NarayanganjToday

শিরোনাম

ভিআইপি থেকে সাধারণের কাতারে শামীম ওসমান!


ভিআইপি থেকে সাধারণের কাতারে শামীম ওসমান!

সংসদ সদস্যদের জন্য লাল পাসপোর্ট নির্ধারণ করা থাকলেও এবার সেই লাল পাসপোর্ট স্বেচ্ছায় ফেরত দিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছেন আলোচিত সাংসদ শামীম ওসমান।

সূত্র বলছে, সাংসদ শামীম ওসমান নিজেই তার নামে ইস্যুকৃত লাল পাসপোর্ট বাতিলের অনুরোধ জানিয়ে পরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। এই আবেদন এরই মধ্যে নিষ্পিত্ত হয়ে। ফলে এখন থেকে তিনি সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণ করতে পারবেন। এতে আইনী কোনো জটিলতা নেই।

তবে, কেন তিনি সাধারণ পাসপোর্ট ধারণ করে সাধারণের কাতারে চলে আসছেন, তা নিয়ে এখন চলছে নানা গুঞ্জন, আলোচনা সমালোচনা। উঠেছে নানা প্রশ্নও।

এদিকে লাল পাসপোর্ট বাতিল করিয়ে সাধারণ পাসপোর্টে কেন ফির আসছেন শামীম ওসমান, এ নিয়ে তার পক্ষ থেকে কোনো ধরণের বক্তব্য পাওয়া না গেলেও কেউ কেউ বলছে, বর্তমানে ঘনঘন বিদেশে যাচ্ছেন শামীম ওসমান। লাল পাসপোর্ট থাকার কারণে এ ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়ে থাকতে পারে যার জন্য তিনি স্বেচ্ছায়ই এই পাসপোর্ট বাতিলের আবেদন জানিয়ে থাকতে পারেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে যোগাযোগ করা হয়েছিলো সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজামের মুঠোফোনে। এ প্রসঙ্গে জানতে যোগাযোগ করা হয়েছিলো সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজামের মুঠোফোনে। তিনি বলেন, এটা তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। তিনি ব্যক্তি স্বধীনতা ভোগ করতে পারেন। তবে, তিনি তার লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন কিনা সেটিও আমি নিশ্চিত না।

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান মনে করেন, লাল পাসপোর্ট ভিআইপিদের জন্যই ইস্যু করা হয়। কিন্তু তিনি ভিআইপি থেকে নিজেকে যখন স্বেচ্ছাসে সরিয়ে নিয়ে আসছেন তখন এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। সম্ভবত তিনি কোনো কিছু আড়াল করার জন্যই লাল পাসপোর্ট বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন।

লাল পাসপোর্টেও সুবিধা সম্পর্কে জানতে গেলে জানা গেছে, এই পাসপোর্টকে কুটনৈতিক পাসপোর্ট বলা হয়, তাই এই পাসপোর্ট যারা বহন করেন তারা জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী ভ্রমনের সময় ডিপ্লোমেটিক ইমিউনিটি আর অধিকার ভোগ করেন।

এই পাসপোর্ট সাধারণত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য আর মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টারা, প্রতিমন্ত্রী আর উপমন্ত্রীরা, বিরোধী দলের নেতা, পার্লামেন্ট এর সদস্যরা, সচিব পদমর্যাদার সরকারী কর্মকর্তারা, সরকারী কমিশন এর চেয়ারম্যানরা, ঢাকা বিশবিদ্যালয় এর উপাচার্য, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানরা, পুলিশের আই জি, বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক এর গভর্নর, ঢাকা চট্টগ্রাম আর রাজশাহীর মেয়ররা, আর বাংলাদেশের দুতাবাবাসে কর্মরত যে কোনো পদমর্যাদার কুটনৈতিক আর দুতাবাসে কর্মরত কুটনৈতিকদের পরিবারের সদস্যরা এবং দেশের জাতীয় অধ্যাপকরা লাল পাসপোর্ট পেয়ে থাকেন।

৬ ‍জুলাই, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে