NarayanganjToday

শিরোনাম

সিংহের মতো গর্জে ওঠেও নির্বাচন থেকে সরে গেলেন কায়সার!


সিংহের মতো গর্জে ওঠেও নির্বাচন থেকে সরে গেলেন কায়সার!

নির্বাচন থেকে বসে পড়ার ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি কায়সার হাসনাত।

শুক্রবার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কায়সারের মোগরাপাড় বাড়িতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পর কায়সার এই ঘোষণা দিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে, কায়সার পন্থী কেউ এ নিয়ে মুখ খুলছে না। এ খবর তার অপজিশন প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকা পন্থীরাই ছড়াচ্ছেন।

এদিকে সন্ধ্যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কায়সারের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গিয়েছিলো। এ অভিযানে পুলিশ কায়সার সমর্থিত ১৫ জন নেতাকর্মীকে আটক করে বলে জানা গেছে।

এদিকে অভিযান শেষে কায়সার নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে শোনা যাচ্ছে। তবে, নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ব্যাপারটি নিজ মুখে এখনও নিশ্চিত করেননি কায়সার।

অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, কায়সার শর্ত সাপেক্ষে নির্বাচন থেকে সরে যাবে বলে জানিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ইতোপূর্বে তার যেসব নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। সে মামলা তুলে নিতে হবে এবং নিশর্তভাবে নেতাকর্মীদের যদি মুক্তি দেওয়া হয় তবেই তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন।

এদিকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত হতে কায়সারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তার ঘনিষ্ঠরা অনেকেই জানাচ্ছেন, অভিযানের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন কায়সারসহ তার নেতাকর্মীরা। তারাও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেননি কায়সার নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছেন কিনা। তবে, নির্বাচন থেকে সরা নিয়ে নানামুখি চাপ রয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সিংহ প্রতীকে প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়সার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন, এমন গুঞ্জন বিরাজ করছিল পুরো সোনারগাজুড়ে। এ ধরনের গুঞ্জন শুনে শুক্রবার দুপুরের পর থেকে কায়সারের অনুগামী নেতাকর্মীরা তার মোগড়াপাড় বাড়িতে জড়ো হতে থাকেন। পরে বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কায়সার গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন না। একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে কায়সার পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন। তিনি পুলিশের কাছ থেকে নিরপেক্ষ আচরণ প্রত্যাশা করেন।

সংবাদ সম্মেলন শেষে কায়সার তার ওই বাড়িতে অনুগামী নেতাকর্মী সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনের কৌশল বিষয়ে মত বিনিময় করছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ৭ টার দিকে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কায়সারের বাড়ি ঘেরাও শুরু করলে অনুগামী নেতাকর্মীরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ অন্তত ১০-১২ রাউন্ড গুলি ছুড়ে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।

জেলা পুলিশের মিডিয়া উইং ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ রোমন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও তিনি দাবি করেছেন, ওই বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। সেখানে নির্বাচন বানচাল করার লক্ষ্যে কায়সার, ধানের শীষ প্রার্থী মান্নান ও জামায়াত শিবিরের লোকজন গোপন মিটিং করছে, এমন সংবাদে সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে।

২৮ ডিসেম্বর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে