NarayanganjToday

শিরোনাম

প্রধানমন্ত্রী’র সাথে না.গঞ্জের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাত অনুষ্ঠিত


প্রধানমন্ত্রী’র সাথে না.গঞ্জের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাত অনুষ্ঠিত

নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করেছেন। বুধবার (১৪ নভেম্বর) সকালের দিকে গণভবনে এই সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়।

নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রায় ৪৭ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী এই সাক্ষাত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে।

সাক্ষাত অনুষ্ঠানে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিন ও দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, মাঠ জরিপ এবং কৌশলগত কারণে জোটকেও আমাদের আসন ছাড়তে হবে। তবে, যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক তাকে ঐক্যবদ্ধভাবে জয়ী করতে হবে। মনোনয়ন পেলাম না, এই ভেবে যেন কেউ কোনো ধরণের কোন্দল না করে সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সূত্র জানায়, এখান থেকে বর্তমান চার সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, নজরুল ইসলাম বাবু, গোলাম দস্তগীর গাজী, হোসনে আরা বাবলী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড, খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালা, জাতীয় পরিষদ সদস্য আনিসুর রহমান দিপু, জাতীয় শ্রমিক লীগের উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহম্মেদ পলাশ, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল কাদির, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহম্মদ আলী রেজা উজ্জ্বল, রূপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাজাহান ভূইয়া, কায়েতপাড়া ইউনিয়ণ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক, সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম প্রমূখ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব আসনে মনোনয়নপত্র বেশি কেনা হয়েছে সেখানে নেতৃত্ব শূন্যতা রয়েছে, সেখানে যত বড় নেতাই হোক না কেন, তারা পার্টিকে অর্গানাইজ করতে পারে নাই। এটা তাদের নেতৃত্ব শূন্যতার প্রমাণ। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ক্ষমতায় আসলে অনেক পদ ক্রিয়েট করা হবে, সেখানে সবাইকে একমোডেট করা হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে জরিপ চালিয়েছি। এর ভিত্তিতে মনোনয়ন দেয়া হবে। কোনো প্রার্থীর প্রতি ভোটারের সমর্থন আছে, সেটা বিবেচনায় নেয়া হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জরিপে যারা এগিয়ে থাকবে তাদেরকে মনোনয়ন দেয়া হবে। সেখানে ছোট নেতা, বড় নেতা দেখা হবে না। যাকে মনোনয়ন দেব তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নইলে বিপদ হবে। ক্ষমতায় আসছি মনে করে নিজেদের মধ্যে যে আসন খাওয়া-খাওয়ির মনোভাব তা পরিহার করতে হবে।’

তিনি বলেন, যে প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হবে তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রার্থীতা বিরোধিতা ও প্রার্থীর বিপক্ষে বিরোধিতা করা হলে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে। একটা সিটও হারাবো কারো এমন মনোভাব পোষণ করা যাবে না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে দলের যারা ইতোমধ্যে নির্বাচিত হয়ে আছেন তাদেরকে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হবে না। গত দুই নির্বাচনে ক্ষমতায় এনেছি, এবারো আমিই ক্ষমতায় আনবো- এটা মনে করে কোনো লাভ নেই। প্রার্থীর নিজ নিজ যোগ্যতা, দক্ষতা, রাজনৈতিক ত্যাগ-তীতিক্ষা থাকতে হবে। জনসম্পৃক্ত হতে হবে।

আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সমর্থন আছে, কর্মী আছে, ভোট আছে কিন্তু ইদানীং দৃশ্যমান কর্মী নেই। ১৯৮১ সালে নেতৃত্বে এসে দলকে সংগঠিত করেছি। তিলে তিলে এই দলকে গড়ে তুলেছি। আমি, রেহানা, জয়, পুতুলসহ আমার পরিবারের সদস্যরা অনেক অসহায় সময় পার করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগকে ঠেকানোর অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু কেউ আওয়ামী লীগকে দমাতে পারেনি। এখনও নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগকে নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে।

১৪ নভেম্বর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে