NarayanganjToday

শিরোনাম

আইভীর বিরুদ্ধে শামীম অনুসারীদের এক গাদা অভিযোগে ফের উত্তাপ


আইভীর বিরুদ্ধে শামীম অনুসারীদের এক গাদা অভিযোগে ফের উত্তাপ

আবারও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের দুই মেরুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে উত্তাপ। এতে করে উৎকণ্ঠায় রয়েছে সাধারণ মানুষ। ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারির মতো এই দুই মেরুর মদ্যে ফের কোনো ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে, এমন আশঙ্কা এখন উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলেই মনে করছেন নগরবাসী।

সম্প্রতি ত্বকী হত্যার ছয় বছরে আয়োজিত একটি সমাবেশে মেয়র আইভীর প্রদত্ত বক্তব্য এবং পরবর্তীতে নিখোঁজ সাদমান সাকির সন্ধান দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে ওসমান পরিবারকে জড়িয়ে বক্তাদের বক্তব্য এই উত্তেজনার পারদ ছড়াতে শুরু করে। যা সর্বশেষ এই উত্তেজনার অনলে নারায়ণগঞ্জের সচতেন নাগরিক সমাজের ব্যানারে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে ঘি ঢেলে দিয়েছে। এমন অভিমত সর্বস্তরের মানুষের।

ইতোপূর্বে ২০১৫ সালে আইভীর বিরোধীতা করে অনরূপভাবে সভা সমাবেশ হয়েছিলো নগরীতে। এর মূল নেতৃত্বেই ছিলেন সাংসদ শামীম ওসমান। সেসময় যুব ও ছাত্র সমাজের ব্যানারে এই বিরোধী নানা কর্মসূচি পালন করেন শামীম ওসমান অনুসারিরা।

এবার নাম ভিন্ন হলেও পূর্বেকার সেই চেনামুখগুলোর সাথে নতুন কিছু মুখ যুক্ত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে স্মারকলিপি প্রদান করে নারায়ণগঞ্জের সচতেন নাগরিক সমাজ। যদিও এই ব্যানারের পিছনে যারা ছিলেন তারা প্রত্যেকেই ওসমান পরিবার অনুসারি হিসেবে শহর ও শহরতলীতে পরিচিত। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, আইভী ও শামীম ওসমানের সেই পুরনো দ্বন্দ্ব পুনরায় নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের হাতে এই স্মারকলিপি তুলেন দেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূইয়া সাজনু, সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতি, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, মহানগর কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান লিটন, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শিরিন বেগম, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইসরাত জাহান স্মৃতি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ, মিজানুর রহমান সুজন প্রমূখ।

সূত্র বলছে, বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচন পূর্বে তথা ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নগরীর ডিআইটি চত্বরে ‘আইভী বিরোধী’ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাংসদ শামীম ওসমান। এ সমাবেশে সিটি করপোরেশনের প্রায় ২৪ জন্য কাউন্সিলরও উপস্থিত ছিলেন।

ওই সমাবেশে শামীম ওসমান দাবি করেছিলেন, বিভিন্ন উন্নয়ণমূলক কাজে ব্যাপক দুর্ণীতির আশ্রয় নিয়েছিলেন মেয়র আইভী। একই সাথে সিটি করপোরেশনের টেন্ডার সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, আগের রাতেই টেন্ডার ভাগাভাগি হয়ে যায়। এসব টেন্ডার মুনিয়া ও রতœা এন্টারপ্রাইজ সুফিয়ান ও জাকির ছাড়া আর কেউ পায় না। সুফিয়ান একসময় মাকসুদ ও সারোয়ারের চা টানতেন বলেও তিনি ওই সমাবেশে উল্লেখ করেন। একই সাথে সিটি করপোরেশনের মার্কেট, দোকান বরাদ্দের ক্ষেত্রে ‘হরিলুট’ করা হয়েছে বলেও তিনি সেসময় দাবি করে বক্তব্য রেখেছিলেন।

এবার প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরিত স্মারকলিপিতেও অনুরূপ অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে, এবার কিছু তথ্য প্রমাণ এর সাথে যুক্ত করা হয়। সেসব তথ্য প্রমাণের সাথে কিছু ভিডিও, অডিও ক্লিপ এবং ইউটিউবে আপলোডকৃত ভিডিও এবং অডিও’র লিংক সংযুক্ত করা হয়েছে।

১৯ মার্চ, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে