NarayanganjToday

শিরোনাম

‘ঈদ জামাত নিয়েও রাজনীতি’ কতটা সফল হবেন শামীম ওসমান?


‘ঈদ জামাত নিয়েও রাজনীতি’ কতটা সফল হবেন শামীম ওসমান?

সাংসদ শামীম ওসমান প্রত্যাশা করছেন এবারের ঈদ জামাতে দুই লাখেরও বেশি মানুষ হবে! তার এই প্রত্যাশা পূরণ নিয়ে রয়েছে নানা জনের নানা মত। অনেকেই বলছেন, অতীতে দেড় লাখ লোক সমাগমের কথা বলা হলেও সে পরিমাণ লোক হয়নি। এবারও হবে বলে মনে হয় না। কেননা, প্রতিটি পাড়া মহল্লাতেই ঈদের জামাত হবে। তাই এবার লাখ লোক হবে কিনা এ নিয়েও অনেকে সন্দিহান।

সূত্রগুলো বলছে, ঈদুল ফিতরে অনেকেই দূর দূরান্ত গিয়ে ঈদের জামাত পড়লেও কোরবানিতে দূরে কেউ তেমন একটা যান না। কেননা, নামাজ শেষ করেই কোরবানি দেওয়ার একটা তাড়া থাকে। ফলে, ঈদুল আযহা’র নামাজটা অধিকাংশ ব্যক্তিই বাড়ির আশপাশেই পড়ে থাকেন।

এদিকে, সাংসদ শামীম ওসমান রোববার (১১ আগস্ট) দুপুরে মাসদাইরের একেএম শামসুজ্জোহা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ঈদ জামাতের প্রস্তুতি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনিও বক্তব্য দিতে গিয়ে কিছুটা আক্ষেপ নিয়ে বলেছেন, “পাশেই একটা মসজিদের জামাত ছিল আটটায়। এখানে নামায হবে বলে সাড়ে সাতটায় করে দিলো। এটা নিয়েও যদি রাজনীতি করে তাহলে কীভাবে হবে? আল্লাহর কাছে কীভাবে মাফ চাইবো?”

এদিকে গত দুটি ঈদ জামাত একই স্থানে করা হয়েছিলো। সে দুটি জামাত দেশের সর্ববৃহৎ বলে তার অনুগামী অনেকেই দাবি করেন। কিন্তু দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত গত দুটি হয়েছে তা মানতে নারাজ অনেকেই। তাদের মতে, জেলার মধ্যে বৃহৎ ঈদ জামাত হয়েছে এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু শোলাকিয়াকে বাদ দিয়ে এটি সর্ববৃহৎ জামাত বলাটা বোধ হয় ঠিক নয়।

কেননা, যে দুটি ঈদ জামাত হয়েছিলো সেগুলোতে লক্ষাধিক সমাগম ঘটেনি বলেই অনেকে ধারণা করেছেন। তাদের মতে, এক সঙ্গে একটি স্থানে ৫০ হাজার লোক সমাগম হওয়া মানেই অসংখ্য লোক বলে মনে হবে। সুতরাং লক্ষাধিক লোক সমাগম মানে বিশাল কিছু। তবে, সে যা হোক, সুন্দর একটি আয়োজন সাংসদ শামীম ওসমান করে যাচ্ছেন এ জন্য অনেকেই তার প্রশংসা করেন। একই সাথে পাড়া মহল্লার মসজিদগুলোতে ঈদের জামাতের আয়োজন থাকায় প্রশ্ন উঠেছে, কতটা সফল হবে শামীম ওসমান?

জানা গেছে, সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের উদ্যোগে তৃতীয়বারের মতো জেলার সর্ববৃহৎ ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। শহরের মাসদাইর এলাকায় জেলা ক্রিড়া সংস্থার প্রস্তাবিত এ কে এম সামসুজ্জোহা স্টেডিয়াম, পাশর্^বর্তী পৌর ঈদগাহ ময়দান ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের এলাকা জুড়ে এই ঈদ জামায়াতের আয়োজন করা হয়েছে।

সোমবার (১২ আগস্ট) সকাল আটটায় ঈদুল আযহার নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। নগরীরর নূর মসজিদের ঈমাম আব্দুস সালাম এই জামাতের ঈমামতি করবেন।

এবারের ঈদের জামাতে গতবারের চেয়েও বেশি মুসুল্লির নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং প্রায় দুই লাখের বেশী মানুষ এক সাথে ঈদের জামাতে অংশ নিতে পারবেন বলে দাবি করেছেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।

শামীম ওসমান বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে তৃতীয়বারের মতো দেশের অন্যতম বৃহত্তম জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। এই ঈদ জামাত নিয়ে কোন রাজনীতি নেই। তবে সিটি করপোরেশনের বাজেটের আগে ঈদ জামায়াতের জন্য একটি বাজেট রাখার আবেদন জানানো হলেও তা না রাখায় শামীম ওসমান আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন এগিয়ে না আসায় দশজনের সহযোগিতা নিয়ে এই ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ইদুল ফিতরের জামাতে মহিলাদের জন্য নামাজের আলাদা ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানান সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।

১১ আগস্ট, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে