NarayanganjToday

শিরোনাম

অপরাধী

স্বপ্ন কথা


অপরাধী

স্টিলের দরজায় আঘাত এর শব্দগুলো ফিরে আসছে উল্টো দিকে। চরম নিঃশব্দ রাতের এই অহংকারকে যেন প্রতিদতায় আহবান করছে শব্দ টা। নিঃশব্দ ও শব্দের এই যুদ্ধে কেওই যেন হার মানতে রাজি নয়।

রাত ও দরজা দুজনই ক্লান্ত হয়ে পরলেও শিপু যেন ক্লান্ত হচ্ছে না কিছুতেই। তাকে এই ঘর থেকে বেরুতেই হবে, বাইরের দুনিয়া তাকে হাত ছানি দিয়ে ডাকছে যে। তবে এই ঘর থেকে বেরুনোর অনুমতি নেই তার। ভুল ছিল একটাই। যা ছিল পরিবার থেকে কিছুদিনের বিরতি নিয়ে বাইরে যাওয়া। তবে এটাকে ঠিক ভুল বলা চলে না।

ফেরার সময় যখন গলায় মেডেল আর হাতে টেনিস চ্যাম্পিয়ন এর ট্রফি নিয়ে বাড়ি ঢুকলো সেটা ছিল পরিবার এর জন্য অপমানজনক। কারন, ‘মেয়ে বাইরে গিয়ে ছেলেদের খেলা খেলেছে? মেয়ের ইজ্জত কি আর অবশিষ্ট রইল? তার উপর টেনিস সেই পোষাক........! লোকে ওর খোলা পা ও রূপ দেখে ওকে চ্যাম্পিয়ন করেছে। নয়তো মেয়েরা কি খেলতে জানে?’ এমন ধারালো মন্তব্য তা ছিল অনেকের।

এতসব ধারালো মন্তব্য নিতে না পেরে মা ওকে আটকে রাখে ঘরে। এবার ওকে ধরে বিয়ে দিতেই হবে, নয়তো পরিবারের সম্মান ধুলোয় মিশতে সময় লাগবে না যে। ছেলের খোঁজ শুরু হলে একজন একজন করে অনেকেই আসে, তবে কেউই এই তীক্ষ্ম মন্তব্যে সাথে মেনে নিতে রাজি নয় তাকে। আর এদিকে শিপু দিন দিন ঘরে পচতে থাকলো।

হয়তো সারারাত দরজার সাথে যুদ্ধ করে শিপু ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। কিছুক্ষণ বাদে ছেলে পক্ষ আসবে তাকে দেখতে। তাই মা সব কিছু ঘুাচিয়ে রেখে শিপুর দরজায় আঘাত করেও যখন কোনো সারা পেলো না তখন জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে...

মেঝেতে একটা চেয়ার, একটা ভাঙা গ্লাস ও ট্রফিটা পরে আছে। আর সিলিং এর পাখা থেকে শাড়ির একটা দিক নিচে ঝুলে পড়েছে, যে দিকটায় বাধা ছিল সমাজের নিয়মগুলোকে ধোঁকা দেয়া এক অপরাধী।  যার গলায় মেডেলটা এখনো ঝলমল করছে। যা হাজারো দুঃসাহসী দের দুঃসাহস ক্ষান্ত করতে যথেষ্ট...

উপরে