NarayanganjToday

শিরোনাম

কারামুক্ত বিতর্কীত ডিস বাবুকে বরণ করে নিলেন শামীম ওসমান!


কারামুক্ত বিতর্কীত ডিস বাবুকে বরণ করে নিলেন শামীম ওসমান!

আট মামলার সব কটিতে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বিতর্কীত কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবু। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) বিকেল চারটার দিকে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা কারগার থেকে জামিনে বের হয়ে আসেন।

এদিকে ডিস বাবু জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদীরা। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে পৃথক আটটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়। এই আট মামলার বাদী আটজন। তারা প্রত্যেকেই এখন ডিস বাবু আতঙ্কে রয়েছেন।

অপরদিকে ডিস বাবু বিকেলে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে এলে তাকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান উপস্থিত থেকে বরণ করে নেন। পরে বাবুকে নিয়ে সাংসদ শামীম ওসমান চাষাড়া রাইফেল ক্লাবে চলে আসেন। এখানে ডিস বাবু কিছুক্ষণ অবস্থান করে বিকেল ৫ টার দিকে তার নিজ বাড়ি পাইকপাড়াতে চলে যান। খবর সংশ্লিষ্ট।

নারায়ণগঞ্জ জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবুর মুক্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ টুডে’কে জানান, কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবুর বিরুদ্ধে ৮টি মামলা ছিলো। তিনি সবকটি মামলায় জামিন পেয়েছেন। জামিনের সকল কাগজপত্র জেল কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছানোর পর নিয়মানুসারে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে একই দিন দুপুরের দিকে নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মো. আনিসুর রহমানের আদালতে সদর মডেল থানায় দায়ের করা ডিস বাবুর বিরুদ্ধে সর্বশেষ মামলার জামিন শুনানি হয়। পরে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবু নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য। এছাড়াও তিনি সর্বত্র সাংসদ শামীম ওসমানে ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শহর ও শহরতলীর স্যাটেলাইট ব্যবসার একচ্ছত্র আধিপত্য তার। তাকে চাঁদা না দিয়ে এখনও পর্যন্ত এ ব্যবসা কেউ করতে পারেনি।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মধ্যে সব থেকে আলোচিত ও সমালোচিত কউন্সিলর ছিলো নূর হোসেন। তিনি এখন ৭ খুন মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী হিসেবে মৃত্যুর প্রহর গুণছেন। তবে, এবার তথা ২০১৬ সালের সিটি নির্বাচনে এই ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে সর্বাধিক সমালোচিত কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু।

১৭ এপ্রিল দুপুরের দিকে বন্দরের কাউসার নামে এক ব্যক্তির দায়েরকৃত চাঁদাবাজির মামলায় নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবুকে তার পাইকপাড়া এলাক থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো। এছাড়াও বাবুর বিরুদ্ধে আরও পৃথক তিনটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন মোক্তার হোসেন, কুসুমসহ তিন ব্যক্তি।

অপরদিকে ২০১৩ সালের ১২ জুলাইয়ে দুস্যতার অভিযোগে ৩৯৪ ধারায় কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবুর বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছিলো। যার নং ১০। এই মামলায় গ্রেফতার দেলোয়ার হোসেন ওরফে ছোট দেলু ও মো. ঝন্টু ডাকাতির ঘটনায় ডিস বাবুর সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি প্রদান করে। এ মামলায় ৩০ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট দিয়েছেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম। এতে বাবুর সংশ্লিষ্টতা উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়াও আব্দুল করিম বাবুর বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে ২০১৭ সালের ১৭ মে ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩, ৫০৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের হয়। যার নং ২৯। একই থানায় ২০১০ সালের ১৩ জুন ৪৪৮, ৩২৩, ৫০৬ ধারায় আরও একটি মামলা রয়েছে। যার নং ২২।

২৩ মে, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে