছে ভালোবাসর অর্থ হচ্ছে ব্যাপক। বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন রকম ভালোবাসা হয়। যেমন পিতাপুত্রের ভালোবাসা, সন্তানের সাথে মায়ের ভালোবাসা, আবার স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ভালোবাসা, স্বামীর প্রতি স্ত্রীর ভালোবাসা, বন্ধুর সম্পর্ক, আবার একটা সম্পর্ক আছে যেটা আমরা কখনো চিন্তাই করিনা সেটা হচ্ছে আদর্শিক সম্পর্ক। আদর্শিক সম্পর্ক থেকেও ভালোবাসার সৃষ্টি হয়। যেমন পীর মুরিদের সম্পর্ক। এখানে একটা ভালোবাসার সম্পর্ক আছে। একটা রাজনৈতিক দল যখন আমরা করি সেখানেও কিন্তু একটা ভালোবাসা থাকে। সেটা দলের প্রতি ভালোবাসা। তো ভালোবাসা শব্দটা ব্যাপক অর্থে ব্যাবহার হয়। একজন ব্যবসায়ীর সাথে অরেকজন ব্যবসায়ীরও সম্পর্ক থাকে। সেখানেও ভালোবাসা থাকতে পারে।

ভালোবাসাটাকে আমরা আজকাল যেভাবে দেখতে চাই সেটা যে প্রেমিক প্রেমিকার ভালোবাসা। যে কারনে ভালোবাসা দিবসটা মানুষ পালন করে বা পালন করতে চায় তার অর্থ হচ্ছে ব্যাপক। কিন্তু ব্যাপকতাকে আমরা ক্ষীন করে দেখার চেষ্টা করি। এই ক্ষীন করে দেখাটা একটা অপরাধ। এই অপরাধ যারা করে আমি মনে করি তারা ভালোবাসা কাকে বলে সেই সম্পর্কে তারা সঠিক জ্ঞান রাখেনা।

এই ভালোবাসা ব্যাক্তির মধ্য দিয়ে বৃহত্তর কিছু অর্জন করা সম্ভব। যেমন যদি আমি দেশকে ভালোবাসি তাহলে দেশের জন্য আমার করনীয় আছে। এবং দেশের অন্যায় অবিচারকের বিরুদ্ধে কথা বলার সুযোগ আমার থেকে যায়। তেমনিভাবে পিতামাতাকে যদি ভালোবাসি তাদের প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য আমার থেকে যায়। যখন আমি স্ত্রীকে ভালোবাসি তখন তার প্রতি আমার দায়িত্ব থেকে যায়। তেমনিভাবে ব্যাবসায়িক সম্পর্ক হোক আর রাজনৈতিক শিক্ষাগুরুর সম্পর্ক হোক প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই দায়িত্ববোধ থেকে যায়। ভালোবাসা হচ্ছে একটা দায়িত্ববোধ। ভালোবাসা দায়িত্ববোধের জন্ম দেয়। সুতরাং ভালোবাসা দিবসটাকে ক্ষীন করে না দেখে সেটা ব্যাপক অর্থে দেখা উচিত এবং ব্যাপক অর্থে দেখলেই দেশের মানুষ সবদিক থেকে, যেমন সন্তান পাবে তার পিতার আশ্রয়, পিতা পাবে তার সন্তানের আশ্রয়, বন্ধু পাবে বন্ধুর আশ্রয়, ব্যবসায়ী পাবে ব্যাবসায়ীর আশ্রয় দেশ পাবে ভালো সন্তান বা ভালো জাতি। সুতরাং ভালোবাসার ব্যাপক অর্থ হচ্ছে বিশালতা। সেই বিশালতাকে অতিক্রম আমরা কেউ করতে পারিনা, যদি কেউ আমরা সেই বিশালতাকে অতিক্রম করতে পারি তাহলে আমাদের সুন্দর দেশ হবে, সুন্দর পরিবার হবে, সুন্দর সমাজ হবে। সর্বপোরী আমরা সবাই ভালো থাকবো।

সফলতা পিছনে:

প্রথমতো আমাকে তৈরী করেছে আমার বাবা মা। তারা আমাকে আদর যত্ন করে বড় করেছে। বড় করার প্রেক্ষিতে আমাকে বিয়ে করিয়ে ঘরে বউ এনে দিয়েছে। স্ত্রী হচ্ছে একটা স্বামীর জন্য নিরাপদ জায়গা। বাবা মায়ের পরে যদি কোন নিরাপদ জয়াগা থাকে সেটা হলো স্ত্রী। যেমন স্ত্রী তার স্বামীকে রান্না করে দেয় , তাকে খাওয়ায়, মুখে যে ঔষধটা তুলে দেয় সেটা কিন্তু স্বামী নির্বিঘ্নে মুখে তুলে নেয়। সেটা বিষ না কি সেটা পরখ করেনা। তার অর্থ হচ্ছে যে সে স্ত্রীকে ভালোবাসে। যদি সংসারে সুখ শান্তি বিরাজ করে তখন একটা পুরুষ কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। আমার স্ত্রী, যার কথা তুমি প্রশ্ন করেছো আমার রাজনৈতিক জীবনে সে আমার বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি আমার পারিবারিক জীবনে কোথায় কি করবো না করবো সে আমাকে কোন সিদ্ধান্ত দেয়নি, সবকিছু আমার সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। কোথাও কোথাও হয়তোবা কোন কিছু তা কাছে খারাপ মনে হলে সে বলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ভালো কাজে সে আমাকে উৎসাহিত করেছে। তাই আমি মনে করি আমার পিতামাতার পরে যদি কেউ আমাকে উৎসাহিত করে থাকে তার মধ্যে আমার বড় ভাই এবং আমার স্ত্রী সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে।

মান অভিমান:

স্বামী-স্ত্রী মধ্যে যদি মান অভিমান না-ই থাকে তাহলে ভালোবাসাটা সেখানে অনুপুস্থিত। ভালোবাসা আছে বলেই মান অভিমান থাকবে। সেই মান অভিমান তারও আছে। যদি সে কোন কারনে অভিমান করেও থাকে তাহলে সেই পরিস্থিতিটা ভালেঅবাসার কারনেই ঠিক হয়ে যায়। যেখানে আমার ভুল হয় সেখানে আমি আত্মসমর্পন করি। তার রাগ ভাঙ্গাই। সেখানে যদি ক্ষমাও চেতে হয় আমি সর্বোচ্চ ক্ষমাটি চাইতেও দ্বিধা বোধ করিনা।

২১ বছরের সংসার জীবন। ১৯৯৭ সালের ১১ এপ্রিল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এক ছেলে এক মেয়ে। বড় মেয়ে সরকারি মহিলা কলেজে অধ্যায়নরত। ছেলে আইডিয়াল স্কুলে ৮ম শ্রেনীতে অধ্যায়নরত। আমার ছেলে মেয়েদের মা হিসেবে আমার স্ত্রীকে আমি ‘এ’ গ্রেড দিবো। যেহেতু আমি সবসময় ব্যস্ততার কারনে তাদের সময় দিতে পারিনা ওদের মা-ই ওদের সর্বোচ্চ টেক কেয়ারটা করে।

ভালোবাসা দিবসে নতুন প্রজন্মকে আমার বার্তা হচ্ছে- আসো আমরা সবাই মিলে দেশকে ভালোবাসি। দেশকে ভালোবাসার জন্য যা যা করা উচিত সেটাই করি এবং দেশের প্রত্যেকটা ছেলেকে আমি বলবো তোমরা ভালোবেসে রজনৈতিকভাবে সচেতন হও। রাজনৈতিক সচেতনতা ছাড়া কেউ ভালো ব্যাবসা করতে পারেনা, কেউ ভালো রাজনীতি করতে পারেনা, কেউ ভালো সংসার চালাতে পারেনা। রাজনীতি করতে হবে এমন নয়, তোমরা  রাজনৈতিকভাবে সচেতন হও। তা না হলে দেশেও সে ভালো কিছু করার মতো ক্ষমতা রাখে না। সুতরাং আমি বলবো দেশকে ভালোবাসো সর্বাজ্ঞে এবং দেশের ভালেঅর জন্য রাজনৈতিকভাবে সচেতন হও।

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে