NarayanganjToday

শিরোনাম

লেজে গোবরে না.গঞ্জ যুবদল, দুই কমিটির সিকিভাগও নেই কর্মসূচিতে


লেজে গোবরে না.গঞ্জ যুবদল, দুই কমিটির সিকিভাগও নেই কর্মসূচিতে

বিএনপি’র অন্যতম সংগঠন যুবদল নারায়ণগঞ্জে পুর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনার দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস অতিবাহিত হলেও এখনও সাংগঠনিক কর্মকান্ডে তেমন কোনো মুন্সিয়ানা দেখাতে পারেনি। কমিটি ঘোষণার পর থেকে পদ বানিজ্য, সমন্বয়হীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতা সহ নানা অভিযোগে রাজনৈতিক অঙ্গনে সংগঠনটি কয়েক ভাগে বিভক্তি হয়ে পড়েছে। ফলে দলীয় কর্মসূচি থেকে শুরু করে সাংগঠনিক কর্মকান্ডে সংগঠনের নেতা ও কর্মীরা কোনো সফলতা দেখাতে পারেনি।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর মিলে দুই কমিটিতে সর্বমোট ৪শ’ ২জন নেতার অবস্থান থাকলেও দলীয় কর্মসূচিতে উপস্থিতির দেখা মিলে চার ভাগের এক অংশের। এনিয়ে জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাদের দাবি কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তাদের সুপারিশকৃত কমিটির অনুমোদন না দেয়াতেই এই সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, আমরা দলের বর্তমান অবস্থা চিন্তা করে সকলকে সম্মিলত করে যে কমিটির বিষয় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছি, সেই কমিটির অনুমোদন না দিয়ে তার বিপরীত কমিটির অনুমোদন দিয়েছে। ফলে যারা কমিটিতে গুরুত্বপুর্ন পদ পদবি নিয়ে সংগঠনের দায়িত্ব গ্রহন করেছেন তারা আমাদের নেতৃত্ব মানছেন না। ফলশ্রুতিতে সহযোগী সংগঠন থেকে আমাদের যে ফিডব্যাক পাওয়ার কথা ছিলো তার ছিটেফোঁটাও পাই না।

এছাড়াও অনেক সিনিয়র নেতৃবৃন্দ যারা যোগ্যতানুসারে পদ পদবি পাওয়ার কথা ছিলো তারা সেটা পায়নি। অনেক অযোগ্য ব্যক্তিারা গুরুত্বপুর্ন পদে আসিন হয়েছে। এরফলে দলের প্রকৃত অনেক নেতাই রাজনীতি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছেন।

অপরদিকে জেলা ও মহানগর যুবদলের অনেক নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেছেন, যারা দলে থেকে  সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সাথে আঁতাত করে চলছে, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা তাদেরকেই মূল্যায়ন করছেন। আর যারা সরকারের জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়ে বাড়ি ঘর ছাড়া তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে।

কমিটিতে যাদেরকে ঠাঁই দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে অধিকাংশ নেতাকর্মী বিএনপির হরতাল অরবোধ সহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে রাজপথে ছিলো না। তারা শুধুমাত্র সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্টজন হিসেবে ঘরে বসেই পদ পদবী পেয়েছেন। আর যারা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন, শত শত মামলা হামলায় জর্জরিত হয়েছেন তাদের কোনো নাম কমিটির মধ্যে রাখা হয়নি।

তারা আরও বলেন, আমাদের সাথে বর্তমান কমিটির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই। তবে তাদের এই অন্যায়কে আমরা প্রশ্রয় দিতে রাজি নই। আমরা এ বিষয়ে খতিয়ে দেখাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদেও প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। 

কেননা, যদি এভাবে একের পর এক কমিটি দেওয়া হয়, তাহলে আগামীতে বিএনপির জন্য প্রকৃত কর্মী পাওয়া অসম্ভব হবে। মূল্যায়ন না পেয়ে এ দলটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করবে তৃণমূল নেতাকর্মীরা। ফলে শহীদ জিয়ার আদর্শে গড়া দল বিএনপি আরও দূর্বল হয়ে পড়বে, ধ্বংসের দৌড়গোরায় পৌঁছে যাবে। এ জন্য দায়ি থাকবে সুবিধাবাদী কিছু নেতা সহ কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতবৃন্দ। যারা বিচার বিশ্লেষণ না করে যার-তার হাতে কমিটি তুলে দিচ্ছেন।

জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, ত্যাগী নেতাদের অগ্রাধীকার দিয়ে সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা ও মহানগর যুবদলের কমিটি পুনরায় ঘোষণা দেয়া হউক। কেননা, ত্যাগী নেতাদের অগ্রাধীকার দিলে বিএনপিতে আবারও উচ্ছ্বাস শুরু হবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।

১১ জুন, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে