NarayanganjToday

শিরোনাম

বৈষম্যের মধ্য দিয়ে গঠন করা ফতুল্লা বিএনপি লাপাত্তা!


বৈষম্যের মধ্য দিয়ে গঠন করা ফতুল্লা বিএনপি লাপাত্তা!

সরকারের দমন নিপিড়নের কাররেন এমনিতেই সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নাজুক অবস্থা। তার উপর বৈষম্যমূলক আচরণের মধ্য দিয়ে সরকার দলীয় চাটুকার ও অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে আহবায়ক কমিটি গঠন করার কারণে জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন অঞ্চল ‘ফতুল্লা থানা বিএনপি’ নামক কোনো সংগঠন আছে কি নেই, তা অনুমান করতে পারছে না খোদ দলের নেতাকর্মীরাও।

বর্তমান আহবায়ক কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে তৃনমূলের কয়েকজন নেতাকর্মীর সাথে আলাপকালে এ চিত্র উঠে আসে।

তবে পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ‘নারায়ণগঞ্জ টুডে’কে তারা বলেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি  এবং ফতুল্লা কমিটির সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন ব্যবসায়ী শাহ্ আলম। পদত্যাগ করার সাথে সাথেই থানা কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে  এর পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি তড়িঘড়ি করে সরকার দলীয় চাটুকার হিসেবে পরিচিত অ্যাড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসকে আহবায়ক এবং রাজনীতিতে অপরিপক্ক নজরুল ইসলাম পান্না মোল্লাকে সদস্য সচিব করে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেন জেলা কমিটির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।

অপরদিকে ওই কমিটিতে স্থান পাওয়া সিংহভাগ নেতারই অভিযোগ এই কমিটি গঠনের ব্যপারে তাদের সাথে বিন্দু পরিমান আলাপ-আলোচনা করা দূরে থাক পদ দেয়ার ব্যপারে অনুমতি নেয়ারও প্রয়োজন মনে করেনি।

ঠিক একই রকম অভিযোগ করে ওই কমিটিতে সদস্য পদে স্থান পাওয়া জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার বলেন, এই কমিটি গঠনের ব্যপারে আমি কিছুই জানিনা, আজো পর্যন্ত কেউ বলেওনি। তবে গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে জেনেছি। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, কমিটির অনুমোদন দেয়ার পর থেকে অদ্য পর্যন্ত কোন সাংগঠনিক কর্মকান্ড পালন দূরে থাক, অদ্য পর্যন্ত কমিটির সকল সদ্যদের নিয়ে একসাথে বসারও প্রয়োজন মনে করেনি দায়ীত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এই নামে ফতুল্লা বিএনপির কোন সংগঠন আছে, সেটাইতো বুঝার উপায় নাই।

এই কমিটি গঠনের বেলায় থানা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুল আলম সেন্টুর সাথে বৈষম্যমূলক আচরন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন রুহুল আমিন সিকদার। তিনি বলেন, যে অভিযোগে মনিরুল আলম সেন্টুকে অভিযুক্ত করে বহিস্কার করা হয়েছে একই অভিযোগে অধিক পরিমানে অভিযুক্ত আজাদ বিশ্বাস। তাছাড়া সেন্টু মাঠ পর্যায়ের কর্মী বান্ধব নেতা। তবে তিনি কেন দলের বাইরে? 

অপরদিকে যুগ্ম আহবায়কের পদ পাওয়া কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওমর আলী অবশ্য বলেন, কমিটি ঘোষনার পর অদ্য পর্যন্ত মাত্র একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে শুধুমাত্র যুগ্ম আহবায়কদের নিয়ে বসা হয়েছিল। এর বাইরে অন্যান্য প্রসঙ্গে জবাব দিতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

আরেকদিকে একই থানা এলাকার বাসিন্দা জেলা যুব দলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু বলেন, দলের একটি অঙ্গ সংগঠনের দায়ীত্বশীল পদে থেকে খুবই কষ্ট লাগে যখন আমার দেখি নিজ থানা এলাকায় দলের অস্তিত্ব নেই। আর অস্তিত্ব থাকবেইবা কিভাবে? যাকে এই কমিটির আহবাক করা হয়েছে সেতো আওয়ামী লীগের এজেন্ট। অথচ মনিরুল আলম সেন্টুর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ না থা সত্বেও তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে আর আওয়ামী লীগের চিহ্নিত এজেন্ট আজাদ বিশ্বাসকে করেছেন পুরষ্কিত। ফতুল্লায় বিএনপির রাজনীতে সেন্টুর মত কর্মী বান্ধব রাজপথের পরীক্ষিত নেতা আমার চোখে পড়ে না। তাই আমি মনে করি বৈষম্যমূলক আচরনের মধ্য দিয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির আহবায়ক কমিটি করা হয়েছে।

১৫ মে, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে