NarayanganjToday

শিরোনাম

বালিশ নিয়ে তেলেসমাতি, বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে আদালতে আইনজীবী


বালিশ নিয়ে তেলেসমাতি, বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে আদালতে আইনজীবী

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ভবনের আসবাবপত্র ও বালিশ কেনা এবং অন্যান্য কাজের অস্বাভাবিক খরচ নিয়ে ইতিমধ্যে সমালোচনার ঝড় বইছে। এবার এ বিষয়ে আদালতের দারস্থ হয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন।

রূপপুর প্রকল্পের সরঞ্জামাদির অস্বাভাবিক দাম ধরার কারণে গণপূর্ত বিভাগের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আদালতের অবস্থান ও জনগণের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করার লক্ষ্যে আদালতে এ রিট আবেদনটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার সুমন।

বিচারপতি তারিকুল হাকিম ও বিচারপতি সোহরাওয়ার্দীর বেঞ্চে সোমবার এ বিষয়ে শুনানি হবে বলেও তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, রূপপুর প্রকল্পে দুর্নীতির আসবাবপত্রের অস্বাভাবিক মূল্যসহ সার্বিক বিষয়ে দেখেছি তা মেনে নেয়া কঠিন। একটি বালিশের মূল্য ধরা হয়েছে ৬ হাজার টাকা। তা বিল্ডিংয়ের ওপরে ওঠাতে খরচ ধরা হয়েছে ৭৬০ টাকা। তাই আদালতকে আমরা এটি জানিয়েছি যাতে এটির বিচার বিভাগীয় একটি তদন্ত থাকে।

এদিকে রূপপুর প্রকল্পের এসব দুর্নীতি বিষয়ে তদন্ত করার জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব এবং গণপূর্ত অধিদফতর থেকে একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে পৃথক এ কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সব প্রকার বিল বন্ধ রাখার জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

রোববার বিকালে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ডেলিগেটেড ওয়ার্ক হিসেবে গণপূর্ত অধিদফতর নির্মাণাধীন ৬টি ভবনে আসবাবপত্রসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য দাফতরিক প্রাক্কলন প্রণয়নপূর্বক ৬টি প্যাকেজে ই-জিপিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়।

প্যাকেজের প্রতিটির ক্রয়মূল্য ৩০ কোটি টাকার নিম্নে প্রাক্কলন করায় অনুমোদন ও ঠিকাদার নিয়োগ দেয় গণপূর্ত অধিদফতর। এ ক্ষেত্রে দাফতরিক প্রাক্কলন প্রণয়ন, অনুমোদন ও ঠিকাদার নিয়োগে মন্ত্রণালয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

আলোচ্য কাজের বিপরীতে এখনও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধ করা হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

প্রসঙ্গত বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি দেশের অন্যতম মেগাপ্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মিত গ্রিন সিটিতে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র ক্রয়ে লাগামছাড়া দুর্নীতির তথ্যফাঁস হয়েছে।

-যুগান্তর

২০ মে,২০১৯/এমএ/এনটি

উপরে