NarayanganjToday

শিরোনাম

ফতুল্লায় দুই যুগ ধরে লাপাত্তা ছাত্রদল, নেই কমিটি কার্যক্রম


ফতুল্লায় দুই যুগ ধরে লাপাত্তা ছাত্রদল, নেই কমিটি কার্যক্রম

শিল্পাঞ্চল ও রাজনৈতিক কারনে ফতুল্লা থানা অঞ্চলকে নারায়ণগঞ্জ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ন অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে দেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিকে সর্বদা চাঙ্গা রাখে এ অঞ্চলের নেতাকর্মীরা।

তাছাড়া এ অঞ্চলেই অবস্থিত জেলার অধিকাংশ সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার কার্যালয়, সিভিল সার্জন, পুলিশ লাইন, জেলা পরিষদ, জেলা আদালত ও জেলা কারাগার। 

অথচ এমন একটি গুরুত্বপূর্ন অঞ্চলে দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে নেই বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদলের কমিটি। যা শুনে দেশের অন্যান্য যেকোনো জেলার রাজনৈতিক মহল এ বিষয়টি বিশ্বাসই করতে চান না।

সূত্র মতে, সর্বশেষ ১৯৯৫ সালে মো. আক্তার হোসেনকে সভাপতি ও সেলিমকে সাধারণ সম্পাদক করে ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের কমিটি করা হয়েছিল। সেই থেকে আজ পর্যন্ত আর কোনো কমিটির দেখা পায়নি ছাত্রদল।

অথচ যেকোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সাংগঠনিক কর্মকান্ড পালনে অগ্রনী ভূমিকা পালন করে থাকে ছাত্র সংগঠন। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এখানে ছাত্র সংগঠনের কোনো কমিটি না থাকায় বিএনপি নামক বড় দলটি আজ বিলীন হবার দ্বার প্রান্তে অবস্থান করছে বলে মনে করছেন খোদ নিজ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

এছাড়া নির্দিষ্ট সময়গুলোতে ছাত্রদলের নতুন নতুন কমিটি গঠন না করায় নতুন নেতাও সৃষ্টি হচ্ছেনা। যেকারনে এ দলটির ছাত্র রাজনীতি থেকে এখন অনেকই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

সূত্র মতে আরো জানা গেছে, ৯৫ সালের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত ফতুল্লা থানা ছাত্রদল ছিল অনেক শক্তিশালী। সেময় এ কমিটির সভাপতি ছিলেন রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রাকিব উদ্দিন সুমন ও সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার।

তাদের নেতৃত্বাধিন কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলনা কোনো বিভেদ। সকল সদস্যের মধ্যে ঐক্য থাকার কারনে জেলার সবচাইতে শক্তিশালী ও গুছানো বলা হতো তাদের কমিটিকে। কিন্তু এর পর থেকে ফতুল্লায় আর আলোর মুখ দেখেনি ছাত্রদল। কবে দেখবে, তাও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না দলের নীতি নির্ধারকেরা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি বলেন, জেলার ৫ টি উপজেলা সহ সকল থানা ও কলেজ কমিটির খসড়া আমরা করে ফেলেছি। কিন্তু সম্প্রতি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙ্গে দেয়ায় কেন্দ্রীয় নির্দেশে আমরা এই মূহূর্তে কমিটিগুলো ঘোষণা করতে পারছিনা। তবে সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন হবার পর আশা করছি সামনে কোরবানীর ঈদের পর ফতুল্লাসহ জেলার সকল উপজেলা ও থানা কমিটি ঘোষনা করতে পারবো।

২৪ জুন, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে