NarayanganjToday

শিরোনাম

হ-য-ব-র-ল না.গঞ্জ আ.লীগ, কমিটি গঠনে নেই উদ্যোগ!


হ-য-ব-র-ল না.গঞ্জ আ.লীগ, কমিটি গঠনে নেই উদ্যোগ!

আওয়ামী লীগের জন্মস্থান, আওয়ামী লীগের দূর্গ কিংবা আন্দোলনের সূতিকাগার নারায়ণগঞ্জ। এসব বিশেষণ এখন একবারেই বেমানান বলে দাবি করছেন অনেকে।

দীর্ঘ প্রায় এক যুগেরও বেশী সময় আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে পার করার পর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হলেও জেলার ৭ টি থানা কমিটির সবগুলোই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ। এছাড়া জেলা ও মহানগরের বর্তমান কমিটি সহ প্রায় সবগুলো কমিটি দ্বন্দ্ব আর কোন্দলে জর্জরিত।

সূত্র মতে, সর্বশেষ ১৯৯৭ সালের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নাজমা রহমান সভাপতি ও সংসদ সদস্য শামীম ওসমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর দীর্ঘ ১৯ বছরেও আর কোনো সম্মেলন হয়নি। ২০০২ সালের ২৭ মার্চ সাবেক এমপি এসএম আকরামকে আহ্বায়ক ও মফিজুল ইসলামকে যুগ্ম-আহ্বায়ক করে ৬৩ সদস্যবিশিষ্ট জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি তিন মাসের মধ্যে সম্মেলন করে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও তা ১৪ বছরেও হয়নি। এরমধ্যে ২০১১ সালের নভেম্বরে জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করে এসএম আকরাম যোগ দেন নাগরিক ঐক্যে।

অপরদিকে ২০১৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মফিজুল ইসলাম মারা যান। এরপর থেকে নেতৃত্বশূন্য ছিল জেলা আওয়ামী লীগ। এর পর ২০১৬ সালের অক্টোবরে আব্দুল হাইকে সভাপতি ও অ্যাড. আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক এবং নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সিনিয়র সহ-সভাপতি করে তিন সদস্যের জেলা আওয়ামী লীগের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। যা পরবর্তী বছর ১৭ সালের ২৫ নভেম্বর ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্নাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও অ্যাড. খোকন সাহাকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষনা করে পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে পূর্নাঙ্গ কমিটি জমা দিতে নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। কিন্তু এর প্রায় ২ বছর ৩ মাস পর ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্নাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন দলের সভানেত্রী। এর ফলে নেতৃত্বের শূন্যতা দূর হলেও সিটি মেয়র আইভী ও সাংসদ শামীম ওসমানের মধ্যকার দ্বন্দ্ব আর কোন্দলের কারনে উভয় কমিটি দুইভাগে বিভক্ত হয়ে আছে শুরু থেকে।

অপরদিকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি দেয়া হলেও  ৭টি সাংগঠনিক থানা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটিগুলোর মেয়াদ শেষ কয়েক বছর আগে। অথচ এখনো পর্যন্ত সেসব কমিটি নতুন করে সাজানোর কোনো ধরনের উদ্যোগ বা পরিকল্পনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ এসব কমিটির কেবলমাত্র ফতুল্লা বাদে বাকী সবগুলোই দ্বন্দ্ব আর কোন্দলে জর্জরিত। এ পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশী বিরাজ করছে সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁ থানা কমিটিতে। 

অন্যদিকে প্রায় অভিন্ন অবস্থা বিরাজ করছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক, কৃষক ও শ্রমিক লীগেও।

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এর ফলে নারায়ণগঞ্জে নতুন প্রজন্মের মেধাবী কোনো নেতা গড়ে ওঠেনি। যারা পদে রয়েছে তারা আজীবন পদ আঁকড়ে থাকার মানসিকতা নিয়ে কাজ করছেন।

১০ জুন, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে