NarayanganjToday

শিরোনাম

শামীম ওসমানের নির্দেশনার পরও বাদল বললেন ‘আইয়ূবের কমিটিই থাকবে’


শামীম ওসমানের নির্দেশনার পরও বাদল বললেন ‘আইয়ূবের কমিটিই থাকবে’

কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দুলাল হোসেনের সাথে সাইফউল্লাহ বাদলের চলমান বিরোধ মেটানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। এই বিরোধ মেটানোর জন্য তিনি থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দিয়েছেন।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলের দিকে নম পার্কে ৭ ডিসেম্বর থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন পূর্বক প্রস্তুতিমূলক রূদ্ধদ্বার বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সোমবার বিকেলের দিকে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে নম পার্কে বসেছিলেন সাংসদ শামীম ওসমান। কাউন্সিল পূর্ব প্রস্তুতি স্বরূপ তিনি এই বৈঠক করেন। তবে, এখানে কোনো সাংবাদিক প্রবেশের অনুমতি ছিল না।

বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের সভাপতি দুলাল হোসেন নম পার্কে উপস্থিত ছিলেন। সাংসদ শামীম ওসমান বাদল ও শওকত আলীর উপর দায়িত্ব দিয়ে নির্দেশ দিয়েছেন দুলালের সাথে বিরোধ নিষ্পত্তি করার জন্য। পরবর্তীতে থানার কাউন্সিল শেষে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে যাচাই বাছাই করে গঠনতন্ত্র মোতাবেক কাশিপুরের নয়টি ওয়ার্ড কমিটি গঠন করে দিবেন। বর্তমানে পাল্টাপাল্টি যে কমিটি হয়েছে সেসব বাদ হবে বলেও জানিয়েছেন সংসদ।

এ ব্যাপারে জানতে দুলাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে জানান, “এমপি সাহেব (শামীম ওসমান) বাদল ভাই ও শওকত ভাইকে বলেছেন আমাকে নিয়ে বসতে। তবে, কবে বসবেন তা এখনও ঠিক হয়নি।” এর বাইরে তিনি আর কিছু বলতে রাজি হননি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদল বলেন, “দুলাল তো আমাদেরই লোক। বসাবসির কি আছে। এমপি সাহেব এমন কোনো নির্দেশনা দেননি।” তবে, কাশিপুর ইউনিয়নের নয় ওয়ার্ডের পাল্টাপাল্টি কমিটির মধ্যে আইয়ূব আলীর কমিটিই থাকবে বলে তিনি জানান।

অপরদিকে থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী সাংসদ শামীম ওসমানের নির্দেশনার কথা স্বীকার করে বলেন, “দুলালের অতীতে কিছু কর্মকান্ড নিয়ে বাদল ভাই ক্ষুব্ধ ছিলেন। সেগুলো মিটিয়ে নেওয়ার জন্য এমপি সাহেব নির্দেশনা দিয়েছেন। এবং ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে থানা কাউন্সিলের পর সেগুলো তিনি দেখবেন বলে জানিয়েছেন। এবং নিজেদের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছুড়ি না করে দুলালের বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার জন্য আমাকে এবং বাদল ভাইকে নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, গঠনতন্ত্রে যা আছে সে মোতাবেকই হবে। এর বাইরে কোনো কমিটি হবে না।”

এদিকে গঠনতন্ত্র মোতাবেক দুলাল হোসেনের স্বাক্ষরিত ওয়ার্ড কমিটিগুলোই বৈধ, এমনটাই জানিয়েছিলেন থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। সাংসদ শামীম ওসমানও নির্দেশনা দিয়েছেন গঠনতন্ত্রে যে নিয়ম আছে সে মোতাবেকই ওয়ার্ড কমিটি হবে। কিন্তু থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাদল বলছেন, আইয়ূব আলী স্বাক্ষরিত কমিটিই বৈধ! তাহলে কী তিনি সাংসদ শামীম ওসমানের নির্দেশনা এবং গঠনতন্ত্রের নিয়মাবলিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন কিনা, এমন প্রশ্নও উঠছে।

প্রসঙ্গত, কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বৈধ সভাপতি দুলাল হোসেন। কিন্তু প্রভাব বিস্তার করে এই দুলাল হোসেনকে তার পদ থেকে সরিয়ে রেখে ২০১৪ সালে এখানে এনে বসানো হয় আইয়ূব আলীকে। গঠনতন্ত্রকে পাশ কাটিয়ে বানানো হয় তাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপিত। নিয়ম বহিভূর্ত হলেও গত ৫ বছর ধরে এই আইয়ূব আলীর দ্বারাই পরিচালিত হচ্ছিলো কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। তবে, এর নেপথ্য মাস্টার মাইন্ড ছিলেন এম সাইফউল্লাহ বাদল।

সম্প্রতি থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নিজের অনুসারি, ব্যক্তিগত লোকদের নেতৃত্বে এনে কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নয়টি ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়। এসব কমিটি কথিত সম্মেলনের মাধ্যমে স্বাক্ষর করেন ‘অবৈধ’ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আইয়ূব আলী। তবে, এসব কমিটিকে চ্যালেঞ্জ করে পাল্টা নয়টি কমিটির অনুমোদন দেন ‘বৈধ’ সভাপতি দুলাল হোসেন। এবং গঠনতন্ত্র মোতাবেক দুলালের কমিটিই বৈধ।

আসন্ন কাউন্সিলে আইয়ূবের কমিটি নয়, দুলালের দেওয়া কমিটির নেতৃবৃন্দই হবেন থানা কাউন্সিলের বৈধ কাউন্সিলর। কিন্তু এসব কমিটি সাইফউল্লাহ বাদলের বিপরীতে যাবে, এমনটা আঁচ করতে পেরে বাদল কাছে টানার চেষ্টা করছেন আইয়ূবের জন্য দূরে ঠেলে দেওয়া দুলাল হোসেনকে। মেটানোর চেষ্টা করছেন নিজেদের বিরোধ। এর আগে, থানার সাধারণ সম্পাদক বাদলকে বুঝাতে সক্ষম হন, কাউন্সিলে দুলাল হোসেনকে লাগবেই। এখানে আইয়ূব আলী বৈধ নয়।

২ ডিসেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে