NarayanganjToday

শিরোনাম

রূপগঞ্জ যুবদলের ঘোষিত তিন কমিটির দায় নিচ্ছে না কেউই


রূপগঞ্জ যুবদলের ঘোষিত তিন কমিটির দায় নিচ্ছে না কেউই

দীর্ঘ মেয়াদী কমিটির কারনে সাংগঠনিক দুর্বলাতা ও ব্যর্থতায় নিম্মজিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অন্যতম সহযোগী সংগঠন যুবদল। জেলা ও মহানগর আওতাধীন প্রতিটি কমিটি নিয়ে স্থানীয় মিডিয়াতে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।

ইতিমধ্যে বন্দর, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁ নিয়ে যে তথ্য উঠে এসেছে তাতে লক্ষ্য করা যায় কোথাও অর্ধেক আবার কোথাও এক যুগের অধিক সময় ধরে চলছে দীর্ঘ মেয়াদী কমিটি। এরই ধারাবাহিকতায় রূপগঞ্জ উপজেলা ও ২টি পৌরসভা কমিটির খোঁজ খবরে তথ্য মিলেছে ব্যতিক্রম। জেলা যুবদলের আংশিক কমিটি পাওয়ার ১৪ দিনের মাথায় তড়িগড়ি করে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকনের ব্যক্তি উদ্যোগে কোনো সম্মেলন ছাড়াই রূপগঞ্জের ৩টি ৫১ সদস্য বিশিষ্ট পকেট কমিটির অনুমোদন করা হয়।

যদিও তারা দাবি করেছেন এসব কমিটি তারা অনুমোদন দেননি। আগের কমিটির সভাপতি মোশারফ হোসেন ও শাহ আলম মুকুল অনুমোদন দিয়ে গেছেন। তারা এসে নতুন করে এগুলোতে স্বাক্ষর করেছেন মাত্র। তবে, এমন কথা অস্বীকার করেছেন সাবেক কমিটির সভাপতি মোশারফ হোসেন ও সাধারণ সম্পামদ শাহ আলম মুকুল। তাদের দাবি, এসব কমিটি আমরা দিইনি। বর্তমান কমিটিই এসব কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।

এদিকে বর্তমান জেলা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে পকেট কমিটি দেয়ার বিষয় অস্বীকার করে তার দায়ভার চাপিয়ে দেন সাবেক জেলা যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুকুলের উপর। যা সাংগঠনিক নিয়ম নীতি বিরোধী কারন মোশারফ ও শাহ আলম কমিটি ঘোষণাকালিন সময় দায়িত্বে ছিলো না। আর সেটাই পরিষ্কার হয়েছে জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেনের বক্তব্যে।

মোশারফ বলেন, তারা যে অভিযোগ করেছে সেটার বিরুদ্ধে আমি কিছু বলবো না তবে, আমার একটা প্রশ্ন কমিটিগুলো অনুমোদনের সময় কারা দায়িত্বে ছিলো আর এর দায়ভার কাদের উপর যায়। আমরা যে কমিটি দিয়েছি এটা সেই কমিটি না। তারা কমিটি ঘোষণার আগে অনেক রদবদল করেছে।

এই বিষয় জেলা যুবদলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, সম্মেলন ছাড়া কমিটি ঘোষণা করা যাবে না এই নির্দেশনা এসেছে ১ মাস হবে, এর আগে ছিলো না। তাছাড়া রূপগঞ্জে যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে সেটা আগের যারা দায়িত্বে ছিলো তারা করেছে। এর ঠিক ১৫ দিন পর আমরা জেলার দায়িত্ব পেয়েছি। পরবর্তীতে তারা আমাদের কাছ থেকে নতুন করে স্বাক্ষর নিয়েছে।

এই বিষয় জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক  খোকন বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক কমিটিগুলো দিয়েছি তবে এই কমিটিগুলো সাবেক জেলা যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শাহ-আলম মুকুৃল কমিটি দিয়ে গেছে। আমরা সেই কমিটি ভাঙ্গিনী সম্মেলনের মাধ্যমে বাকি কমিটি করা হবে।

এদিকে বর্তমান দায়িত্বে থাকা জেলা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক দায়িত্বরতদের উপর দায় চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেও। যারা রূপগঞ্জ উপজেলা, কাঞ্চন পৌরসভা ও তারাব পৌরসভার দায়িত্বে রয়েছেন তাদের বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়গুলো অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে উঠে এর নেপথ্যে কারা।

এ বিষয় বর্তমান রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ভুলতা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলাম। পরবর্তীতে জেলা যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন আমাকে আহবায়ক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করেন। পাশাপাশি একই দিন তারাব ও কাঞ্চন পৌরসভার আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করেছেন।

তারাব পৌরসভা যুবদলের আহবায়ক আফজাল কবির বলেন, জেলা যুবদলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক  খোকন গত বছরের ৩ নভেম্বর আমাকে আহবায়ক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

কাঞ্চন পৌরসভা যুবদলের আহবায়ক মফিকুল ইসলাম খান বলেন, কাঞ্চন পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছি তাছাড়া আমি পৌর কাউন্সিলর হিসেবেও আছি। জেলা যুবদলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক  খোকন দলের এই দুঃসময়ে কাঞ্চন পৌর যুবদলের আহবায়ক হিসেবে আমার উপর দায়িত্ব প্রদান করেছেন। আমি চেষ্টা করবো সেই দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করার জন্য।

১৩ এপ্রিল, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে