NarayanganjToday

শিরোনাম

নাসিকের বাজেট অনুষ্ঠানে ‘সূক্ষ্ম রাজনীতি’ রয়েছে!


নাসিকের বাজেট অনুষ্ঠানে ‘সূক্ষ্ম রাজনীতি’ রয়েছে!

সিটি করপোরেশনের বাজেট ঘোষিত হতে যাওয়া বাজেট অনুষ্ঠান নিয়ে ‘সূক্ষ্ম রাজনীতি’ রয়েছে বলে মন্তব্য করছেন সাংসদ সেলিম ওসমান। একই সাথে তিনি বাজেট অনুষ্ঠানের তাকে অতিথি করা হবে সেখানে তিনি সম্মতি দেননি তাই আমন্ত্রণ পত্রে তার নাম দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

এর কারণ হিসেবে তিনি ব্যাখ্যা করে বলেছেন, বাজেট অনুষ্ঠানে অতিথি হতে হওয়ার দরকার আছে বলে মনে করিনি তাই সম্মতি দিইনি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যাদের দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিটি করপোরেশনের বাজেট প্রসঙ্গ উঠলে তিনি ওই কথা বলেন। সাংসদ সেলিম ওসমানের মেইল থেকে প্রেরিত বার্তা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

উপজেলার ওই অনুষ্ঠানে সাংসদ সেলিম ওসমান জানান, বাজেট কেমন হবে, মানুষের চাওয়া কি, এসব নিয়ে সিটি এলাকায় দুজন এমপি আছেন তাদের সাথে, কাউন্সিলরদের সাথে, ব্যবসায়ীদের সাথে এবং সিটির বাসিন্দাদের সাথে বাজেট নিয়ে ‘প্রাক বাজেট’ আলোচনা করার দরকার ছিলো। কিন্তু সেটি করা হয়নি বলেই আমি নিশ্চিত হয়েছি।

বাজেট সম্পর্কে তিনি বলতে গিয়ে বলেন, আমি নিশ্চিত হয়েছি বাজেট করার পূর্বে প্রাক বাজেট নিয়ে কাউন্সিলদের সাথে কোন আলোচনা হয়নি এমনকি কোনো ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অথবা এলাকার মানুষ কেমন বাজেট চায় এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় নারায়ণগঞ্জ-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ দু’জন সংসদ সদস্য সম্পৃক্ত রয়েছে তাদের সাথেও আলোচনা হয়নি।

সেলিম ওসমান বলেন, ২০১৭ সালে সিটি করপোরেশনের বাজেট অনুষ্ঠানে বিকেএমইএ এর সভাপতি হিসেবে আমি স্বেচ্ছায় সেখানে গিয়েছিলাম। মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী আমাকে মঞ্চে তুলেছেন। এবারেও উনি আমাকে সম্মানের সাথে দাওয়াত দিয়েছেন। টেলিফোনে কথা বলেছেন, দাওয়াত দিয়েছেন আমি দাওয়াত গ্রহন করেছি।

তিনি বলেন, আমি মেয়রকে প্রাক বাজেট আলোচনার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু কার্ডে নাম দেখে আমি আশ্চার্য হয়েছি। বাজেট অনুষ্ঠানে অতিথি হওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয়না তাই আমি সম্মতি দিইনি। কিন্তু কেন যেন আমার কাছে মনে হয়েছে এখানে একটি ‘সূক্ষ্ম রাজনীতি’ রয়েছে।

সেলিম ওসমান বলেন, বাজেট অনুষ্ঠান নিয়ে কোনো রাজনীতি কাম্য নয়। আমি আল্লাহ কাছে প্রার্থনা করি যাতে করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দাদের জন্য একটি সুন্দর বাজেট হয়, যেখানে সিটি করপোরেশনবাসীর কোনো দুর্ভোগ থাকবে না। আমি দোয়া করি আল্লাহ মেয়রের সহায় হোক।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান এমএ রশিদ, ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানু, নারী ভাইস চেয়ারম্যান ছালিমা বেগম শান্তা, বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মাহমুদা আক্তার, কাউন্সিলর ফয়সাল আহম্মেদ সাগর, কাউন্সিলর গোলাম নবী মুরাদ, কাউন্সিলর হান্নান সরকার, কাউন্সিলর সুলতান আহম্মেদ, কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, কাউন্সিলর এনায়েত হোসেন, কাউন্সিলর শামসুজ্জোহা, কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বাবুল, আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওশেদ আলী, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.এ সালাম, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ প্রমূখ।

প্রসঙ্গত, আসছে ১৪ জুলাই ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা করবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

১১ জুলাই, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে