NarayanganjToday

শিরোনাম

লাল-নীল সংসার-১৪

ফেরদৌস কান্তা


লাল-নীল সংসার-১৪

ক্যাম্পাসে অনেককেই পেল কিন্তু যাকে সে পাগলের মত খুঁজে ফিরছে সেই তুহিনকে পেলনা জাহিদ। মোটামুটি একে তাকে করে অনেককেই জিগ্যেস করল, কিন্তু কেউই বলতে পারল না কোথায় আছে তুহিন, সেই বন্ধুটি যাকে দায়িত্ব দিয়েছিল নিরুকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসার জন্য। এবার আর স্থির হতে পারল না কোনভাবেই। অজানা আশংকাতে বুক কেঁপে উঠল। ডিপার্টমেনট থেকে তুহিনের বাড়ির ঠিকানা নিল জাহিদ, ঠিক করল আজ রাতেই যাবে সেখানে। আসলে কেন জানেনা নিরুর খবর না পাওয়া পর্যন্ত সে শান্তি পাবেনা বুঝে গেছে। থেকে থেকেই নিরুর কান্না ভেজা মুখটি চোখে ভেসে উঠছে কেবল তার। অদ্ভুত এক কষ্টে বুকটা মোচড় দিচ্ছে কেবল। কেন এমন হচ্ছে জানেনা জাহিদ। শুধু জানে নিরুর খবর না পেলে সে পাগল হয়ে যাবে।

অবশেষে পৌঁছালো তুহিনের গ্রামের বাড়িতে জাহিদ। বাড়ি খুঁজে পেতে কোন সমস্যা হয়নি তার। বাড়ির উঠোনে পা দিতেই ছোট একটি মেয়েকে দেখল। মেয়েটি ও তাকে দেখে দৌঁড়ে কাছে এলো। জাহিদ কিছু জানতে চাইবার আগেই মেয়েটি জানতে চাইলো সে কাকে চায়? জাহিদ জানালো সে তুহিনের বন্ধু। কথা শেষ করারা আগেই মেয়েটি চেঁচিয়ে বাড়ি মাথায় তুলল। মা, মা চিৎকারে আর তুহিন ভাই, তুহিন ভাই চিৎকারে বাড়ির ভেতর থেকে বেড়িয়ে এলো বেশ কজন মহিলা পুরুষ একসাথে। জাহিদ দেখল, এদের মাঝে তুহিন নেই। একজন মহিলা তার একেবারে কাছে এসেই হুহু করে কেঁদে উঠলেন তাকে ধরে। চেহারার খানিকটা মিলে জাহিদ বুঝে নিল, সম্ভবত এটা তুহিনের মা। জাহিদ এদের সবার এমন আচরণে ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল। কি হচ্ছে কিছুই না বুঝতে পেরে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। তুহিনের মা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে কি বলছে সে কিছুই বুঝতে পারল না। অবশেষে যখন তার হাত ধরে টেনে বাড়ির ভেতর নিয়ে যাওয়া হল তখন সে দেখল, বড় একটি রুমের একপাশে বিশাল একটি খাট যেখানে তুহিন ঘুমাচ্ছে সারা গায়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায়।

অনেকটা সময় চলে যাবার পরও তুহিনের ঘুম ভাঙছিলনা। ক্রমশই জাহিদ উসখুস করতে লাগলো। অস্থির হয়ে উঠল তুহিনের সাথে কথা বলার জন্য। এদিকে বেলাও পরে এসেছে, চারপাশে যেন ঝুপ করেই সন্ধ্যা নেমে গেছে। হাতে পায়ে খিল ধরে গেছে মনে হচ্ছে। ফ্রেশ হওয়াও দরকার। কাউকে ডাকবে ভেবেই সে রুম থেকে বের হয়ে এলো। তখনই তাকে ডাকতে এলো প্রথম দেখা ছোট মেয়েটি। জাহিদকে ভেতরের বাড়িতে খেতে ডেকেছে, সেদিকে পা বাড়াল সে।

ফ্রেশ হয়েই খেতে বসল সে, আর খেতে খেতেই শুনল তুহিনের এই অবস্থার কারণ। তুহিনের বাবা নেই, কিছুদিন আগেই গত হয়েছেন তিনি। চাচাই এখন অভিভাবক হিসেবে আছেন মাথার উপর। অনেক স্বপ্ন নিয়ে ছেলেকে তাঁরা শহরে পাঠিয়েছেন পড়াশুনা শেষ করার জন্য। তুহিন খুব ভাল একটা ছেলে, তাই কে তার এই ক্ষতি করেছে তাঁরা জানেন না। একটা ফোন এসেছিল, তুহিন হাসপাতালে। সেই ফোন পেয়ে তাঁরা গিয়ে তুহিন কে বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে। তুহিন কে কে বা কারা অনেক মেরে ফেলে রেখে গিয়েছিল। রাস্তার লোকজন দয়াবশত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। জ্ঞান ফেরার পর তুহিন কোনরকমে তার বাড়ির ফোন নাম্বার জানাতে পারে। ডাক্তার বলেছে তুহিনের প্রচুর বিশ্রাম দরকার। অনেক ওষুধ দেয়া হয়েছে, তার ফলাফলেই তুহিন সারাদিন-রাত ঘুমায়। কাজের কথা কিছুই জানা হলনা জাহিদের। সে ভাবল, আজ এখানে থেকে যেতে হবে। তুহিনের ঘুম ভাঙলে ওর মুখ থেকেই শুনতে হবে আসল ঘটনা। (চলবে)

উপরে