NarayanganjToday

শিরোনাম

ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুলিশের ১৬ অভিযোগ!


ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুলিশের ১৬ অভিযোগ!
প্রথম আলোর সৌজন্যে

নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী ওসমান পরিবার বিশেষ করে এই পরিবারের দাপুটে সাংসদ শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে ১৬টি সুনির্দষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে জেলা পুলিশ। এমনই তথ্য জানিয়েছে একটি দৈনিক। আর তা নিয়ে চলছে এখন সর্বত্র আলোচনা সমালোচনা।

সেই চিঠিতে বলা আছে, অতীতে নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারের অবাধ্য হয়ে প্রশাসনের কেউ কিছু করেছেন, এমন দৃষ্টান্ত নেই। এমনকি বিএনপি ও জাতীয় পার্টির আমলেও ‘ওসমান সা¤্রাজ্য’ অক্ষত ছিল। পুলিশ প্রশাসন বলেছে, নারায়ণগঞ্জের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কথা ভেবে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে। সন্ত্রাসের জনপদকে শান্তির জনপদ বানাবে। কিন্তু তাদের ভয়, এই অভিযান যৌক্তিক পরিণতি পাবে কি না। ইতিমধ্যে ওসমান পরিবার এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

সম্প্রতি পুলিশ প্রশাসন পুরো পরিস্থিতি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যে চিঠি দিয়েছে, যাতে কোথায়, কোন তারিখে কোন অভিযানে কারা ধরা পড়েছেন, কারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন, তার বিবরণ আছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান সমর্থন করলেও সাংসদ শামীম ওসমান প্রশাসনের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত ১৬ দফা অভিযোগের সেই চিঠির যার প্রথম দফায় বলা হয়, তিনি (শামীম ওসমান) অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে এবং ওসিদের বদলির হুমকি দিয়ে আইভীপন্থী নিরীহ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করিয়েছেন। এসব আসামিকে গ্রেফতার করিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় দফা অভিযোগে বলা হয়, নির্বাচনের আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচনী সভায় আসতে শামীম ওসমানের অনুসারীরা বাধা দেন। পরে পুলিশ তার আসা-যাওয়ার পথ করে দিলে সর্ব মহলে তাদের ভূমিকা প্রশংসিত হলেও ওই সাংসদ ক্ষুব্ধ হন।

তৃতীয় দফায় আছে, শামীম ওসমানের দেহরক্ষী মিজান ফকির বেতারযন্ত্রের মাধ্যমে পুলিশের তথ্য ফাঁস করে দিলে তার কাছ থেকে সেই যন্ত্র ফেরত নেওয়া হয়। দেহরক্ষী সাংসদের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিযুক্ত হলেও সাংসদপুত্র অয়নকেও নিরাপত্তা দিতেন। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে অস্ত্রসহ কক্সবাজারে যান, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এরপর ওই দেহরক্ষীকে অন্যত্র বদলি করা হয়।

চতুর্থ দফায় বলা হয়, শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ২১ মামলার আসামি মীর হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এলেও ক্ষুব্ধ হন সাংসদ। এ ছাড়া ভূমিদস্যু, মাদক কারবারিদের ছাড়িয়ে নিতে শামীম ওসমান তদবির করেছেন এবং হুমকি দিয়েছেন বলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো অভিযোগে জানানো হয়। এতে আরও বলা হয়, শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহ আলম গাজী ওরফে টেনু গাজীকে গ্রেফতার করায় সাংসদ ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের ৫ নম্বর ঘাটসংলগ্ন এলাকায় ৪১ জন জুয়াড়িকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই জুয়াড়িদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যার নাম উঠে এসেছে, তিনি শামীম ওসমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ফতুল্লা বালুর ঘাটে জনৈক ইকবাল হোসেন চৌধুরীর গোডাউন থেকে তেল চুরির সময় তিন তেল চোরকে গ্রেফতার করায়ও সাংসদ ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

পুলিশ প্রশাসনের অপর এক অভিযোগে বলা হয়, জনৈক আজিজুল গাফফার খান শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমানের সম্বন্ধী ভিকিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মামলা করেছেন। এ ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার হলেও ভিকি পলাতক।

 সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ পুলিশ মেরি এন্ডারসনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও ৬৮ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, এই ব্যবসায় শামীম ওসমানের শ্যালক টিটু জড়িত।

১৪ এপ্রিল, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে