NarayanganjToday

শিরোনাম

শাহ আলম ভালো লোক গিয়াস ভাইও, এই ব্যাটা কেডা : শামীম ওসমান


শাহ আলম ভালো লোক গিয়াস ভাইও, এই ব্যাটা কেডা : শামীম ওসমান

সাংসদ শামীম ওসমান বলেছেন, আমার তো মিটিং করারই কথা না। আমার প্রতিদ্বন্দ্বি যে ব্যাটায় দাড়াঁইছে, ওরে এলাকার মাইনষেই চিনেনা। আমিও তো খুঁজি ওই ব্যাটায় কেডা? শাহ্ আলম খুব ভালো লোক ছিলো, ভদ্রলোক ছিলো, গিয়াস ভাইয়ো একটা ভালো লোক ছিলো। বুঝতাম, কার সাথে খেলবো। ডান পাঁ দিয়ে গোল দিবো, বাম পাঁ দিয়ে গোল দিবো। তো আমি ওই ভাবেই ঠিক হইতাম যে, হেয় যদি বাম পাঁ দিয়ে গোল মারে তাহলে আমি ডান পাঁ দিয়ে বল লুইয়া ওই পাশ দিয়ে গোল দিতাম। হেই ব্যাটায় কোনহান দিয়া গোল দিবো, আমি তাও জানিনা।

বুধবার ( ১২ ডিসেম্বর) বিকালে ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়নের শীষ মহল এলাকায় নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দি ইউনাইটেড এসোসিয়েশন’র উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শামীম ওসমান বলেন, একটা জিনিস বুঝি, জঙ্গি। জঙ্গিবাদি করতে আসছে। বিভিন্ন জায়গা দিয়া লোক আসতাছে নারায়ণগঞ্জে নাকি? কি করবে? নারায়ণগঞ্জে ঘটনা ঘটাইবো? বোম ব্লাষ্ট হইবো? শামীম ওসমানকে মারবে? মইরা যাইতে পারি। মরে যাওয়ার আগে আপনারদের বলতে হবে আমায়, মৃত্যুকে আমি ভয় পাইনা। মৃত্যুতো আমার হইয়া গেছে ১৬ই জুন ২০০১। বোম ব্লাষ্টতো হইয়া গেছে, আমার শরীর নাই হইয়া গেছে সব কিছু। ২০ জন মানুষ মইরা গেছেলো আমার। রক্তের উপরে শুয়ে ছিলামগো মা। ও বোন রক্তের উপরে শুয়ে ছিলাম। পুরা ছাদ আমার উপরে পড়েছিলো। আমার বিশটা কলিজা একসাথে নাই হইয়া গেছিলো। এ হাতটা নাই হইয়া গেছিলো, উইরা গেছিলো। এ পাঁ-টা পুরা অবশ হইয়া গেছিলো, এহন চেয়ারে বইসা নামাজ পড়তে হয়।

তিনি বলেন, রক্তের উপরে শুইয়া ছিলাম, রক্ত কতটা গরম আমি জানি। রক্তের তাপ কি আমি জানিরে ভাই। ভয় আমি এক সেকেন্ডের জন্যও পাইনাই। আমার যখন জ্ঞান ফিরছিলো, তখন একটা কথা বলছিলাম। আমি কানে শুনতাছিলাম না কিছুই। বিবিসি আমেরিকা আমাকে বলছিলো কিছু বলবেন, কিছু বলবেন। আমি জানতাম না এত মানুষ মারা গেছে। হঠাৎ কানে বারি খাইতাছে কিছু বলবেন। আমি বলছিলাম ‘হুম’। বললো কি, আমি বললাম ‘শেখ হাসিনাকে বাঁচান’।

তিনি বলেন, আমার কথা সত্যি হইছিলো। ওনাকে মারার জন্য ২১ আগষ্ট বোম ব্লাষ্ট হইছিলো। আমি জানি, নারায়ণগঞ্জের যে খেলাটা এখন হবে। ওই ইলেকশন করার জন্য আসেন নাই ওনারা। হয়তো শামীম ওসমানকে বিভিন্নভাবে ঘায়েল করার জন্য আসবে। জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বক্তব্যতো কিছুদিন আগে প্রকাশই পাইছে। আমাদের এক বোনের নামই কইছে, মেয়রের নাম যে, ওনি আমাদের হয়ে কাজ করছে। রাজনীতি বড় কঠিন, নোংরা।

আমি জানি, আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমি স্বাধীনতার বিপক্ষে যাবো না। আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, এমপি হওয়াটা আমার বড় ব্যাপার হয় না। কি এমপি, কি দাম আছে। আমার দাদা এমপি ছিলো, আমার বাপ এমপি ছিলো, আমরা এক মায়ের তিন ভাই এমপি।

দি ইউনাইটেড এসোসিয়েশন’র সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপুর সভাপতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, এনায়েত নগর ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান, দি ইউনাইটেড এসোসিয়েশন’র  সাধারন সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লিটন, সহ সভাপতি মিজানুর রহমান, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক কামাল হোসেন, শেখ মো: কামরুজ্জামন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইদুর রহমান মনির, দেলোয়ার হোসেন প্রমূখ।

১২ ডিসেম্বর,২০১৮/এমবি/এইচ

উপরে