NarayanganjToday

শিরোনাম

আসছে আরও ৪ দিনের পরিবহন ধর্মঘট!


আসছে আরও ৪ দিনের পরিবহন ধর্মঘট!

আট দফা দাবি না মানলে ফের ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘটে যাবেন পরিবহন শ্রমিকরা। ধর্মঘটে যাওয়ার আগে শ্রমিক নেতারা ২১ দিন সময় দিতে চান সরকারকে। আগামী ৩ নভেম্বর সরকারকে লিখিত ভাবে তাদের ৮ দফা মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে এ সময় বেঁধে দেয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে নতুন আইনের কয়েকটি ধারা পরিবর্তন করা না হলে নভেম্বরেই ধর্মঘট ডাকা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা।

৪৮ ঘণ্টা ধর্মঘটের সিদ্ধান্তে আসার জন্য ডাকা সভাতেই ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো। তবে, ৩ নভেম্বর লিখিতভাবে সরকারকে আল্টিমেটাম দেওয়ার পূর্বে শ্রমিক নেতারা আরও একটি সভা নিজেদের মধ্যে করতে পারেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

জাতীয় সংসদে সদ্য পাস হওয়া ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ এর কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ আট দফা দাবি আদায়ে পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকাসহ গোটা দেশ। সড়কে কোনো ধরনের গণপরিবহন না থাকায় বিশেষ করে দিশেহারা চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীরা। জীবনের তাগিদে অনেক মানুষ হেঁটে গন্তেব্যে যান। অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ভ্যান, রিকশা চললেও তা যাত্রীর তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। আবার এসব পরিবহনে ভাড়াও বেড়েছে কয়েকগুণ। জনদুর্ভোগ চরমে উঠলেও এখন পর্যন্ত ধর্মঘট প্রত্যাহারের কোনো আভাস মিলছে না। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় ধর্মঘটের সময়সীমা শেষ হবে।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের বাঁচা-মরার প্রশ্ন নিয়ে কর্মবিরতি পালন করছি। সরকারকে বেকায়দায় ফেলা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমরা সরকারকে এক সপ্তাহ সময় দিচ্ছি। নইলে ফের ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘটে যাব। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।

কাভার্ডভ্যান চালক সমিতির সভাপতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের সদস্য কামারুজ্জামান বলেন, সরকার চাইলে এক ঘণ্টায় সমাধান দিতে পারে। অনেক আইন রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ দিয়ে বাতিল বা সংশোধান করা হয়েছে। শ্রমিকের খবর কেউ নেয় না। হাজার হাজার শ্রমিক রাস্তায় কুকুরের মতো মারা যায়। শ্রমিকের লাশ ছুঁতেও মানা। অথচ ১০৫টি কারণে দুর্ঘটনা ঘটে যার মধ্য ৫টি কারণ চালকের। সব ঠিক না করে শ্রমিকের ওপর গজব নামিয়ে দেয়া কোনো ন্যায়বিচার হতে পারে না।

তিনি বলেন, আমরা মানুষের কষ্ট বুঝতে পারছি। কিন্তু শ্রমিকরা এই পরিস্থিতিতে অসহায়। আইন পরিবর্তন করা না হলে নভেম্বরের শুরুতেই ফের ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘটের ঘোষণা আসবে। এর আগে আমরা সরকারকে আলোচনায় বসার সময় দিতে চাই।

২৯ অক্টোবর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে