NarayanganjToday

শিরোনাম

এখনকার পুলিশের অনেক সাহস, আগে রাজনীতি করছি সাহস পেত না : শামীম ওসমান


এখনকার পুলিশের অনেক সাহস, আগে রাজনীতি করছি সাহস পেত না : শামীম ওসমান

‘একদিনে ৪৯ টা কেইসও খাইছি’ উল্লেখ করে শামীম ওসমান বলেন, তখন দেখতাম আমারে দেখলে পুলিশ দৌঁড় দেয়। কেইস খাইলে জামিন নিতাম না। কেইস খাইলে খুশি হইতাম কারণ পুলিশের থেইকা পয়সা নিতাম। পুলিশ আমারে ধরতে সাহস পাইতো না। এখনকার পুলিশের অনেক সাহস। এখন দেখি পুলিশ, মার্ডার হইছে এক জায়গায় আর পুরা নারায়ণগঞ্জ শহরের মানুষের নাম দিয়া দেয়। তখনকার পুলেশর অত সহস ছিল না। রাজনীতি করতাম তো তাই সাহসটা কম ছিলো।

শনিবার (২৭ জুলাই) দুপুরের দিকে শহরের বাঁধন কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ কমিটির দ্বি-বার্ষিকী সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওই কথা বলেন তিনি।

শামীম ওসমান বলেন, আদর্শ স্কুলে গেলাম। গোলাম আযমের লেখা বই তারা পড়ায়। জিগাইলাম হেড মাস্টাররে- এই বইটা আপনারা পড়ান? কইলো হ্যাঁ পড়াই। এই বইটা কি পাঠ্য পুস্তুকের তালিকায় আছে? কইলো নাই। কোন সাহলে পড়ান? কইলো আপনারা কৈফিয়ত দিতে হবে? আমি দেখলাম আমারে তো ডরায় না! বুঝলাম সামথিং রং। দেখলাম আমার চারদিকে ঘেরাও হচ্ছে। ওরা ক্রিচগুলো খুলতেছে। হাতের কাছে একটা চেয়ার পাইলাম, দিলাম ওইডা দিয়া প্রিন্সিপ্যালের মাথায় বাড়ি।

তিনি বলেন, ওই সময় নারায়ণগঞ্জের এসপি নিলো উনাদের পক্ষে আর ডিসি নিলো আমাদের পক্ষ। পরে গিয়া দেখলাম শহীদ মিনারটা রাখা হইছে এমন ভাবে, বাথরুমটা উপরে, সেখানে প্রশ্রাব করবে আর শহীদ মিনারে টপটপ কইরা পড়বে। পরে খবর নিলাম, এই প্রিন্সিপালটা কে? জানলাম সে মুজাহিদী। প্রতিদিন অস্ত্রের ট্রেনিং দেওয়া হতো। পরে খবর পাইয়া একটা মুসলিম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আইসা হাজির হইলো। ডিসিরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলী করা হলো। কারণ সে আমাদের পক্ষ নিছে।

শামীম ওসমান আরও বলেন, আমার অবাক লাগে, দুঃখ লাগে, যখন দেখলাম, এ দেশের মা-বোনদের সম্ভ্রম নেয়ার জন্য, ত্রিশ লক্ষ মানুষকে হত্যা করার নেপথ্যে নায়ক হিসেবে কাজ করার অপরাধে, যখন মুজাহিদি ফাঁসির মঞ্চে তখন তার ছেলেরা, সন্তানেরা জন্ম নিববন্ধ নিয়েছে নারায়ণঞ্জ সিটি করপোরেশন থেকে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকার ভোটের মাধ্যমে হটানোর মতো ক্ষমতা কারোর নাই। তাই যারা ভোটে বিশ্বাস করে না। ওয়ান ইলাভেন সৃষ্টি করে। সেই দেশ বিদেশের শক্তি চেষ্টা করতাছে বাংলাদেশে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশে যে রোহিঙ্গা ইন করা হয়েছে, ওটা একটা গেম। বাইরের কিছু না। আপনারা যদি মনে করেন, এখন ভেরি গুড টাইম, বলবো না। গুড টাইম কিন্তু ভেরি গুড টাইম না। সামনে অনেক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে। তবে, কিচ্ছু হবে না। জয় আমাদেরই হবে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এই সাংসদ বলেন, একসময় আমরা যখন সবাই পালায়ে আছি তখন কিন্তু চন্দন শীল নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের হাল ধরেছে। দুই পা নাই, একা। এবং সাহস করে ধরেছে এই কারণে তার ভেতর দেশ প্রেম ছিলো, সৎ সাহস ছিলো। জার্মানিতে নাগরিকত্ব পাওয়ার পরও সে যায় নাই। আমি সম্মান করি তাকে। এখন আমার কাছে মনে হয়, বাংলাদেশের সবাই আওয়ামী লীগ করে, আমি ছাড়া।

তিনি বলেন, এখন কিন্তু নাটক দেখবেন অনেক রকম। ৭৫ এর পূর্বে এমন নাটক কিন্তু দেখা যাইতো অনেক রকম। যখন এত নাটক হয়, তখন কিন্তু পিছন দিক দিয়া আঘাত হয়। সব কথার মধ্যে আমরা একটা কথা আনছি যে, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা। অর্থাৎ সব জিনিস একটা কেন্দ্রে যেয়ে আঘাত করছে। কেউ যদি কেন্দ্রটাকে আঘাত করে কি হবে, প্রস্তুতি আছে? আমার তো মনে হয় প্রস্তুতি নাই। ৭৫ এ ১৫ আগস্টের পরে যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিলো, বাইরের লোক আইসা করে নাই, ঘরের লোকই কিন্তু করছিলো।

সাংসদ বলেন, জামাত বিএনপি নিয়া চিন্তা কইরেন না। এরা কোনো শক্তিশালী দল না। এখন বাংলাদেশে দুইটা দলই আছে। একটা হচ্ছে আওয়ামী লীগ, আরেকটা এন্ট্রি আওয়ামী লীগ। নারায়ণগঞ্জের পবিত্র মাটিতে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে। এখানেই গোলাম আযমকে নিষিদ্ধ করেছিলাম। পার্লামেন্টে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কথা বললাম। উনি বললেন, তোকে দেখে নেব। উনি কিন্তু দেখে নিয়েছেন। আমরা কিন্তু দেখে নিতে পারি নাই। বোমা হামলা হয়েছে। আমাকে আমার দল থেকে বলা হলো, নেত্রী খবর পাঠালেন, এই মুহূর্তে ঢাকা চলে আসো। তিনি বললেন, তুমি নারায়ণগঞ্জে থাকতে পারবে না। জানতে চাইলাম কেন? উনি বললেন তোমার উপর হামলা করা হবে। অনেকেই জানেন না। এখন নারায়ণগঞ্জে যারা আওয়ামী লীগের ধারক বাহক হতে চায়। যাদের রূপ প্রকাশ হচ্ছে আস্তে আস্তে।

শামীম ওসমান বলেন, ভুল মানুষেরই হয়, হইতেই পারে। আমারও আছে। আপনারও আছে। বাট আমার মনে হয়, নারায়ণগঞ্জে কিছু খেলা চলতেছে। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। এই ঘাঁটিকে ভাঙার জন্য অনেকেই মিলে খেলা খেলতেছে। যেহেতু খেলতেছে হয়তো আমাকেই রাস্তায় নামতে হবে। যারা খেলতেছে তাদেরকে বলি, বয়স ৫৮ হয়ে গেছে, মেন্টালি কিন্তু ১৮ বছরই রয়ে গেছে। যদি মাঠে নামি তবে, খেলার জবাব দিতে কতক্ষণ লাগে ওইটা আমার জানা আছে। আর যখন খেলতে নামবো তখন কিন্তু এই খেলা থামানোর ক্ষমতা অন্য কারো নাই। কারণ, আমরা একজনকেই মানি শেখ হাসিনা। আর অন্য কাউকে মানি না। মানবোও না। মানতে শিখিও নাই।

২৭ জুলাই, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে