NarayanganjToday

শিরোনাম

হাইকে বিতর্কিত করে অন্যদের ক্ষোভের অনলে ঘি ঢেলে দিলেন বাদল!


হাইকে বিতর্কিত করে অন্যদের ক্ষোভের অনলে ঘি ঢেলে দিলেন বাদল!

বিতর্ক ছিল না জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে। কিন্তু এবার তার বিরুদ্ধে ‘টাকার বিনিময়ে’ কমিটি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে! আর এ নিয়ে এখন সর্বত্রই চলছে বিতর্ক। কারো কারো মতে, বিশেষ একটা গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার্থে কারো সাথে কোনো আলোচনা না করেই সোনারগাঁয়ের ওই কমিটি দেওয়া হয়েছিলো।

তবে অনেকেই বলছেন, সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের কমিটি দেওয়ার নেপথ্যে মূল ভূমিকাই ছিলো আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদলের। যদিও এই কমিটি ঘোষণার কারণে দলটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাকে ভর্ৎসনা করেছেন। পাশাপাশি অনুমোদন দেওয়া আহ্বায়ক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে পূর্বের কমিটি বহাল থাকবে মর্মে ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

এদিকে সোনারগাঁ কমিটি নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে যখন ক্ষোভের আগুন দাবানলের মতো জ্বলছিলো তখন অনেকটা কৌশলেই বিতর্ক এড়াতে দেশ ছাড়েন আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল। তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এবং সেখান থেকেও তিনি কমিটি নিয়ে বিক্ষুব্ধ জেলা আওয়াম লীগের সিনিয়র নেতাদেরকে আরও বেশি বিক্ষুব্ধ করে তুলেছেন ‘বিপথগামী’ নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করে।

বাদল গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘কিছু বিপথগামী নেতা কেন্দ্রে নালিশ করেছেন। তারা আগে আমাদেরকে জানাতে পারতো। তা না জানিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে নালিশ করেছেন।’ তার এই বক্তব্যটি জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের ক্ষোভের অনলে বাদল যেন ঘি ঢেলেই দিয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকে। কারো কারো মতে, এমন বক্তব্যের জন্য বাদল রোষানলেও পড়তে পারেন।

এদিকে বাদলের এমন মন্তব্যে দারুণ চটেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। তাদের একজন দলটির সহসভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া। তিনি বাদলকেই বিপথগামী আখ্যা দিয়ে প্রশ্ন রেখেছেন, “যে মানুষ লাঙ্গলের পক্ষ নিয়ে নৌকা প্রতীক পুড়িয়ে দেয়, যে ব্যক্তি লাঙ্গল মার্কা আওয়ামী লীগে, সে বিপথগামী নাকি আমরা?”

আরজু ভূইয়া বলেন, “আমরা জন্মের পর থেকে আওয়ামী লীগই করে আসছি। একটি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান আমরা। দলের আদেশ নির্দেশ গঠনতন্ত্র মেনেই দল করছি। কিন্তু বাদল দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যেয়ে কাজ করছে। ইতোপূর্বেও সে করেছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিপক্ষে যেয়ে লাঙ্গলের পক্ষে কাজ করেছিলো ইতোপূর্বে। এ কারণে তাকে লাঙ্গল মার্কা আওয়ামী লীগ বলা হয়।”

দলটির আরেক সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির বাদলকেই ‘বিপথগামী’ উল্লেখ করে বলেন, “আসল বিপথগামীতো সে নিজেই। যে কিনা সবসময় জাতীয় পার্টির নেতাদের সাথে চলেছে, জাতীয় পার্টির নেতার মত। কখনো সে নীপিড়ত, নির্যাতিত হয়নি। লাঙ্গলের পক্ষেই থেকে বিপথগামী হয়েছে। তাছাড়া দলের সেক্রেটারি হিসেবে আমাদেরকে ‘বিপথগামী’ বলা তার মুখে শোভা পায় না।”

এছাড়া সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ কমিটি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “তারা একজন নেতা নির্দেশে চলেন। সেই নেতাকে খুশি করার জন্য এবং আর্থিক লাভের জন্য আমাদের কাউকে কিছু না জানিয়ে কমিটি ঘোষণা করেছিলেন। সে দলের নয়, ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষার্থেই এই কমিটি করেছিলেন।”

দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেছেন, “আমরা যদি বিপথগামী হই তাহলে সেটি দলের জন্য নয়; তাদের জন্য। তারা নিয়ম বহির্ভূত কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। নেতাকর্মীদের রোষানলে পড়তে হবে বলেই পালিয়ে গেছে। তারা টাকা খেয়ে কমিটি দিয়েছে। আমার প্রশ্ন হলো, টাকা যদি না-ই খাবে তারা পালালো কেন?”

প্রসঙ্গত, ১৫ জুলাই অ্যাড. শামসুল ইসলাম ভূঁইয়াকে আহবায়ক এবং পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুমকে যুগ্ম আহবায়ক এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীর, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু, সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বাবু ওমর, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার ফেন্সী ও সামসুদ্দিন খান আবুকে সদস্য করে ৮ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল।

সোনারগাঁ ও জেলা আওয়ামী লীগের ক্ষুব্ধ ৪০ জন নেতার স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র নিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে স্বাক্ষাৎ করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল।

এই দলের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য অ্যাড.আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া, আব্দুল কাদির, আদিনাথ বসু, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সদস্য শহিদুল্লাহ প্রমূখ।

এদিকে যারা কেন্দ্রে নালিশ জানাতে গেছেন তাদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সোনারগাঁয়ে বর্ধিত সভা হয়েছে। সভার সকলের দাবির প্রেক্ষিতে মতামত অনুযায়ী আহ্বায়ক কমিটির তালিাক কেন্দ্রে পাঠানো হয়। কিছু বিপথগামী নেতা কেন্দ্রে গিয়ে নালিশ করেছেন। কিন্তু তারা তো আমাদের সাথেও আলাপ করতে পারতো। তারপর সন্তুষ্ট না হলে কেন্দ্রে যেতো। আসলে আওয়ামী লীগ বড় দল এর মধ্যে বিতর্ক থাকতেই পারে। কিন্তু সকল সিদ্ধান্তের মূলে কেন্দ্রীয় নেতারা।’

৭ আগস্ট, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে