NarayanganjToday

শিরোনাম

অবশেষে শামীম ওসমানকে মোকাবেলায় ভোটযুদ্ধে গিয়াসউদ্দিন


অবশেষে শামীম ওসমানকে মোকাবেলায় ভোটযুদ্ধে গিয়াসউদ্দিন

আসন পুনরুদ্ধারের জন্য মাঠে নামতে যাচ্ছেন সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের নেতৃত্বে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ঘোষণা দেওয়াতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি পুনরুদ্ধারের যুদ্ধে তিনি মাঠে নামবেন বলে জানিয়েছেন। তবে, মনোয়ন দেওয়া না দেওয়া সম্পূর্ণই দলের ইচ্ছে বলে তিনি জানান।

এদিকে এই আসনটির বর্তমান সাংসদ হিসেবে রয়েছে প্রভাবশালী সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। তিনি এবারও প্রার্থী হচ্ছেন। আর তার বিপরীতে লড়াই করার মতো একমাত্র গিয়াসউদ্দিনকেই যোগ্য বলে মনে করছেন দলটির তৃণমূলসহ সাধারণ মানুষ।

তারা বলছেন, এই আসন থেকে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী গিয়াসউদ্দিন ও শাহ আলম। এরমধ্যে দলের কঠিন সময়ের মধ্যে শাহ আলম গা ঢাকা দিয়েছেন। অপরদিকে একের পর এক মামলায় জর্জড়িত গিয়াসউদ্দিন। তারপরও তিনি দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন তার অনুসারি নেতাকর্মীদের নিয়ে। এছাড়াও আওয়ামী লীগের শামীম ওসমানের সাথে ভোটের ময়দানে লড়ার মতো একমাত্র প্রজ্ঞা এবং দুর্দশীতা রয়েছে গিয়াসউদ্দিনেরই। ফলে, গুরুত্বপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি বিএনপিকে পুনরুদ্ধারের জন্য গিয়াসউদ্দিনের বিকল্প গিয়াসউদ্দিন নিজেই, এমন অভিমত এখন দলমত নির্বিশেষ সকলেরই।

অপরদিকে, গিয়াসউদ্দিনকে দূরে সরিয়ে শাহ আলমকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও সব থেকে বেশি লাভবাবন হবে আওয়ামী লীগ। কেননা, বরাবরই প্রতিয়মান হয়েছে যে, কল্যাণ পার্টি থেকে দলছুট দিয়ে আসা এই ব্যবাসায়ীর সাথে আওয়ামী লীগের রয়েছে গোপন সখ্যতা। ফলশ্রুতিতে তিনি নমিনেশন পেলে সুবিধাটা আওয়ামী লীগই পাবেন এবং আসনটি পুনরুদ্ধারও সম্ভব হবে না। তাই এই আসনটি পুনরুদ্ধারের জন্য গিয়াসউদ্দিনকেই চাচ্ছে তৃণমূল।

এদিকে নির্বাচনে আসার ঘোষণা দেওয়ার পর সোমবার থেকে মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করবে বিএনপি। এমনটি জানিয়েছে দলটির শীর্ষ পর্যায়। এদিন গিয়াসউদ্দিন মনোনয়নপত্র কিনতে পারেন বলে শোনা গেছে।

সূত্র বলছে, প্রথম দিনই মনোনয়নপত্র কিনতে পারেন মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। তিনিও দীর্ঘদিন ধরে তার এই আসনটি পুনরুদ্ধে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচনের জন্য তৃণমূলের সাথে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে করেছেন সভা সমাবেশও। সর্বোপরি নির্বাচনী প্রস্তুতি তার রয়েছে শতভাগ।

এ প্রসঙ্গে সাবেক সংসদ সসদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, “চেষ্টা করবো সোমবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে। যদি এদিন সম্ভব না হয় তবে, মঙ্গলবার কেনবো অবশ্যই।”

মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী তারপরও পুরো সিদ্ধান্ত দলের মনোনয়ন বোর্ডের বলে জানান তিনি। গিয়াসউদ্দিন বলেন, “নির্বাচন করার মতো যথাযথ সক্ষমতা আমি রাখছি। দল যদি মনে করেন আমি যোগ্য তাহলে অবশ্যই আমাকে নিরাশ করবেন না। আর দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে সর্বশক্তি নিয়োগ করে বিএনপির এই আসনটি পুনরুদ্ধার করবো আমি ইনশাল্লাহ।”

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী শামীম ওসমানকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে নারায়ণগঞ্জ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ)-৪ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। এরপর এক এগারর সরকার সময় কারাবন্দি হওয়ায় ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান শাহ আলম।

সেসময় শুধু মাত্র ফতুল্লা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন রাজনীতিতে নতুন মুখ সারাহ বেগম কবরীর সাথে। এসময় তিনি সারাহ বেগম কবরীর সাথে পরাজিত হন। বিশেষ করে শাহ আলম তার নিজস্ব বুথ ফতুল্লাতে জিততে পারেননি।

১১ নভেম্বর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে