NarayanganjToday

শিরোনাম

বদলে যাচ্ছে ধানের শীষ প্রার্থী, চূড়ান্ত হচ্ছেন গিয়াস উদ্দিন?


বদলে যাচ্ছে ধানের শীষ প্রার্থী, চূড়ান্ত হচ্ছেন গিয়াস উদ্দিন?

নির্বাচন একটা যুদ্ধ অথবা একটি খেলা। আর এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে যদি সমানে সমান না হয় তাহলে, সেটি কোনো ভাবেই জমে ওঠে না। অপেক্ষাকৃত দুর্বলের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এক পেশিই হয়ে যায়। আর তেমনটিই এখন হতে চলেছে নারায়ণগঞ্জ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ)-৪ আসনে।

এবারের নির্বাচনে সবারই আগ্রহ ছিলো এই আসনটি ঘিরে। এখানে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম ওসমান। আগেই ধারণা করা হয়েছিলো তিনিই প্রার্থী হবেন। ফলে তার বিপরীতে লড়ার মতো তথা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য একমাত্র যোগ্য হিসেবে সবাই হিসেব করেছিলেন সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনকে।

বিএনপি’র তৃণমূলসহ সাধারণ মানুষেরও প্রত্যাশা ছিলো তেমনই। কিন্তু কেন্দ্রের ভুল সিদ্ধান্তে এখানকার বিএনপি’র নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটাদের মাঝে নেমে এসেছে হতাশা। তারা কিছুতেই শাহ আলমকে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না। বিশ্বাসও করতে চাচ্ছেন না যে, তিনিই প্রার্থী!

এদিকে বিএনপি’র হাই কমান্ডের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে ভিন্ন কথা। হাই কমান্ড থেকে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনকেই প্রার্থী করা হবে। আর সে ঘোষণা ৮ ডিসেম্বরেই আসবে। নির্বাচনী কৌশল হিসেবে ২৭ নভেম্বর তার হাতে বিএনপি’র মনোনয়ন চিঠি দেওয়া হয়নি।

সূত্রের দাবি, বিগত ১২ বছরে নারায়ণগঞ্জে সর্বোচ্চ মামলার আসামী গিয়াসউদ্দিন ও তার পরিবার। তাদের উপর বিএনপি’র একটি পক্ষ এবং ক্ষমতাসীন দল চরমভাবে ক্ষিপ্ত। ফলে, শুরুতেই যদি তাকে প্রার্থী ঘোষণা করা হতো তাহলে, যে ভাবেই হোক তার বিরুদ্ধে বড় ধরণের কোনো ষড়যন্ত্র করে তাকে প্রার্থীতা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতো। কেননা, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর কাছে গিয়াসউদ্দিনই মাথা ব্যথা, দুঃশ্চিন্তার কারণও। আর এ কারণেই তাকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি।

সূত্রটি আরও জানায়, ২৮ নভেম্বর দুপুরে দেশের বাইরের থেকে একটি ফোন আসে গিয়াসউদ্দিনের কাছে। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে গিয়াসউদ্দিনকে রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বলেন। পরবর্তীতে বিকেল তিনটার দিকে গিয়াসউদ্দিনের পক্ষে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং অফিসারের কাছে পৃথক ৬টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়।

একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল সম্পর্কে সূত্রটি জানায়, একটি জমা দিলে সেটি কোনো না কোনো ত্রুটি দেখে বাতিল করা হতে পারে। ফলে একাধিক জমা দেওয়ায় সব কটি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। আর এ কারণেই একাধিক।

এদিকে দেশের বাইরে থেকে গিয়াসউদ্দিনের কাছে ফোন এসেছে, এ ব্যাপারটির সত্যতা নিশ্চিত হতে যোগাযোগ করা হয়েছিলো সাবেক এই সংসদ সদস্যের সাথে। তিনি ফোনের বিষিয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “আমি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি এটুকু নিশ্চিত। নির্বাচন করছি এটিও নিশ্চিত। এবং উপর মহলের নির্দেশে এই মনোনয়নপত্র দাখিল করেছি। বাকিটা দলের ইচ্ছে। আট তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, দেখুন কী হয়। কেননা, রাজনীতিতে শেষ বলতে কিছু নেই।”

দল থেকে যদি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা না হয় এবং শেষতক যদি শাহ আলমই প্রার্থী থাকেন সে ক্ষেত্রে কী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন, জানতে চাইলে এ ব্যাপারে কিছুই জানাতে আগ্রহী হননি তিনি। শুধু জানান, “ডিসেম্বরের আট তারিখেই এই প্রশ্নের উত্তর পাবেন। অপেক্ষা করুন।”

অপরদিকে, গিয়াসউদ্দিনই নারায়ণগঞ্জ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ)-৪ আসন পুনরুদ্ধারের যুদ্ধে মাঠে নামছেন, দল তাকেই প্রার্থী ঘোষণা করবেন, এমন প্রত্যাশা করছে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল। তারা মনে করেন, এই ঘোষণাটা ডিসেম্বরের আট তারিখেই আসবে। কেননা, গিয়াসউদ্দিন ছাড়া শামীম ওসমানের সাথে লড়াইটা জমবে না।

এ ব্যাপারে কথা হয় ফতুল্লা থানা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি অধ্যাপক খোন্দকার মনিরুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, “শামীম ওসমানের বিপরীতে গিয়াসউদ্দিন ব্যতিত আর কাউকেই কল্পনা করা যায় না। তিনি একজন দক্ষ রাজনীতিক। ভোটের মাঠে অত্যন্ত অভিজ্ঞ তিনি। এই সঙ্কটকালিন সময়ে নির্বাচনকে যুদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করেছেন আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই যুদ্ধে উপযুক্ত একজন কমান্ডার গিয়াসউদ্দিন। আসন পুনরুদ্ধারে তার বিকল্প নেই।”

ফতুল্লা থানা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা সম নূরুল ইসলাম বলেন, “যাকে দশ বছর মাঠে দেখা যায়নি। যিনি এই দশবছরে কোনো মামলার আসামী হয়নি। ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। সেই তাকে প্রার্থী হিসেবে তৃণমূল মেনে নিবে না। আর শামীম ওসমানের বিপরীতে লড়ার মতো কোনো ধরণের সক্ষমতা তার নেই। আসন পুনরুদ্ধারের গিয়াসউদ্দিনের বিকল্প নেই। কেননা, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস অসীম। ফলে ক্ষমতাসীন দলের নেতার সাথ লড়াই করার মতো সক্ষমতা একমাত্র তারই আছে। বিষয়টি কেন্দ্র বিবেচনা করবে বলে আশা করছি।”

ফতুল্লা থানা বিএনপি’র সিনিয়র সহসভাপতি ও কুতুবপুর ইউনিয়ণের তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু বলেন, “শাহ আলম মানুষ হিসেবে কেমন, সেটা মূখ্য বিষয় নয়। কিন্তু নেতা হিসেবে তাকে ১০ ভাগ মার্কও দেবো না। তৃণমূলের সাথে তার যোগাযোগ নেই, ভোটারদের সাথেও না। তাকে প্রার্থী হিসেবে কেন ঘোষণা করা হয়েছে, তা বোধগম্য না।”

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমএ হালিম জুয়েল বলেন, “এখানকার আসন পুনরুদ্ধারের জন্য গিয়াসউদ্দিনের বিকল্প নেই। শামীম ওসমানের সাথে লড়ার জন্য তিনিই একমাত্র যোগ্য। তিনিই ধানের শীষের প্রার্থী হবেন, এখনও আশা করছি। আর সেটি দলও ঘোষনা দিবে। তৃণমূলের দাবি অগ্রাহ্য দল কখনোই করবে না।”

মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক এসএম আসলাম বলেন, “শামীম ওসমান শক্তিশালী প্রার্থী। তার সাথে লড়াই করার মতো যোগ্যতা বা বিচক্ষণতা, কোনোটাই নেই শাহ আলমের। দলীয় নেতাকর্মীদের সাথেও তার কোনো যোগাযোগ নেই। ফলে লড়াই করে এই আসন পুনরুদ্ধারে গিয়াসউদ্দিনের বিকল্প নেই।”

২৯ নভেম্বর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে